পারমাণবিক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া, অভিযোগ জেলেনস্কির

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২২, ০১:৩৬ পিএম

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহারের জন্য রাশিয়ার কর্মকর্তারা ‘তাদের সমাজকে প্রস্তুত করতে’ শুরু করেছেন।

শুক্রবার বিবিসি’র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি একথা বলেন। একইসঙ্গে রাশিয়ার পারমাণবিক হুমকি বন্ধে বিশ্বকে এখনই ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তবে জেলেনস্কি এও বলেন যে, রাশিয়া এ অস্ত্র ব্যবহার করতে প্রস্তুত বলে তিনি বিশ্বাস করেন না।

১৯৬২ সালে কিউবার মিসাইল সংকটের পর ফের রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি বিশ্বে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মন্তব্যের কয়েকঘন্টা পরই ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বিবিসি- কে ওই সাক্ষাৎকার দেন।

১৯৬২ সালে কিউবায় ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন নিয়ে তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক সংঘাতে জড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। এখন প্রায় ৬০ বছর পর এসে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের ফলে পারমাণবিক সংঘাতের বিষয়টি আবারও সামনে চলে এসেছে।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে ইংরেজি ভাষায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ‘তারা (রাশিয়া) তাদের সমাজকে প্রস্তুত করতে শুরু করেছে; যা খুবই বিপজ্জনক। তারা এটি (পারমাণবিক যুদ্ধ) করতে প্রস্তুত নয়, তারা এটি (পারমাণবিক অস্ত্র) ব্যবহার করতে প্রস্তুত নয়। কিন্তু তারা এ ধারণা ছড়িয়ে দিতে শুরু করেছে। তারা জানে না এটি ব্যবহার করবে কিনা। আমি মনে করি এমনকী এটি (পারমাণবিক অস্ত্র) নিয়ে কথা বলাটাও বিপজ্জনক’।

জেলেনস্কি আরও বলেন, রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি হুমকি গোটা বিশ্বের জন্যই ঝুঁকি হয়ে ওঠায় এখনই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকির মুখে বিশ্বের প্রতিটি দেশেরই প্রস্তুত থাকা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রাশিয়া এরই মধ্যে ইউক্রেইনের জাপোরিজিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দখল করেছে এবং ইউরোপের সবচেয়ে বড় এই পারমাণবিক কেন্দ্রকে মস্কো নিজেদের সম্পত্তি বানাতে চাইছে বলে অভিযোগ করেন জেলেনস্কি।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব জরুরি ভিত্তিতে রুশদখলদ্বারদের এইসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে পারে। এরকম ক্ষেত্রে বিশ্ব রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের বাস্তবায়ন করতে পারে এবং তাদেরকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ছেড়ে যেতে বাধ্য করতে সবকিছুই করতে পারে’।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হয় পারমাণবিক অস্ত্র কিংবা রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের পথে যেতে পারেন বলে ধারণা প্রকাশ করে জেলেনস্কি বলেছেন, পুতিনের কাছে ইউক্রেইনের জনগণের জীবনের মূল্য নেই। সেকারণে তিনি এমন পদক্ষেপ নিতেও পারেন।

রাশিয়া ইউক্রেনের ৪টি অঞ্চলকে নিজের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। ইউক্রেনও অঞ্চলগুলো উদ্ধারে মরিয়া। সেক্ষেত্রে এই ৪ অঞ্চলে ইউক্রেনের সামরিক অভিযান, রাশিয়ার ভেতরে হামলা হিসেবে বিবেচনা করে কৌশলগত পারমাণবিক বোমা হামলা চালাতে পারে।


কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র আসলে কী

পারমাণবিক বোমা প্রকৃত অর্থে একটি ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্র। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক কমান্ডারদের সুবিধা দিতে আরও নমনীয়, অপেক্ষাকৃত ছোট থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা তৈরি ও পরীক্ষা শুরু হয় ১৯৫০-এর মাঝামাঝি সময় থেকে। একেই বলা হয় কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র।

একবিংশ শতাব্দীতে এসে পরমাণু ওয়ারহেডগুলো আরও আধুনিক হয়েছে। যেখানে একজন অপারেটর একটি পারমাণবিক বোমার ধ্বংস ক্ষমতা নির্দিষ্ট করে দিতে পারবে। একটি কৌশলগত পারমাণবিক বোমা ১ কিলোটনের ভগ্নাংশ থেকে ৫০ কিলোটন পর্যন্ত হতে পারে। এক কিলোটনের বিস্ফোরণ ক্ষমতা ১ হাজার টন টিএনটির সমান।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিরোশিমায় বিস্ফোরিত ‘লিটল বয়’ পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ক্ষমতা ছিল ১৫ কিলোটন।

কৌশলগত পারমাণবিক বোমা বিরোধী পক্ষের সৈন্যের সংখ্যা, জাহাজ, মার্শালিং ইয়ার্ড, বিমান ঘাঁটির আকারের ওপর নির্ভর করে ব্যবহার করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। 

এরপরও যুদ্ধক্ষেত্রে এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহারে মুহূর্তেই যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়ার মতো দেশ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার দখলে থাকা একের পর এক এলাকা পুনরুদ্ধার করছে দেশটির যোদ্ধারা। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধে জেতার জন্য রাশিয়া যদি কৌশলগত পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করে তবে বিশ্ব ‘আরমাগেডন’ বা কেয়ামত তথা মহাবিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেলের নিউটেস্টামেন্টে বর্ণিত, ‘আরমাগেডন’ হলো সেই স্থান বা কাল যেখানে বিশ্ব ধ্বংসের আগে ভালো ও খারাপের শেষ যুদ্ধ হবে। মুসলিমদের ধর্মে যাকে বলা হয় কেয়ামত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত