সাফ গেমসে চ্যাম্পিয়ন নারী ফুটবল দলের ডিফেন্ডার আঁখি খাতুনের নামে আদালতে দায়ের করা মামলা সোমবার দুপুরে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বাদী মো. মকরম প্রাং। এদিনই মামলাটির শুনানি শেষে সিরাজগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক লুৎফুন নাহার মামলাটির শুনানি শেষে নিষ্পত্তি করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম ও শাহজাদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিয়াকত সালমান। তারা জানান, বাদী মো. মকরম প্রাং স্বইচ্ছায় তার মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সম্প্রতি সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মদ শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের দ্বাবারিয়া মৌজার ১নং খাস খতিয়া ভূক্ত ৮ শতক জমি আঁখির নামে দলিল মূলে স্বত্ব প্রদান করেন। ওই জমির দখলে গেলে খুন জখম হওয়ার আশংকা প্রকাশ করে গত ১৯ সেপ্টেম্বর মো. মকরম প্রাং সিরাজগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি আবেদন করেন।
এর প্রেক্ষিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের পাড়কোলা গ্রামের আঁখির বাড়িতে উপস্থিত হয়ে এএসআই মামুনুর রশিদ ও কনস্টেবল আবু মুসা সিভিল পোষাকে এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ নিয়ে উপস্থিত হয়ে আঁখির বাবা আক্তার হোসেনের সাথে দূর্ব্যবহার করেন।
এ ঘটনায় পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই দুই পুলিশকে সিরাজগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়।
প্রসঙ্গত, ফুটবলে অবদান এবং দরিদ্র পরিবারের কথা বিবেচনা করে তিন বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শনায় আঁখিকে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই জমির মালিকানা দাবি করে শাহজাদপুরের একজন ব্যবসায়ী মামলা দায়ের করেন। জমি নিয়ে সমস্যার কথা আঁখি বাফুফে সভাপতিকে জানালে তারা সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন ওই জমির বরাদ্দ বাতিল করে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৮ শতাংশ জমি আঁখির নামে বরাদ্দ দেয়। গত ৪ জুন এই জমির দলিল আখির পরিবারে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে আঁখির বাবা আক্তার হোসেন বলেন, মামলাটি প্রত্যাহার হওয়ায় আঁখি ও আমরা সবাই খুশি। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে বিদেশ সফরে রয়েছে। তিনি সেখান থেকেই আঁখির খোজ খবর নিয়েছেন। ফিরে আসার পর তিনি আঁখিকে বাড়ি করে দিবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এতে আমরা খুবই খুশি। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি চির কৃতজ্ঞ। তার জন্য নামাজ পড়ে সর সময় দোয়া করি। তিনি যেন দীর্ঘ জীবি হন।
