পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদবঞ্চিত ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নসহ তিন দফা দাবিতে ক্যাম্পাসজুড়ে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের একাংশ।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে অবরোধ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।
অবরোধের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তর থেকে শহরের উদ্দেশে কোনো শিক্ষক বাস ছেড়ে যায়নি। এ ছাড়া শাটল ট্রেন ষোলোশহর রেলওয়ে স্টেশনে আটকে রাখা হয়েছে। সকাল থেকে মূল ফটক এবং বাস-শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
চট্টগ্রামের ষোলোশহর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার অভি সেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে আন্দোলনের জন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত চবির যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আরবি বিভাগের পরীক্ষা স্থগিতের খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক চৌধুরী আমির মোহাম্মদ মুছা জানিয়েছেন, শাটল ট্রেন চলছে না। শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসও চলছে না। তাই অনেকেই ক্যাম্পাসে আসতে পারেননি। এ কারণে বিভাগগুলোর আজকের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
তবে ক্যাম্পাসজুড়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি রাকিবুল হাসান দিনার বলেন, অনেক দিন ধরেই আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবিগুলো জানিয়ে আসছি। তবে কোনো লাভ হয়নি। তাই পদবঞ্চিতদের আন্দোলনে সমর্থন জানাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্টের দায়ভার শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতাকেই নিতে হবে।
তাদের তিন দফা দাবিগুলো হল- ১. পদবঞ্চিত ত্যাগী ও পরিশ্রমী কর্মীদের মূল্যায়ন করে কমিটিতে অন্তর্ভুক্তকরণ, ২. কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতাদের যোগ্যতা অনুসারে পদগুলোর পুনর্মূল্যায়ন, ৩. কমিটিতে পদপ্রাপ্ত বিবাহিত, চাকরিজীবী ও দীর্ঘদিন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ।
অবরোধে অংশ নেওয়া শাখা ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক উপগ্রুপ হল- ভার্সিটি এক্সপ্রেস, বাংলার মুখ, রেড সিগনাল, কনকর্ড, বিজয়, এপিটাফ ও উল্কা।
দাবি পূরণ না হলে পরবর্তীতে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
জানা যায়, চবি ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকে কমিটিকে অবৈধ, পকেট কমিটি উল্লেখ করাসহ কমিটিতে বিবাহিত, নিষ্ক্রিয়, অনুপ্রবেশকারী, সিনিয়র-জুনিয়র পদক্রম না মানা, ছাত্রত্বহীনদের পদ দেওয়াসহ নানা অভিযোগ এনে আন্দোলন করে আসছে শাখা ছাত্রলীগের কয়েকটি উপগ্রুপ।
প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই প্রায় ৬ বছর পর চবি ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর গত ১০ আগস্ট সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপুর প্রতি অনাস্থা জানান ৯৪ জন পদধারী নেতা। পাশাপাশি আগস্টের পর থেকে আন্দোলনের ঘোষণা দেন তারা।
