পদ্মা-মধুমতীর ভাঙনের কবলে দুই উপজেলা

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:৩৫ এএম

ফরিদপুরের দুটি নদী পদ্মা ও মধুমতী নদীতে দেখা দিয়েছে ভাঙন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, বসতভিটা, রাস্তাঘাট। জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে মধুমতীর ভাঙন শুরু হয়েছে গত ১৫ দিন ধরে। অন্যদিকে সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রাম এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

গত এক সপ্তাহে সেখানে বিলীন হয়ে গেছে অসংখ্য বসতভিটা, ফসলি জমি। দুই এলাকায়ই ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে বেশ কিছু স্থাপনা। স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে সব হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা।

আলফাডাঙ্গায় মধুমতীর অব্যাহত এ ভাঙনের কারণে এখন হুমকির মুখে জেলার সব থেকে বড় আশ্রয়ণ প্রকল্প। প্রকল্পের বাসিন্দারা বলছেন, মধুমতী তাদের ঘুম নষ্ট করছে। সরকারের দেওয়া আশ্রয়টুকু হারানোর শঙ্কায় রাত জেগে থাকতে হয় তাদের।

উপজেলার চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদ হাসান বলেন, মধুমতীর ভাঙন এ উপজেলায় দীর্ঘদিনের। বিষয়টি নিয়ে বহুবার উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে, আশ্বাসও পেয়েছি, কিন্তু স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইনামুল হাসান ভাঙনের স্থায়ী রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের অধীনে ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রাম এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে বসতভিটা, ফসলি জমি, জনপদ। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে বেশ কিছু স্থাপনা।

ওই এলাকার বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক দিনে ৪০টি পরিবার হারিয়েছে বসতভিটা। বিলীন হয়ে গেছে কয়েক একর ফসলি জমি।

স্থানীয় কৃষক আবজাল হোসেন জানান, নদীতে তার বসতভিটা বিলীন হয়ে গেছে। ওই ভিটায় চারটি ঘর ছিল। সাবিনা পারভিন নামে এক গৃহিণী বলেন, আমার তিনটি বসতঘরের ভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুজ্জামান বলেন, ভাঙনের বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিপুল চন্দ্র দাস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন ঢালী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ভাঙনের শিকার পরিবারের একটি তালিকা করে সদর উপজেলায় জমা দেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুরে জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, ‘এ জেলায় প্রতি বছরই নদীভাঙন দেখা দেয়, এ বছর জেলার কয়েকটি উপজেলাতে ভাঙন শুরু হয়েছে, আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছি। তারা ভাঙন রোধে প্রাথমিক কাজ করছে। এ ছাড়াও নদীভাঙন রোধে যে প্রকল্প উচ্চপর্যায়ে রয়েছে সেটি অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।’

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম সাহা বলেন, ‘এ ভাঙন চলছে ফরিদপুর শহররক্ষা বাঁধের বাইরের অংশে। ভাঙনের বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। স্কুল-মাদ্রাসা ও কমিউনিটি ক্লিনিক যাতে না ভাঙে সে ব্যাপারে আমরা তৎপর। প্রয়োজন হলে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত