রোববার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে আসামি হত্যার অভিযোগ

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:৫৫ পিএম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়িতে লেবু সিকদার (৫৫) নামে হত্যা মামলার এক আসামির গলায় ফাঁস দেওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতন করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। গত সোমবার রাতে উপজেলার বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার দিন বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্বরত কনস্টেবল সুব্রত সরকারকে টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুলিশি নির্যাতনে লেবু সিকদারের মৃত্যু হয়েছে- দাবি করে তার পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী এর প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার গোড়াই-সখীপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। তারা লেবু সিকদার হত্যার ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচার দাবি করেন।

লেবু সিকদার বাঁশতৈল গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে। ওই গ্রামের মফিজুর রহমানের সাবেক স্ত্রী সখিনা আক্তার (৪২) হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মফিজুর রহমান ও লেবু সিকদারকে গ্রেপ্তার করে।

জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়া সখিনা আক্তারকে গত রবিবার রাতে কে বা কারা তার ঘরে ঢুকে হত্যা করে। এ ঘটনায় গত সোমবার সখিনার ভাই মো. বাদশা বাদী হয়ে মফিজুর রহমান ও লেবু সিকদারসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

এ ঘটনায় পুলিশ সখিনার সাবেক স্বামী মফিজুর রহমান এবং লেবু সিকদারকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার রাতে ওই দুজনকে পুলিশ ফাঁড়ির হাজতখানার দুই কক্ষে রাখা হয়। রাত সাড়ে ৪টার দিকে লেবু মিয়ার গলায় রশিতে ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

গতকাল বেলা পৌনে ১টার দিকে বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে প্রধান ফটকে তালা দেওয়া দেখা গেছে। চেষ্টা করে ফাঁড়িতে দায়িত্বরত কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

দুপুর ২টার দিকে লেবু সিকদারের পরিবারের লোকজন এবং বাঁশতৈল এলাকাবাসী গোড়াই-সখীপুর সড়কের বাঁশতৈল এলাকায় টায়ারে আগুন লাগিয়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। এ সময় লেবু সিকদারের স্ত্রী আলেয়া বেগম বিলাপ করে বলেন, ‘আমার স্বামীর কোনো দোষ নেই। ভালো মানুষ, বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে রাতে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। আমি এ হত্যার বিচার চাই।’

বেলা সাড়ে ৩টার দিকে টাঙ্গাইলের সহকারী পুলিশ সুপার (সখীপুর সার্কেল) রাকিবুর রাজা ঘটনাস্থলে গিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী অবরোধ প্রত্যাহার করে।

লেবু সিকদারের ভাতিজা সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমার চাচাকে দিনের বেলায় ফাঁড়ির পুলিশ সাখাওয়াত হোসেন ও নেছার উদ্দিন ডেকে নিয়ে যায়। গতকাল সকাল ১০টায় চাচার মৃত্যুর খবর পাই। কিন্তু ফাঁড়ি থেকে চাচার মৃত্যুর খবর আমাদের জানানো হয়নি।’ মির্জাপুর থানার ওসি শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, ‘লোকলজ্জার ভয়ে লেবু সিকদার আত্মহত্যা করতে পারে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, এ ঘটনায় হাজতখানায় দায়িত্বরত কনস্টেবল সুব্রত সরকারকে টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিএসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনির হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত