সম্প্রীতির আলো ছড়াচ্ছে মসজিদ-মন্দির

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২২, ০২:০৯ এএম

কয়েক বছর ধরেই দুর্গাপূজার সময় দেশের পরিবেশ কিছুটা থমথমে হয়ে ওঠে। পূজামণ্ডপগুলোতে সাম্প্রদায়িক হামলার শঙ্কায় থাকে উৎকণ্ঠা। নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বাড়তি ব্যবস্থা। তবে লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ি এলাকার পুরান বাজারের পরিস্থিতি একেবারে ভিন্ন। সেখানে একই প্রাঙ্গণে হচ্ছে আজান, হচ্ছে উলুধ্বনি। মসজিদের আগরবাতি বা আতরের গন্ধ একাকার হয়ে যায় মন্দিরের ধূপের গন্ধে। দেড়শ বছরের বেশি সময় ধরে সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে পাশাপাশি চলছে পৃথক দুটি ধর্মের উপাসনালয়।

শহরের বাসিন্দারা জানান, ১৮৩৬ সালে কালীমন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত। ওই সময় লালমনিরহাট শহরে কালীবাড়ির পুরান বাজার এলাকায় আসা ধর্মপ্রাণ মুসলমান ব্যবসায়ীরা নামাজ আদায়ের জন্য তার পাশেই একটি ছোট ঘর তোলেন। সেটির নামকরণ করা হয় পুরান বাজার জামে মসজিদ। সেই থেকে এক উঠানেই চলছে দুই ধর্মের দুই উপাসনালয়ের কাজ।

স্থানীয়রা জানান, পূজা শুরুর আগে মসজিদ ও মন্দির কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নেয় নামাজ ও পূজার অনুষ্ঠানে সূচি নির্ধারণ করে। ফলে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে না। আজান থেকে নামাজের জামাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্দিরের মাইক, ঢাকঢোলসহ যাবতীয় শব্দযন্ত্র বন্ধ থাকে। নামাজ শেষ হলে মন্দিরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়। এখানে কোনো বিশৃঙ্খলাও হয় না। শালীনতা বজায় রেখে একই উঠানে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন উভয় ধর্মের ধর্মাবলম্বীরা।

তারা জানান, গায়ে গায়ে লেগে থাকা মন্দির ও মসজিদ দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসে সাধারণ মানুষ। কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতও এই মন্দির ও মসজিদ পরিদর্শন করেছেন।

কালীবাড়ি এলাকার হাসানুল ইসলাম বলন, দীর্ঘ দিন ধরে এখানে দুর্গাপূজাসহ অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিন্দুসম্প্রদায়ের লোকজন চালিয়ে আসছে। অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনও মসজিদে নামাজ আদায় করে আসছেন। কিন্তু কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এটি সামাজিক সম্প্রীতির এক বড় উদাহরণ।

পুরান বাজার জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, মসজিদের আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবুও এখানে জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ স্বাধীনভাবে ঘুরতে আসে। আমরা তাদের সব কাজে সহযোগিতা করি। তারাও আমাদের সহযোগিতা করে। নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোল বন্ধ রাখা হয়। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে চলছে এই সম্প্রীতির বন্ধন।

কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি মন্দিরের সভাপতি ও প্রধান পুরোহিত শংকর চক্রবর্তী জানান, ১৮৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এলাকার নামকরণও করা হয় কালীবাড়ি। পরে এখানে বাজার গড়ে উঠলে বাজারের ব্যবসায়ী ও শহরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মন্দিরের পাশেই প্রতিষ্ঠা করেন পুরান বাজার জামে মসজিদ। সেই থেকে এক উঠানে চলছে দুই ধর্মের দুই উপাসনালয়ের কার্যক্রম।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, এখানকার মানুষ সব ধর্মের সহাবস্থানে বিশ্বাস করে। যার প্রমাণ এক উঠানে কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি মন্দির ও পুরান বাজার জামে মসজিদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত