দেশের ৮০ শতাংশ নারী স্তন ক্যানসার সম্পর্কে জানেন না। যে ২০ শতাংশ জানেন তারাও নিয়মিত চেকআপ করান না। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে রোগটির নিরাময় শতভাগ সম্ভব। এ জন্য ২০ বছর বয়স থেকে প্রতি মাসে একবার স্তন স্ক্রিনিং করতে হবে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ক্যানসারবিরোধী ও নারী সংগঠনসহ ৩৫টি সংগঠনের মোর্চা ‘বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য তুলে ধরেন। স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবসের ১০ বছর উদযাপন উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী ডা. হাবিবুল্লাহ রাসকিন।
সভায় ডা. হাবিবুল্লাহ রাসকিন বলেন, নিঃসন্তান নারী ও ৩০ বছরের পরে সন্তান নেওয়া নারীদের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি। এ ছাড়া চর্বি ও প্রাণিজ খাবার বেশি খাওয়া ও অতিরিক্ত ওজন এ মরণব্যাধির কারণ।
এ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, স্তন ক্যানসার থেকে রক্ষা পেতে ২০ বছর বয়স থেকে প্রতি মাসে একবার স্তন স্ক্রিনিং করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে স্তন ক্যানসার নিরাময় শতভাগ সম্ভব। অনেক নারী স্ক্রিনিং না করার কারণে যথাসময়ে এ রোগ শনাক্ত হয় না। ফলে মৃত্যু অবধারিত হয়ে পড়ে।
সভায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম বলেন, ক্যানসার হওয়ার পর নয়, আগে থেকে হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য যেতে হবে। প্রাথমিক ধাপে ক্যানসার ধরা পড়লে প্রতিরোধ করা সম্ভব। নারীর শরীরে সময়ের পরিক্রমায় পরিবর্তন আসবে। এটি নিয়ে ভীত হওয়া যাবে না। অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে। সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
গবেষক ড. হালিদা হানুম আখতার বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, দেশে ৭২ শতাংশ নারী নানাভাবে নির্যাতিত। প্রতি পাঁচ হাজারে একজন নারী স্তন ক্যানসারে ভোগেন। আক্রান্তদের ৬০ শতাংশ নারী জরায়ু ক্যানসার সম্পর্কে জানেন আর ২৪ শতাংশ স্তন ক্যানসার সম্পর্কে জানেন। এ ছাড়া এসব রোগের ডায়াগনসিস ও স্ক্রিনিং সম্পর্কে খুব অল্প নারীই জানেন। স্তন ক্যানসারে নারীর সচেতনতার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদেরও জানাতে হবে। তাদের আগে সচেতন করতে হবে।
জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. স্বপন কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দেশে প্রতি বছর দেড় লাখ মানুষ প্রায় তিন ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। ক্যানসার চিকিৎসায় হাসপাতালের সংখ্যা খুবই কম। ফলে এসব রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় অনেক ঝামেলা হয়। সরকারের এ বিষয়ে আরও নজর বাড়াতে হবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন বলেন, যারা ক্যানসারে আক্রান্ত হন, তাদের যেন গণমাধ্যমে প্রথমেই প্রকাশ না করা হয়। কিছু বিষয় যেন গোপন থাকে। আমরা যেন প্রচার করে কারও ক্ষতি না করে ফেলি সেদিকটা খেয়াল রাখতে হবে। এখনো নারীরা চার দেয়ালেই বন্দি। হয়তো ১-২ শতাংশ নারী বেরিয়ে এসেছে। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে।
সভায় অন্যদের মধ্যে অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী, ইউএনবির সম্পাদক ফরিদ হোসেন, অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক, অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদসহ মোর্চার অন্তর্ভুক্ত প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। সভায় স্তন ক্যানসার সচেতনতায় অবদানের জন্য ১০ সাংবাদিককে কৃতজ্ঞতা স্মারক দেওয়া হয়।
এর আগে সংগঠনটি শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত শোভাযাত্রা করে এবং রাস্তায় সাধারণ মানুষের কাছে স্তন ক্যানসার বিষয়ে সচেতনতামূলক তথ্যসমৃদ্ধ লিফলেট বিতরণ করে।
