মামলা জটিলতার কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার ২০ মাসেও হচ্ছে না সোনারগাঁ পৌরসভার নির্বাচন। বর্তমানে সোনারগাঁ পৌরসভায় নির্বাচিত কোনো জনপ্রতিনিধি না থাকায় সব ধরনের উন্নয়ন কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পৌরবাসী।
স্থানীয় বিচার সালিশ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সত্যায়ন, ওয়ারিশ সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের কাজে পৌরসভার বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার নানা সমস্যা থাকলেও সেগুলো নিরসনে কোনো উদ্যোগ নেই। পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলররা দায়িত্বে না থাকায় এসব উন্নয়ন কাজ এখন বন্ধ হয়ে আছে।
গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি সোনারগাঁ পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের ৫ বছরের মেয়াদ শেষ হয়। মেয়াদ শেষের ১৫ মাস পর গত ১৬ মে পৌরসভা পরিষদ বিলুপ্ত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ এলাহীকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে পৌরবাসীর প্রয়োজনীয় কাজকর্মের জন্য এখন দৌড়াতে হচ্ছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে।
জানা গেছে, সোনারগাঁ পৌরসভার ছোটশীলমান্দি ও মল্লিকপাড়া মৌজার কিছু জমি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় পার্শ্ববর্তী মোগরাপাড়া ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত করে। পরে তৎকালীন পৌর মেয়র সাদেকুর রহমান বাদী হয়ে এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। এ রিট পিটিশন নিষ্পত্তি না হওয়ায় সোনারগাঁ পৌরসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্বাচন ঝুলে আছে।
গত দুই বছর ধরে পৌরসভার নির্বাচনকে ঘিরে হাফ ডজন মেয়র প্রার্থী ও প্রায় অর্ধশত কাউন্সিলর প্রার্থী মাঠে সরব থাকলেও নির্বাচন অনিশ্চিত হওয়ায় সবার মধ্যে এখন হতাশা বিরাজ করছে। অনেকেই প্রচার প্রচারণা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। পাশাপাশি পৌরসভার ভোটাররাও অনেকটাই হতাশ।
পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইমরান বলেন, ‘সোনারগাঁ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পৌরসভা। এর ভেতরে ঐতিহাসিক পানাম নগরী ও সোনারগাঁ জাদুঘরসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র থাকায় প্রতিদিন এখানে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটে। ফলে এখানকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিকল্প নেই। আমরা আশা করি সরকার দ্রুত পৌরসভার নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন।’
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউসুফ-উর-রহমান বলেন, ‘পৌরসভার সীমানা নিয়ে আদালতে চলমান মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনাই নেই।’
সোনারগাঁ পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ এলাহী বলেন, ‘প্রশাসক হিসেবে আমি পৌরবাসীকে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে গুরুত্বপূর্ণ এ পৌরসভায় অবিলম্বে নির্বাচন প্রয়োজন। পৌরসভার সাবেক মেয়র এ মামলার বাদী, সুতরাং তিনি এ মামলা নিষ্পত্তির ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে পারেন।’
