হাইপোথাইরয়েডিজম দূর করে যে খাবার

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২২, ০১:০৭ এএম

যখন থাইরয়েড গ্রন্থি প্রয়োজনের তুলনায় কম হরমোন তৈরি করে তখন তাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলে। থাইরয়েড হরমোন কমলে বিপাকক্রিয়া দেরিতে হয়। বিস্তারিত জানিয়েছেন মানবিক সাহায্য সংস্থার স্বাস্থ্য ও পুষ্টি কর্মকর্তা নাজিয়া আফরিন

হাইপোথাইরয়েডিজম রোগের প্রধান লক্ষণ ওজন বেড়ে যাওয়া। এ ছাড়া অবসাদগ্রস্ততা, ঘুম ঘুম ভাব। ঠা-া সহ্য করতে না পারা। হৃৎস্পন্দন কমে যাওয়া। উচ্চ রক্তচাপ হওয়া। বুকে ব্যথা অনুভূত করা। গলগ- দেখা যাওয়া। চামড়া ও চুল শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যাওয়া। কানে কম শোনা বা একদমই না শোনা। স্নায়ু ও মাংসপেশিনির্ভর রিফ্লেক্স কমে যাওয়া। মাংসপেশিতে প্রচ- চাপ ও ব্যথা অনুভব করা। মুখ ও পা ফুলে যাওয়া। কোষ্ঠকাঠিন্য। স্বরের কোমলতা কমে কণ্ঠ ভারী ও কর্কশ শোনা। স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া ও বিষন্ন থাকা।

যে খাবারে দূর হয়

আয়োডিন : আয়োডিন হলো অপরিহার্য খনিজ, যা থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে প্রয়োজন। এর পুষ্টির ঘাটতিতে হাইপোথাইরয়ডিজম হয়। আয়োডিনযুক্ত লবণ, সামুদ্রিক মাছ খেতে হবে।

সেলেনিয়াম : সেলেনিয়াম হলো আরেকটি খনিজ, যা থাইরয়েড সুস্থ রাখতে প্রয়োজন। থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনের এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস দ্বারা সৃষ্ট ক্ষতি থেকে থাইরয়েডকে রক্ষা করে। সেলেনিয়াম-সমৃদ্ধ খাবার হলো বাদাম, টুনা মাছ, সামুদ্রিক মাছ, ডিম এবং শস্যদানা।

জিংক : পর্যাপ্ত জিংক খাদ্যতালিকায় না থাকলে থাইরয়েডে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, খাবারে জিংক থাকা অপরিহার্য। দুধ, দুগ্ধজাত খাবার, ডিম, বাদাম, শিম, মাশরুম, চিংড়ি ও সামুদ্রিক মাছে প্রচুর পরিমাণে জিংক রয়েছে।

ভিটামিন-ডি : ভিটামিন-ডির মাত্রা কম থাকলে থাইরয়েডের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভিটামিন-ডি অনেক খাবারে ঘনীভূত হয় না, তাই পরিপূরক খাবার প্রয়োজন।

ভিটামিন-বি ১২ : হাইপোথাইরয়ডিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ভিটামিন-বি ১২-এর ঘাটতি দেখা যায়। সর ছাড়া দুধ, মুরগি, ডিম, টুনা মাছ, পনির ও বিভিন্ন ধরনের ডালে ভিটামিন-বি ১২ আছে।

ম্যাগনেশিয়াম : ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি থাইরয়েডের কাজ বাধাগ্রস্ত করে এবং হাইপোথাইরয়ডিজম হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। সামুদ্রিক মাছ, বিচিজাতীয় খাবার, কুমড়ার বীজ, সূর্যমুখীর বীজ, বিভিন্ন রকম বাদাম ম্যাগনেশিয়ামের ভালো উৎস।

এ ছাড়া ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিন হাইপোথাইরয়ডিজমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। স্বাস্থ্যকর থাইরয়েড ফাংশনের জন্য অনেক ভিটামিন এবং খনিজ প্রয়োজন। হাইপোথাইরয়ডিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিভিন্ন পুষ্টি ও পরিপূরক খাবারের অভাব থাকে এবং এদের ওজন দ্রুত বাড়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত