জিএম কাদের বললেন

আ.লীগের সঙ্গে আগামীতে নাও থাকতে পারি

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:০৮ এএম

জাতীয় পার্টি এখন কোনো জোটে নেই উল্লেখ করে দলটির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের বলেছেন, ‘গেল নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কিছু আসনে নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছিল। তখন আসনভিত্তিক আমাদের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেছেন, আবার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টির পক্ষে কাজ করেছেন।’

গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে হিন্দু মহাজোটের প্রতিনিধি সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

জিএম কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। আমরা দেশ ও মানুষের পক্ষে কথা বলতে চাই। আমরা সবসময় সত্য কথা বলতে চাই। ভালো কাজ করলে আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকতে পারি। কিন্তু আওয়ামী লীগ যদি গণমানুষের আস্থা হারিয়ে ফেলে তাহলে আগামীতে আমরা তাদের সঙ্গে নাও থাকতে পারি।’

ইভিএমে (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগের সমালোচনা করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ নির্বাচনে ইভিএম চায় না। আমরা শুরু থেকেই ইভিএমের বিপক্ষে। কারণ ইভিএম হচ্ছে শান্তিপূর্ণ কারচুপির মেশিন। ইভিএমে নির্বাচন হলে যাকে খুশি বিজয়ী করতে পারবে। আমরা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিইনি, নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা অত্যন্ত কঠিন। আমরা বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেব। আমরা দেশ ও সাধারণ মানুষের স্বার্থের কথা বিবেচনায় রেখে, দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশ ও মানুষের সেবার দায়িত্ব নিতেই আমরা রাজনীতি করছি। আগে যুদ্ধ-বিগ্রহের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা হতো। যুদ্ধে কেউ শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তাকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হতো, কখনো কখনো মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হতো। এখন শান্তিপূর্ণ রাজনীতি ও নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করতে হয়। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনেও শৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি কেউ দলীয় শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে চায় সে যত বড় নেতাই হোক, যত প্রভাবশালী হোক অথবা যত অর্থবিত্তের মালিকই হোক, কাউকে ছেড়ে দেব না। সব ষড়যন্ত্র উড়িয়ে দিয়ে আমরা দেশ ও মানুষের স্বার্থরক্ষায় কাজ করব।’

দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জিএম কাদের বলেন, ‘সংখ্যালঘুদের মধ্যে যারা রাজনীতি করে অথবা বিত্তশালী তারা কোনোমতে ভালো আছে। কিন্তু গ্রামাঞ্চলের সংখ্যালঘুরা জানমাল ও সম্মান নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছে। ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালীদের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে হতদরিদ্র সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। জাতীয় পার্টির দরজা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য সবসময় খোলা আছে। জাতীয় পার্টি সবসময়ই তাদের স্বার্থরক্ষায় সংসদে ও রাজপথে থাকবে।’

অ্যাডভোকেট দীনবন্ধু রায়ের সভাপতিত্বে ও প্রিয়াংকা মুকুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর সিকদার লোটন, প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়; জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সভাপতি বিধান বিহারী গোস্বামী, মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, সাংগঠনিক সম্পাদক সুশান্ত কুমার চক্রবর্তী; জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন দে প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত