প্লাবিত নিম্নাঞ্চল বিপর্যস্ত জনজীবন

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:১২ এএম

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপ নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। আর এ নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাগর। নিম্নচাপের সঙ্গে পূর্ণিমার তিথির কারণে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে দুই-তিন ফুট বেড়ে উপকূলবর্তী নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় জেলাগুলোতে গতকাল সোমবার দিনভর থেমে থেমে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাতের সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। বৈরী এ আবহাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোর জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে।

এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গত রবিবার রাত থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত বৃষ্টি ঝরেছে। কোনো কোনো এলাকায় সারা দিনেও থেমে থেমে ঝিরঝির বৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, ভারতের দক্ষিণ মধ্যপ্রদেশ এলাকায় অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে গতকাল সকালে ভারতের দক্ষিণ মধ্যপ্রদেশ ও এর আশপাশ এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি স্থলভাগের ওপর দিয়ে আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থা থাকায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে অস্থায়ীভাবে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। পরবর্তী তিন দিনের আবহাওয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, এ সময়ের শেষের দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ওপায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

নিম্নচাপের কারণে টানা বর্ষণে থমকে গেছে খুলনা মহানগরীসহ সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকার জনজীবন। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পশুর, ভৈরব, কপোতাক্ষ, কাজিবাছা, শিবসা, আড়পাঙ্গাসিয়া, ঢাকীসহ সব নদ-নদীর পানি এক থেকে দেড় ফুট বেড়েছে। তবে জেলার কোথাও বেড়িবাঁধ ভাঙনের খবর পাওয়া যায়নি। গতকাল দিনভর খুলনার আকাশ মেঘে ঢেকে ছিল। সূর্যের দেখা প্রায় মেলেনি। বৃষ্টির কারণে সাধারণ মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হয়নি। রাস্তাঘাট ও দোকানপাটে মানুষের উপস্থিতি ছিল কম। দুদিনের টানা বৃষ্টির কারণে শ্রমজীবী মানুষ পড়েছে বিপাকে।

নিম্নচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীতে গত শনিবার থেকে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। নদ-নদীর পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে তিন-চার ফুট বেড়েছে। এর ফলে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে রাঙ্গাবালী, গলাচিপা ও কলাপাড়ার অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বেড়িবাঁধের বাইরে এবং চর ও নিম্নাঞ্চলগুলো জোয়ারে প্লাবিত হচ্ছে। এ ছাড়া পটুয়াখালী শহররক্ষা বাঁধ অকার্যকর হয়ে পড়ায় অনেক লোকালয়ে পানি ঢুকেছে। সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরতে যাওয়া অধিকাংশ ট্রলার ও নৌকা ইতিমধ্যে কূলে ফিরেছে। কুয়াকাটায় অবস্থানরত পর্যটকদের সাগরে সাঁতার কাটতে না নামার নির্দেশনা দিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

নিম্নচাপ ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে ভোলায় মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরের অংশ এবং চরাঞ্চলের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ। এ ছাড়াও ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরিঘাট প্লাবিত হয়েছে। ফলে তিন ঘণ্টা বন্ধ ছিল ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে ফেরি চলাচল।

জানা গেছে, ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর, কন্দকপুর, শ্যামপুর, মেদুয়া, গঙ্গাকীর্তি, বলরামসুরা ও কালীকীর্তিসহ ১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়াও মাঝেরচর, নেয়ামতপুর, কলাতলীরচর ও কুকরিমুকরিসহ বিভিন্ন চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও জেলা প্রতিনিধিরা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত