ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সংঘর্ষের শুরুতে বিএনপির পক্ষ থেকে মিছিলে হামলা করা হয়।
এ দিন বেলা আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মিরপুর-৬ নম্বর কাঁচাবাজার থেকে মিরপুর-১০ সড়কে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে মিরপুর-৬ সড়কে ঘণ্টাব্যাপী যান চলাচল বন্ধ থাকে। পুলিশ গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষের ঘটনার বিবরণ জানতে চাইলে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ ইসলাম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দু’পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গেলে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনারসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। তাদের একজনকে রাজারবাগ পুলিশ কেন্দ্রীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পুলিশের পক্ষ থেকে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও শর্টগানের গুলি ব্যবহার করা হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে ওসি পারভেজ ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকজন বলেছেন বিএনপির লোকজনই প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। তারপর সংঘর্ষ শুরু হয় দু পক্ষের মধ্যে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
তবে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে বলেছেন, পুলিশের অনুমতি নিয়ে মঞ্চ তৈরি করতে গেলে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সহযোগী হয়ে পুলিশ আমাদের ওপর গুলি ও টিয়ার শেল ছোড়ে। এতে আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়।
আওয়ামী লীগও অভিযোগ করে, বিএনপির মিছিল থেকে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়। এতে পুলিশের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিএনপি সমাবেশের জন্য অস্থায়ী মঞ্চ তৈরিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। পরে এ নিয়ে উভয়পক্ষে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দু পক্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি শুরু হয়।
পল্লবী থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) উদয় কুমার মণ্ডল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সভাটি বেলা আড়াইটার দিকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টার দিকে শেষ হয়। অন্যদিকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বিএনপির সমাবেশ আর হয়নি। তারা মিছিল করেছে।’
দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে বিকেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা মিরপুর-৬ নম্বর ইনডোর স্টেডিয়ামের সামনে জড়ো হয়ে মিছিল বের করেন। মিছিলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, সদস্য সচিব আমিনুল হক, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিমুদ্দিন আলম, তাবিথ আউয়ালসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
আওয়ামী লীগের সদ্যপ্রয়াত নেতা সাজেদা চৌধুরীর স্মরণে মিরপুর-১২ নম্বর সেকশনের ডি ব্লকের ঈদগাহ মাঠে শোক সভার আয়োজন করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের থানা কমিটির পূর্বনির্ধারিত একটি সমাবেশ ছিল। কিন্তু একই জায়গায় বিএনপিও সমাবেশের ঘোষণা দেয়। পরে বিএনপি জায়গা পরিবর্তন করলেও দূরত্ব কাছাকাছি ছিল। কাছাকাছি উভয় দলের কর্মসূচি থাকায় সব ধরনের ঝামেলা এড়ানোর নির্দেশনা ছিল। কিছু অতি উৎসাহী মানুষ এসব ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে।’
হামলার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আমিনুল হক বলেন, ‘আমাদের তিনটি স্থান পরিবর্তন করে দুপুর ১টার দিকে কাঁচাবাজারের সামনে প্রশাসন মঞ্চ তৈরির অনুমতি দেয়। আমরা মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু করলে চারদিক থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা করে। এ ঘটনায় আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশ এপিসি, জল কামান নিয়ে রণসাজে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। ’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে। ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো তারা বিএনপির নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ও গুলি নিক্ষেপ করেছে। পরে মহানগর নেতাদের নিয়ে আমরা মিরপুর জোনের ডিসির অফিসে গিয়ে তাকে সার্বিক পরিস্থিতি জানাই।’

আমান উল্লাহ আমান অভিযোগ করে বলেন, ‘দুপুরে মিছিল সহকারে নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দিতে আসলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। বিএনপি প্রতিরোধ গড়ে তোলে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যখন পিছু হটে, ঠিক সেই সময় পুলিশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পক্ষ নেয়।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীরা যেদিক থেকে আসছে, সেদিকেই টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে। এতে আমাদের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আমরা ডিসিকে আগেই বলেছি, আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করব।’
বিএনপি আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে-এমন অভিযোগের বিষয়ে আমানউল্লাহ বলেন, ‘বিএনপি এখানে কোনো হামলা করেনি। পরিকল্পিতভাবে পুলিশের সহযোগিতায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা বিএনপির ওপর হামলা চালিয়েছে।’

লোডশেডিং, জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য, গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি ও গুলিতে দলের তিন নেতাকর্মী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীর ১৬টি জায়গায় সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। ইতিমধ্যে দলটি চার জায়গায় সমাবেশ করতে পেরেছে।
