পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল নজির রয়েছে। এখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সব ধর্মের মানুষ পরস্পর মিলেমিশে একসঙ্গে বসবাস করেন।
তিনি বলেন, কতিপয় দুষ্কৃতকারী কোনো অঘটন ঘটিয়ে আমাদের সহাবস্থানকে বিনষ্ট করতে চায়, দেশের ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে চায়। আমরা তাদের কঠোর হাতে দমন করতে বদ্ধপরিকর।
আইজিপি গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির, রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন এবং বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা এ সময় বক্তব্য রাখেন।
দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আইজিপি বলেন, কোনো দুষ্কৃতকারী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ কোনো ধরনের অঘটন ঘটানোর দুঃসাহস না দেখাতে পারে।
তিনি বলেন, দুষ্কৃতকারীরা কোনো একটা সময়ে যখন মানুষ বিশ্রামে যায় সে নির্জনতার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। এ জন্য সবাইকে সার্বক্ষণিক সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।
আইজিপি আশা প্রকাশ করে বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
সিআইডির সক্ষমতা বৃদ্ধির নির্দেশ : পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সক্ষমতা বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেছেন, মানি লন্ডারিং মামলাসহ অন্যান্য মামলার তদন্তে সিআইডির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বেশি বেশি প্রশিক্ষণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করতে হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপরাধ দূর করতে ভূমিকা রাখতে হবে। অনলাইন জুয়া ও মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনাও দেন তিনি। গতকাল সিআইডি
সদর দপ্তরে অনলাইন জুয়া ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে সিআইডি আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সেমিনারের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন আইজিপি।
সেমিনারে অনলাইন জুয়া এবং মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধীদের শনাক্ত, ডিজিটাল সই সংগ্রহ, মামলার তদন্ত পরিচালনা, পারিবারিক, সামাজিক সচেতনতাসহ যাবতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় নানা বিষয় উঠে আসে।
সভাপতিত্ব করেন সিআইডিপ্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন এসবির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম।
সিআইডিপ্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, ‘অনলাইন জুয়া ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচার রোধে সিআইডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে।’
এসবিপ্রধান মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা ভোগ করছি। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নানা অপরাধ করছে। এসব অপরাধ কঠোরভাবে দমন করা হবে।’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এইচআর অ্যান্ড ওডি স্পেশালিস্ট ড. খান সরফরাজ আলী। এ ছাড়া বক্তব্য দেন দুদকের প্রধান আইনজীবী খুরশিদ আলম খান, অক্টগ্রাম লিমিটেডের এমডি মো. হাসান শাহরিয়ার ফাহিমসহ সাইবার বিশেষজ্ঞরা।
সিআইডির ঢাকা কার্যালয়ে কর্মরত উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) থেকে ঊর্ধ্বতন সব কর্মকর্তা সশরীরে এবং বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার সিআইডির কর্মকর্তারা অনলাইনে সংযুক্ত থেকে সেমিনারে অংশ নেন।
