দুই সেতুর উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী

দেশকে আন্তর্জাতিক মহাসড়কে সংযুক্ত করার সুযোগ

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২২, ০২:৪৩ এএম

নড়াইলে দেশের প্রথম ছয় লেনের মধুমতী সেতু এবং নারায়ণগঞ্জে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি করে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এ কারণেই সেতু দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী নড়াইলে মধুমতী নদীর ওপর নির্মিত দেশের প্রথম ছয় লেনের মধুমতী সেতু এবং নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসিম ওসমান সেতুর উদ্বোধনকালে ভাষণে এসব কথা বলেন।

এ সময় সরকারপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশের অগ্রগতি মূলত যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তার সরকার যোগাযোগ ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যখনই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছি, তখনই জনগণের সেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছি এবং আওয়ামী লগ সব সময়ই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন নিয়েই ক্ষমতায় এসেছে। এটাই আওয়ামী লীগের ইতিহাস। পাশাপাশি দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রেখেছে আওয়ামী লীগ।’

যোগাযোগের অগ্রগতিতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মকা- তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রথমবার সরকারে এসেই যমুনা নদীর ওপর বহুমুখী সেতু নির্মাণ করেছে আমার সরকার। এছাড়া আরও অনেকগুলো সেতুর নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে। যার মধ্যে ধরলা সেতু, গাবখান সেতু, শিকারপুর ও দোয়ারিকা সেতু এবং ভৈরব নদীর ওপরও সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। আমার সরকারের প্রচেষ্টা ছিল বাংলাদেশকে একটি যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় আনা।’

তিনি বলেন, ‘এখন আমরা দাবি করতে পারি দেশের সব এলাকার মাঝেই যেন যোগাযোগ স্থাপিত হয় সে কাজ আমরা করতে সক্ষম হয়েছি।’

সরকারপ্রধান এ সময় আরও বলেন, প্রথমে কালনা সেতু হিসেবে বর্তমান মধুমতী সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেও এটা যেহেতু মধুমতী নদীর ওপর নির্মিত এবং মধুমতী নামটিও অনেক মিষ্টি তাই এটার নাম মধুমতী সেতু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ১৯৭৫-এর জাতির পিতাকে হত্যার প্রতিবাদকারী নাসিম ওসমানের নামে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর নামকরণ করা হয়েছে। ইতিপূর্বে তার সরকার নারায়ণগঞ্জবাসীর উন্নয়নে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর আরও দুটি সেতু এবং মুক্তারপুর সেতু নির্মাণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অস্ত্র প্রতিযোগিতার অর্থ শিশুদের জন্য ব্যয় করা হোক : প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে করোনা পরিস্থিতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সারা দেশে এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি ফেলে না রেখে সার্বিক উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘যুদ্ধের ফলে সারা বিশ্বই আজকে কষ্ট ভোগ করছে। সেজন্য আমাদের আবেদন থাকবে আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই, মানুষের উন্নতি চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই যুদ্ধে অস্ত্র বিক্রি করতে গিয়ে বা অস্ত্র প্রতিযোগিতায় যে অর্থ ব্যয় হয়, সে অর্থ সারা বিশ্বের শিশুদের জন্য ব্যয় করা হোক। তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা এবং উন্নত জীবনের জন্য ব্যয় করা হোক, সেটাই বিশ্ববাসীর কাছে আমি আহ্বান জানাই।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। আরও বক্তৃতা করেন বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ঈসা ইউসেফ ঈসা আল দুহাইলান।

সেতুগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ভিডিও কনফারেন্স সঞ্চালনা করেন। সেতু প্রকল্পের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারিও প্রদর্শিত হয়।

সেতুবন্ধ তৈরি হলো শীতলক্ষ্যার দুই পাড়ের বাসিন্দাদের : নারায়ণগঞ্জ প্রতিপনিধি জানান, তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সঙ্গে তিন দিকে নদীবেষ্টিত বন্দর উপজেলার মধ্যে সংযোগ তৈরি হয়েছে। তাই উদ্বোধনী দিনে ব্রিজের টোল প্লাজার সামনে উদ্বোধনী মঞ্চে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুরু হলে মুহুর্মুহু করতালির মধ্য দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করছিল দুই তীরের মানুষ।

জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, সেতুটি আগে বন্দর উপজেলার মদনগঞ্জকে পশ্চিমে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সৈয়দপুরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। ফলে নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ জেলার সঙ্গে পদ্মা সেতুর সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। আগে নৌকায় নদীপথে চলাচল করতে গিয়ে অনেক দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এক্ষেত্রে সেতুটি স্থানীয়দের জন্য নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করবে।

নারায়ণগঞ্জ নৌ পুলিশের এসপি মীনা মাহমুদা জানান, শীতলক্ষ্যা নদীপথে প্রতিনিয়ত ঘটা নৌ দুর্ঘটনা কমে আসবে এ সেতুর ফলে। এ সেতু উদ্বোধনের ফলে নৌপথে ভারী মালামাল পরিবহনের যে ঝুঁকি সেটি মুক্ত হবে।

বন্দরের বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে শীতলক্ষ্যা সেতু নিয়ে অনেক নাটক হয়েছে। অনেক সরকারপ্রধান কথা দিয়েও সেতু করেননি। ভিত্তিপ্রস্তর করেও সেতু হয়নি। আর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যেটা বলেন সেটা করে দেখান। যার প্রমাণ এই শীতলক্ষ্যা তৃতীয় সেতু।

মধুমতী সেতু উদ্বোধনের পর উৎসুক জনতার ঢল : নড়াইল প্রতিনিধি জানান, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের ৬ লেনের মধুমতী সেতুর উদ্বোধনের পর উৎসুক মানুষের ঢল নামে। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত সেতুজুড়ে হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর কাক্সিক্ষত সেতুর উদ্বোধনে অন্যরকম  আবেগ, আনন্দন্ডউচ্ছ্বাস তৈরি হয়। স্বপ্নপূরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত