টমেটো ফ্লু সংক্রামক তবে ভয়ংকর নয়

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:২১ এএম

টমেটো ফ্লু নিয়ে সারা পৃথিবীতে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের আক্রমণের সঙ্গে আমরা কম-বেশি পরিচিত। টমেটো ফ্লু আমাদের কাছে নতুন। ভারতের কেরালা রাজ্যে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে টমেটো ফ্লুতে। এটি কি নতুন কোনো ভাইরাসঘটিত রোগ নাকি আগে থেকে বিদ্যমান কোনো রোগের নতুন ধরনের উপসর্গ এ নিয়ে বিতর্ক চলছে। কেউ কেউ বলছেন এটি বিরল প্রজাতির নতুন কোনো ভাইরাসের আক্রমণ।

সারা পৃথিবীতে এখনো করোনার আক্রমণ শেষ হয়ে যায়নি। করোনা মহামারীকালীন নতুন কোনো ভাইরাসের আগমন অথবা সংক্রমণের খবর স্বাভাবিক কারণে মানুষের মনে শঙ্কা তৈরি করে। প্রথমেই বলে রাখা ভালো যে এটি নতুন কোনো রোগ নয়, নতুন কোনো ভাইরাসও নয়। এটি অতটা মারাত্মক নয়। রোগটি ছোঁয়াচে তবে ভয়ানক নয়। এ রোগে এখন পর্যন্ত কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এমনিতেই এই রোগ সেরে যায়। সুতরাং এই রোগ নিয়ে এতটা আতঙ্কিত হওয়ার কিংবা ভড়কে যাওয়ার কিছু নেই।

কেন এর নাম টমেটো ফ্লু?

এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে পাঁচ বছরের বয়সী ছোট শিশুরা। এই রোগে পানিপূর্ণ, ব্যথাযুক্ত ব্লিস্টার তৈরি হয় শরীর জুড়ে। মাঙ্কিপক্সের সঙ্গেও কিছুটা মিল দেখা যায় শুরুতে। এগুলো বড় হতে থাকে। আকৃতি হয় প্রায় টমেটোর মতো। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাতে এবং পায়ে কখনো মুখে এমন ধরনের ব্লিস্টার তৈরি হয়। এগুলো হয় টমেটোর মতো লাল বর্ণের। তাই এর নাম হয়েছে টমেটো ফ্লু।

উপসর্গ

অন্যান্য ভাইরাসের ব্যাধির মতোই এ রোগের লক্ষণ। জ্বর, ক্লান্তি, গা-হাত-পায়ে ব্যথা, গলা ব্যথা, অরুচি, বমি, পাতলা পায়খানা এগুলো হলো প্রাথমিক উপসর্গ। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা কেউ কেউ বলছেন এটি ডেঙ্গু অথবা চিকুনগুনিয়া ভাইরাস আক্রমণের পরবর্তী দশা হতে পারে। হ্যান্ড-ফুট মাউথ রোগ নামে একটি রোগ পৃথিবীতে আগে থেকেই ছিল। ভাইরাসঘটিত এই রোগে হাত-পা এবং মুখে ব্লিস্টার তৈরি হয়। টমেটো ফ্লু বলে যাকে বলা হচ্ছে এটি হতে পারে এই রোগেরই নতুন সংস্করণ। এটি সাধারণত বাচ্চাদের হয়ে থাকে, তবে যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা নড়বড়ে সে সমস্ত বয়স্ক মানুষদেরও এ রোগ হতে পারে।

কীভাবে ছড়ায়?

এক শিশু থেকে আরেক শিশুতে সংক্রমিত হচ্ছে রোগটি। এটি ছড়াতে পারে আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে অন্য শিশুদের সংস্পর্শে আসার কারণে। তাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্রের মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে। এমনকি একই বিছানায় শয্যা গ্রহণ করলে এটি ছড়াতে পারে।

চিকিৎসা

এর জন্য কোনো নির্ধারিত ওষুধ নেই। তবে আক্রান্ত শিশুকে অবশ্যই উপসর্গের চিকিৎসা দিতে হবে। জ্বর হলে তাকে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়াতে হবে। অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ দিতে হবে যদি চুলকানি থাকে। ক্ষেত্র বিশেষে ক্যালামিনা জাতীয় লোশন লাগানো যেতে পারে ব্লিস্টারে। সঙ্গে কোনো ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে প্রয়োজন বোধে অ্যান্টিবায়োটিকসের ব্যবস্থা করতে হবে। আক্রান্ত শিশুকে অবশ্যই পর্যাপ্ত পুষ্টিদায়ক খাবার, ফলমূল এবং পানীয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রতিরোধ

টমেটো ফ্লুতে আক্রান্ত হলে শিশুদের সর্বপ্রথম আলাদা করে ফেলতে হবে। যাতে এটি অন্যদের ছড়াতে না পারে। এ রোগ প্রতিরোধের জন্য পরিবেশ এবং আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আক্রান্ত শিশুদের খেলনা, কাপড়-চোপড়, থালা-বাটি-গ্লাস, খাবার এবং ব্যবহার্য সামগ্রী অন্য শিশুদের থেকে আলাদা করে ফেলতে হবে। এমন কোনো রোগে কেউ আক্রান্ত হলে অবশ্যই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অবহিত করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত