মানিকগঞ্জে ইছামতির ভাঙনে ঐতিহ্যবাহী গরুর হাট বিলীন

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:৩১ পিএম

মানিকগঞ্জের ঘিওর-জিয়নপুর সড়কের ইছামতী নদীর কুস্তার বেইলি ব্রিজের একাংশ নদীতে ভেঙে যাওয়ায় বিপাকে ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের লাখো মানুষ।

ইতিমধ্যে নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে কয়েকশ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ঘিওর গরুর হাট।

গত এক মাসের ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে শতাধিক বসতবাড়ি। হুমকির মুখে ঘিওরের ইছামতী ও ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, শ্মশানঘাট, মন্দির, মসজিদ, বসতবাড়ি ফসলি জমি।

মানিকগঞ্জের ঘিওর-জিয়নপুর সড়কের কুস্তা বেইলি ব্রিজ। ইছামতী নদীর ভাঙনে একাংশ নদীতে চলে যাওয়ায় শুক্রবার থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ। এতে বিপাকে পড়েছেন ঘিওর-দৌলতপুর উপজেলার কুস্তা, জিয়নপুর, নারচী, শোলাকুড়া, বিনতপুরসহ ৬টি ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের প্রায় লাখো মানুষ।

এই অঞ্চলের প্রধান রাস্তা বন্ধ থাকায় বাজারসহ নানা দুভোগে পড়েছেন তারা। কর্তৃপক্ষ রবিবার দুপুর থেকে পথচারীদের জন্য খুলে দিয়েছেন।

ভয়াবহ ভাঙনের কবলে ইছামতির তীর। কয়েকশ' বছরের পুরোনো ঘিওর গরু হাটটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মধ্যে ইছামতী ও ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, শ্মশানঘাট, মন্দির, মসজিদ, বসতবাড়ি ফসলি জমি শতাধিক বসতভিটা, রাস্তা ও ব্রিজসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও ফল হয়নি তেমন। এ অবস্থায় চরম বিপাকে নদী পাড়ের হাজারো মানুষ। ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত সুইসগেট নির্মাণ করে পানির গতিপথ রোধ করার দাবি তাদের।

এবার ভাঙনের নতুন যোগ হয়েছে এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঘিওর-গোলাপনগর রাস্তা, কুস্তা বেইলি ব্রিজ, ২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্রিজ, কালভার্টসহ নদী তীরবর্তী ১৬টি গ্রাম। ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, অনেকের বাড়ির অর্ধেক অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আসবাবপত্র, অন্যান্য সামগ্রী অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ভাঙনে কুস্তা কফিল উদ্দিন দরজি উচ্চ বিদ্যালয় ও কুস্তা ব্রিজ, ঘিওর-গোলাপ নগরের রাস্তা, বেপারীপাড়া কবরস্থান, রসুলপুর গ্রামের বসতবাড়ি, কবরস্থান, বেপারীপাড়া কবরস্থানটি হুমকির মধ্যে রয়েছে। যেকোনো সময় নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে এসব স্থাপনা ও বসতবাড়ি।

imageএ ছাড়া ইছামতি নদীর অদূরে প্রবাহিত পুরাতন ধলেশ্বরী নদীর ভাঙনে শ্রীধরনগর, মাইলাগী, ঘিওর পূর্বপাড়া, ঘিওর নদীর উত্তর পাড়ের বাজার, উপজেলা খাদ্য গুদাম, ব্রিজসহ ১২-১৩টি প্রতিষ্ঠান হুমকির মধ্যে রয়েছে। কুস্তা গ্রামের মজিদ মিয়ার বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

কুস্তা গ্রামের সুফিয়া বেগম বলেন, গেল কয়েক দিনে আমার চোখের সামনে ঘিওর হাটটি ভেঙে গেল। কুস্তা গ্রামেই ৩০-৩৫ টি বাড়ি ভেঙে গেছে। ভাঙার পর থেকে জিও ব্যাগ ফেলানো হচ্ছে। এই ব্যাগ দিয়ে বাকি বাড়ি রক্ষা করা সম্ভব না।

ঘিওর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম বলেন, ঘিওর কুস্তা গ্রামে গেল কয়েক দিনের ইছামতি নদীর অব্যাহত ভাঙনে ঘিওর ঐতিহ্যবাহী হাট সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। আমি চলতি বছরের জুন মাসে লিখিতভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে লিখিতভাবে জানিয়ে ছিলাম। নদী ভাঙন প্রতিরোধে আগাম ব্যবস্থা নিতে। ভাঙনের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলাচ্ছে। আমি এ ঘিওর হাটের শত শত দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, কবরস্থান ও পাকা সড়ক স্থায়ী ভাবে রক্ষা করতে গেলে যমুনা নদীর মুখে একটি সুইস গেট নির্মাণের জন্য।

ঘিওর উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজ্জাকুর রহমান বলেন, তীব্র স্রোতে আংশিক ভেঙে যাওয়া বেইলি ব্রিজটি ঘিওর এলজিডি সংস্কার কাজ করছে। ৩ দিন বন্ধ থাকার পর রবিবার থেকে পথচারীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে যানবাহনের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, ইছামতি নদীটি খালের মতো সরু। এর উৎস মুখে খনন করায় পানি প্রবাহ বেড়েছে। এতে হঠাৎ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে সাড়ে আট হাজার জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ শুরু হয়েছে। আর বেইলি ব্রিজ রক্ষায় গাইড ওয়ালসহ জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পানির প্রবাহ কমে গেলে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত