হাতভাঙা নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে লাশ স্কুলছাত্র

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:২১ এএম

সাভারে দালালের মাধ্যমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ভাঙা হাতের অপারেশন করাতে গিয়ে ‘ভুল চিকিৎসায়’ তাপস মন্ডল (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার রাত ১০টার দিকে ওই স্কুলছাত্রের হাত ভাঙার অপারেশনের জন্য অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়ার দুই ঘণ্টা পর মারা যায় সে। গতকাল রবিবার দুপুরে সাভার পৌর এলাকার তালবাগ মহল্লায় অবস্থিত সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিহতের স্বজনদের আহাজারি করতে দেখা যায়।

তাপস গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার কান্দাপারা গ্রামের শশী মন্ডলের ছেলে। সে স্থানীয় আশরাফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে লেখাপড়া করত।

নিহতের স্বজনরা জানায়, গত শুক্রবার বিকেলে ফুটবল খেলতে গিয়ে তাপসের হাতের হাড় ভেঙে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয় ফার্মেসি ব্যবসায়ী আবুলের পরামর্শে ৩৫ হাজার টাকা চুক্তিতে অপারেশনের জন্য সাভারের সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর শনিবার রাত ১০টার দিকে অপারেশনের জন্য অ্যানেস্থেশিয়া পুশ করলে তাপস অসুস্থ হয়ে পড়ার কিছুক্ষণ পরই মারা যায়।

নিহতের মামা উত্তম কুমার বলেন, ‘শনিবার রাত ১০টায় হাসপাতালের ডাক্তার আসার আগেই তাপসকে অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া হয়। পরে রাত ১২টায় ডাক্তার এসে বলেন অপারেশন করা যাবে না, সমস্যা আছে। ডাক্তার চলে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে তাপসকে আইসিইউতে নিতে হবে। পরে অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই সাভারের সুপার ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানেই তাপস মারা যায়। এখানে হাতের অপারেশন করতে গিয়ে মানুষ মারা যায় কীভাবে? আমাদের সঠিক পরামর্শ দেওয়া হলে আমরা প্রয়োজনে পঙ্গু হাসপাতালে নিতাম। তাহলে হয়তো আমার ভাগ্নেটা বেঁচে থাকত।’

নিহতের বাবা শশী মন্ডল বলেন, ‘আমার আদরের ছেলেটাকে ওরা ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলল। ছেলে মারা যাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে। কিন্তু হাতের হাড় ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় কি মানুষ মারা যায়? হাসপাতালের ভুল চিকিৎসার কারণেই ছেলেটা মারা গেছে। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।’

সাভার সেন্ট্রাল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. অহিদ বলেন, ‘আমি হাসপাতালে ছিলাম না। এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। তবে জানতে পেরেছি গতকাল (শনিবার) রাতে ওই কিশোরকে ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে একটি ইনজেকজন পুশ করেন সেন্ট্রাল হাসপাতালের অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগের চিকিৎসক ডা. কামরুজ্জামান জনি। এরপর ওই কিশোরের মৃত্যু হয়।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডা. কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সাভার সেন্ট্রাল হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. আবু তাহের বলেন, ‘চিকিৎসা করতে গেলে একটু ভুল হবেই।’ কিন্তু প্রতিনিয়ত এমন অভিযোগ কেন উঠছে জানতে চাওয়া হলে তা এড়িয়ে যান তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও ওই হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাই তারা হাসপাতালটির নাম দিয়েছেন মানুষ মারার হাসপাতাল। এত কিছুর পরও প্রশাসন ওই হাসপাতালটির বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। একের পর এক ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হওয়ায় অন্যান্য হাসপাতালেও অর্থ খরচ করে চিকিৎসা নিতে ভয় পাচ্ছেন রোগীরা।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ না পেলেও আমরা প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’

সাভার মডেল থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পেলে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত