কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান মিম আক্তার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বাণিজ্য শাখায় চান্স পেয়েও অর্থাভাবে পড়াশোনা চালাতে পারছেন না। ভ্যানচালক পিতা বিভিন্ন জায়গা থেকে সহযোগিতা নিয়ে ভর্তি করলেও আগামী দিনগুলো কীভাবে পার করবেন সে নিয়ে আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে মিমের পরিবার। মিম আক্তার উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের মাজগ্রামের ডালিম শেখের মেয়ে।
মিম দেশ রূপান্তরকে জানান, শিলাইদহ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ডিগ্রি কলেজ থেকে এ প্লাস পেয়ে এইচএসসি পাস করেছেন। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি মেজো। ছোটবেলা থেকেই বহু কষ্ট করে লেখাপড়া চালাচ্ছেন। তার বাবা ভ্যান চালিয়ে যে অর্থ উপার্জন করেন তা সংসার চালাতেই শেষ হয়ে যায়। অনেকবারই অর্থের অভাবে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। শত বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে এ পর্যন্ত পৌঁছেছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করা ব্যয়বহুল, শেষ পর্যন্ত কী হবে ভেবে ইতিমধ্যে তিনি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে ভালো কোনো চাকরি করে সংসারের অভাব ঘোচাতে চান তিনি।
মিমের বাবা ভ্যানচালক ডালিম শেখ বলেন, ‘মিমি ছোটকাল থেকেই মেধাবী। অভাবের সংসারে অনেক কষ্ট করে মেয়েটা লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। ভার্সিটিতে ধারদেনা করে ভর্তি করেছি। কিন্তু আগামী দিনগুলোতে কীভাবে খরচ জোগাব সে হিসাব মেলাতে পারছি না। ইতিমধ্যে ভ্যানের চারটি ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেলে এলাকার কয়েকজনের কাছ থেকে ধার করে এবং এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যাটারি কিনে লাগিয়েছি।’
এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিতান কুমার ম-ল মিমের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
