রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিবুল ইসলাম রানার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। চাকরি দেওয়ার নামে দলীয় নেতার কাছ থেকেই টাকা নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর দুর্গাপুর আমলি আদালতে মামলাটি করেন দুর্গাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান। ছাত্রদল থেকে এসে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার অভিযোগে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় রয়েছেন রানা।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামি সাকিবুল ইসলাম রানা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বাদী আতিকুর রহমানের কাছ থেকে গত ৩১ মার্চ ৯০ হাজার টাকা এবং ডাক বিভাগের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নগদের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নেন। চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে বাদীকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এ টাকা নেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও চাকরি দিতে না পারায় টাকা ফেরত চান আতিকুর। তখন পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে সব টাকা একসঙ্গে ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন রানা। কিন্তু দুই মাস পার হলেও টাকা ফেরত দেননি।
আতিকুর রহমানের পক্ষে মামলাটি করেন আইনজীবী ইমরান কলিম খান। তিনি জানান, টাকা গ্রহণের কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিচারক মো. লিটন হোসেন আগামী ১২ ডিসেম্বর আসামিকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছেন।
এদিকে সম্প্রতি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রানাকে নিয়ে দলের বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা হচ্ছে। তিনি ছাত্রদলের নেতা থেকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছেন এমন তথ্য নিয়ে চলছে নানান গুঞ্জন।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের ৩০ সদস্যের নতুন কমিটি অনুমোদন দেন। যেখানে সভাপতির দায়িত্ব পান সাকিবুল ইসলাম রানা। তবে তার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ ছিল ছাত্রদল করার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রানা ছাত্রলীগে যোগ দেওয়ার আগে রাজশাহী কলেজের মুসলিম ছাত্রবাস শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। সেই সময়ে ছাত্রদলের ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন শরিফুল ইসলাম নয়ন। রানা সেই কমিটির ছয় নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ওই কমিটির অনুমোদন দেন রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি মূর্ত্তজা ফামিন ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মুখসুদুর রহমান সৌরভ। ২০১৬ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি ওই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মূর্ত্তজা ফামিন বলেন, ‘রানা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে। কিন্তু সে যখন রাজশাহী কলেজে পড়ত এবং রাজশাহী কলেজের হোস্টেলে থাকত তখন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। সে হোস্টেল কমিটিতেও ছিল। সে সক্রিয়ভাবে আমাদের সঙ্গে মিটিং-মিছিল করত।’
নাম না প্রকাশ না করে রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের এক সদস্য বলেন, ‘সাকিবুল ইসলাম রানা ছাত্রলীগের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই একের পর এক অঘটন ঘটেই চলছে। জেলা ছাত্রলীগের মধ্যে ছাত্রদলের অনুপ্রবেশ কষ্টদায়ক। আমরা অনেক কষ্ট করে রাজপথে লড়াই করে আসছি। এখন দলের মধ্যে যদি সাবেক ছাত্রদলকর্মী ঢুকে যায় তবে এটি আগামীতে আমাদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। বিএনপি-জামায়াত আমাদের সব তথ্য গোপনে তার মাধ্যমেই নিয়ে নেবে। এটি আমাদের রাজনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ জন্য ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উচিত এখনই বিষয়টি ভেবে দেখা এবং তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া।’
তবে ছাত্রদলের রাজনীতি করার অভিযোগ অস্বীকার করে রানা বলেন, ‘আমি কোনো দিন ছাত্রদল করিনি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত কে বা কারা আমার নামে এসব প্রচার করতে পারে। আমি ২০১৪ সাল থেকে ছাত্রলীগের সদস্য।’
