শিক্ষকদের সংঘর্ষে প্রাণ গেল ছাত্রের

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২২, ০২:২৮ এএম

রংপুরের পীরগঞ্জে একটি বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ (ম্যানেজিং কমিটি) গঠনকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের দুপক্ষের সংঘাতের সময় বল্লমের আঘাতে এক ছাত্র নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন পুলিশ সদস্যসহ আরও অন্তত ১০ জন। গতকাল সোমবার দুপুরে মদনখালি ইউনিয়নের খেতাবের পাড়া পল্লী মঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের ঘটনায় বিদ্যালয়টির এক শিক্ষকসহ ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আহতদের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত রমজান আলী ওরফে আকাশ একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। সে পীরগঞ্জের চৈত্রকোল অনন্তরামপুর গ্রামের আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে। তার বাবা ঢাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন বলে জানিয়েছেন মামা মনসুর আলী।

পুলিশ, গ্রামবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মদনখালি ইউনিয়নের খেতাবের পাড়া পল্লী মঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন থেকে প্রধান শিক্ষক নুরুন্নবী তালুকদার এবং একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলামের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। সম্প্রতি বিদ্যালয়টির অভিভাবক সদস্য নির্বাচনে সহকারী শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলামের প্যানেল হেরে যায়। প্রধান শিক্ষক নুরুন্নবী তালুকদার সমর্থিত প্যানেল থেকে তিনজন অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ওই ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বাবু বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। দুর্গাপূজাসহ ১০ দিনের ছুটি শেষে গতকাল বিদ্যালয় খোলে। সকালে সহকারী শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে শতাধিক গ্রামবাসী প্রধান শিক্ষক নুরুন্নবী তালুকদার এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শহীদুল ইসলাম বাবুকে বিদ্যালয়ে ঢুকতে বাধা দেন। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা এবং পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে দুপক্ষই লাঠি, বল্লম ও ছোরাসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করে। এ সময় ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রমজান আলী ওরফে আকাশ বল্লমের আঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

এদিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পীরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে গ্রামবাসী পুলিশের ওপর চড়াও হয়। তখন পীরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল আউয়ালকে মারধর করে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। গ্রামবাসীর হামলায় এসআই আশরাফুল, নজরুল, রিয়াজুল ও আকতার এবং নারী পুলিশ সদস্য জ্যোতি আকতার ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুন্নবী তালুকতার গুরুতর আহত হন। পরে রংপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তারা আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে হামলায় জড়িত অভিযোগে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলামসহ ১১ জনকে আটক করে পুলিশ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ ম-ল এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিরোদা রানী রায়সহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সংঘর্ষের বিষয়ে রংপুরের পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা পুলিশকেও অবরুদ্ধ করে রাখে। হামলায় ওসি আব্দুল আউয়ালসহ চার পুলিশ আহত হয়েছেন। পরে সার্কেল এএসপির নেতৃত্বে রংপুর থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত