শাহজাদপুরে ২০ হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২২, ০৫:০৫ এএম

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের যমুনাসহ সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এই অসময়ে পানি বাড়ায় জেলার শাহজাদপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের অন্তত ২০ হেক্টর জমির মাষকালাই ডুবে গেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধের হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ৪৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন করে বন্যার আশঙ্কার পাশাপাশি যমুনাপাড়ের মানুষেরা ভাঙন আতঙ্কেও রয়েছে। এ বছর এ নিয়ে ৫ দফায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেল।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রণজিত কুমার সরকার জানান, ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যে গত কয়েক দিন ধরে প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীসহ সব নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধের হার্ডপয়েন্ট এলাকায় যমুনা নদীতে ৪৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৮০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। (বিপৎসীমা-১৩.৩৫ মিটার)। অন্যদিকে, কাজীপুর উপজেলার মেঘাইঘাট পয়েন্টে ৩৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (বিপৎসীমা-১৫.২৫ মিটার)।

প্রকৌশলী রণজিত আরও বলেন, গত চার দিন ধরে যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আরও কয়েক দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, চলতি ২০২২ সালের জুনের শুরুতে প্রথম দফা যমুনায় পানি বাড়তে থাকে। ১৮ জুন জেলার সব পয়েন্টেই বিপৎসীমা অতিক্রম করে। ২৩ জুন থেকে পানি কমতে শুরু করে। দ্বিতীয় দফায় ২৯ জুন থেকে আবারও পানি বাড়তে শুরু করে। এরপর ৩ জুলাই থেকে পানি কমতে থাকে। ২৩ জুলাই তৃতীয় দফায় বৃদ্ধি ও ৬ আগস্ট থেকে কমা শুরু হয়। টানা ২৫ দিন পর ৩১ আগস্ট হঠাৎ করেই যমুনার পানি বৃদ্ধি পায়। ১৩ সেপ্টেম্বর পানি কমতে থাকে। দুই সপ্তাহ পর ২৬ সেপ্টেম্বর চতুর্র্থ দফায় পানি বাড়া শুরু হয়। এরপর তা কমে যায়। পঞ্চম দফায় গত ১০ অক্টোবর থেকে আবারও দ্রুতগতিতে যমুনায় পানি বাড়া শুরু হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত