গৃহহীনতা দূর করতে বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:২৯ পিএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন নিরাপদ ও উপযুক্ত বাসস্থান সবার মৌলিক অধিকার। তাই, গৃহহীনতার অভিশাপ দূর করতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে জোরদার অংশীদারিত্বের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে ‘টেকসই ও সাশ্রয়ী আবাসন’ বিষয়ক একটি পার্শ্ব অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গৃহহীনতার সমস্যাটি তিনি হৃদয় দিয়ে উপলব্দধি করেন।

তিনি বলেন, গৃহহীনতা সত্যিই একটি অভিশাপ। যা উন্নত ও উন্নয়নশীল উভয় দেশের মানুষকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, এই অভিশাপ দূর করার বিষয়টি সবার সামর্থ্যের মধ্যেই রয়েছে। সমবেত সব বন্ধু ও অংশীদাররা গৃহহীনতা দূর করতে দৃঢ় অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে পারেন।

শেখ হাসিনা বলেন, নিউ আরবান এজেন্ডা এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দরকারি নীলনকশা। বাংলাদেশ এই বিষয়গুলোকে সামনে আনতে নিউইয়র্কে বন্ধুমহলের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

তিনি বলেন, সাড়ে ১৬ কোটির জনবহুল দেশ হয়েও বাংলাদেশ গৃহহীনতার বিষয়টি সফলভাবে সমাধান করতে পেরেছে। আমরা গৃহহীন-ভূমিহীন লোকজনকে বিনামূল্যে জমিসহ ঘর দিয়েছি। এখানে এসেছি সুবিধাবঞ্চিত সেই মানুষগুলোর টেকসই ঘরনির্মাণে সাফল্যের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উন্নয়নের অগ্রাধিকার হিসেবে ভূমিহীন, গৃহহীন ও শিকড়হীন মানুষকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার স্বপ্নের কথা বিবেচনা করে ১৯৯৭ সালে তার সরকার ‘আশ্রয়ণ’ নামে একটি প্রকল্প চালু করে-যার অর্থ ভূমিহীন ও আশ্রয়হীনদের জন্যে আবাসন, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, দুই দশকে তার সরকার সবার জন্যে বিনামূল্যে আবাসন নিশ্চিত করতে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। বাংলাদেশের এই কাভারেজ এলাকা কেবল নগরে নয়, দেশের প্রতিটি গ্রাম, শহর, জেলা, দ্বীপ ও পার্বত্য অঞ্চলেও রয়েছে। কেবল গত দুই বছরেই দুই লাখ ঘর নির্মাণ করা হয়েছে যেখানে ১০ লাখ লোকের আশ্রয় জুটেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৮ বছরে তার প্রধানমন্ত্রীত্বকালে ৫ লাখেরও বেশি ঘরে ৩৫ লাখ গৃহহীন লোকের থাকার ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়া বর্তমানে আরো ৪০ হাজার ঘর নির্মাণের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, তার সরকার জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকেও সহায়তা দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে কক্সবাজারে ১৩৯টি বহুতল ভবনে পাঁচ হাজার জলবায়ু শরণার্থী পরিবারকে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।

আগে কর্মসংস্থান ও থাকার জন্যে শহরগুলোতে গৃহহীন লোকের ছুটে আসার দৃশ্য অতি পরিচিত ছিল। কিন্তু আশ্রয়ণ প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে এই প্রবণতা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ, এই সকল লোক নিজস্ব এলাকাতেই এখন স্ব-কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে, যোগ করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়নের মডেল অনুসরণ করা হয়েছে। এই মডেল একজন পুনর্বাসিত ব্যক্তিকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের সাথে আত্মনির্ভরশীল এবং স্ব-মর্যাদাপূর্ণ করার জন্যে একটি সামগ্রিক পদ্ধতি নিশ্চিত করে। প্রকল্পটি স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের জন্যে জমি ও বাড়ির সমান মালিকানা নিশ্চিত করে।বাসস্থান দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সবচেয়ে মৌলিক চাহিদা এবং এটি অন্যান্য প্রয়োজনীয়তা পূরণের সুযোগ সৃষ্টি করে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমরা দেখেছি যে একটি বাড়ি শুধু থাকার জায়গা নয় বরং আবাসন নিরাপত্তা একজন ব্যক্তির অর্থনৈতিক মুক্তিকে ত্বরান্বিত এবং মর্যাাদার সাথে বসবাসে অনুপ্রাণিত করে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা জমি ও ঘরের পাশাপাশি শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠানোরও সফল ব্যবস্থা করেছি।

তিনি বলেন, এছাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্যে আমরা নিকটবর্তী কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে যুক্ত করেছি। নারী ও শিশুরা ৩০ ধরনের ঔষধ বিনামূল্যে পাচ্ছে। বসতবাড়িতে বাগান করা, হাঁস-মুরগি পালন, মাছ উৎপাদনসহ ক্ষুদ্র এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রম নারীদের নেতৃত্বে চলছে। এসব কর্মকান্ড এই উদ্যোগকে টেকসই ও পরিবেশ বান্ধব করেছে।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন মালওয়াইয়ের প্রেসিডেন্ট ড. লাজারাস ম্যাককার্থি চাকভেরা, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রী সঞ্জয় ভার্মা, জাতিসংঘে স্লোভাক প্রজাতন্ত্রের স্থায়ী প্রতিনিধি মিশেল ম্লিনার এবং আইএলও’র মহাপরিচালক গাই রাইডার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত