বার্সার জার্সিতে মিউনিখে লেভানডফস্কি

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:০৭ পিএম

২০১৯-২০ চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ৮-২ গোলে হারের দুঃসহ স্মৃতি কখনো ভুলতে পারবে কি না বার্সেলোনা সন্দেহ। সেই হারের পর গেল মৌসুমেও গ্রুপপর্বে দেখা হয়েছিল দল দুটির। দুই লেগেই হারে বার্সা। তাদের এই হারগুলোর অন্যতম কারণ ছিল রবার্ট লেভানডফস্কির পারফরমেন্স। এবার সেই লেভা বার্সেলোনায়। ৮ বছর যে ক্লাবের হয়ে খেলে আজকের লেভানডফস্কি উঠেছেন, মিউনিখের সেই অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে খেলতে নামছেন পোলিশ স্ট্রাইকার। বার্সেলোনায় আসার পর এক সাক্ষাৎকারে পোলিশ স্ট্রাইকার বলেছিলেন বায়ার্নে কাটানো শেষ সময়গুলো ভুলে যেতে চান। তাই লেভার জন্য এ ম্যাচটি জবাব দেওয়ারও বটে। আজকের ম্যাচ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘নিঃসন্দেহে আমার সঙ্গে দলেরও বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। গোল করতে চাই।’

বার্সেলোনা জয়ের ধারায় থাকলেও উল্টো পথে হাঁটছে বায়ার্ন। লিগে শেষ তিন ম্যাচে তারা ড্র করেছে। জ্বলে উঠতে পারছেন না সাদিও মানে। ক্লাবের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্রীড়া পরিচালক হাসান সালহামিজিচ চিন্তিত। বার্লিনের বিপক্ষে ম্যাচের পর দলের খেলায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ‘(বর্তমান অবস্থা) এটা যথেষ্ট নয়। যেকোনো ভাবেই হোক, আমাদের উন্নতি করতে হবে। আমাদের দুই গিয়ার ওপরে উঠতে হবে, আর বার্সেলোনার বিপক্ষে তিনটি।’

লিগে টানা ড্রয়ের মধ্যে থাকলেও চ্যাম্পিয়নস লিগের শুরুটা বাভারিয়ানরা ভালোই করছে। ইন্তার মিলানকে তাদের মাঠেই হারিয়েছে ২-০ গোলে। বায়ার্ন সমর্থকরা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন বার্সার বিপক্ষে দলের রেকর্ড দেখে। শেষ তিন ম্যাচেই বায়ার্ন জিতেছে। গোল করেছে ১৪টি। বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি লড়াইতেও এগিয়ে জার্মান ক্লাবটি। মোট ১৩ দেখায় বার্সেলোনা জিতেছে মাত্র দুটি ম্যাচ। বায়ার্নের জয় ৯ ম্যাচে। দুটি ড্র হয়েছে। বায়ার্নের বিপক্ষে বার্সার সবশেষ জয়টি ২০১৫ এর মে তে। চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমির প্রথম লেগে ক্যাম্প ন্যুতে। ওই ম্যাচে বার্সেলোনা ৩-০ গোলে জিতেছিল। জোড়া গোল করেছিলেন মেসি। একটি নেইমার। তার আগের জয়টি ২০০৮-০৯ এ ন্যু ক্যাম্পেই। কোয়ার্টারের প্রথম লেগে। দুবার বার্সেলোনা শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। মুখোমুখি লড়াইয়ে গোল বেশি বায়ার্নের। তারা করেছেন ৩২ গোল, বার্সেলোনা করেছে ১৬টি। ‘সি’ গ্রুপের অপর ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইন্তার মিলান ও ভিক্টোরিয়া প্লাজেন।

রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর কারণে ইংল্যান্ডে এই সপ্তাহের লিগ ম্যাচ হয়নি। তাই চ্যাম্পিয়নস লিগে নাপোলির বিপক্ষে ১-৪ গোলের হারের পর আজই খেলতে নামবে ইয়ুর্গেন ক্লপের দল। প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডসের আয়াক্স। লিগেও মাত্র দুটি জয়, তিন ড্র, হার একটি। জয়ে ফিরতে মরিয়া অলরেডরা। মানে বায়ার্নে যাওয়ায় দলের মূল ভরসা মোহামেদ সালাহ। কিন্তু ফর্মে নেই এই মিসরীয় ফরোয়ার্ড। প্রশ্ন হলো বাড়তি বিশ্রামের পর সালাহ ফর্মে ফিরবেন? লিভারপুল চ্যাম্পিয়নস লিগে কখনোই টানা দুই ম্যাচ হারেনি। তবে আয়াক্সও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। শেষ তিন ম্যাচে তারা গোল করেছে ১৩টি। আয়াক্স শুরুটা করেছে রেঞ্জার্সের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ে। বাকি বড় দুই জয় ডাচ লিগে। ছয় ম্যাচের সবগুলো জিতে শীর্ষে আছে।

২০২০-২১ এ একই গ্রুপে পড়েছিল আয়াক্স ও লিভারপুল। সেবার দুই লেগেই ১-০ গোলে জিতেছিল লিভারপুল। চ্যাম্পিয়নস লিগের চার দেখায় লিভারপুলে জয় দুটি, আয়াক্সের একটি। অপরটি ড্র হয়। এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম রাউন্ড শেষে সবচেয়ে বেশি পাস অ্যাকুরেসি আয়াক্সেরই। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত