গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকায় চলাচলকারী ১০০টি বাসে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এতে গণপরিবহনে হয়রানির শিকার নারীরা ৯৯৯ ও ১০৯ নম্বরে অভিযোগ জানানোর পর সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা যাবে।
গতকাল রবিবার মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও দীপ্ত ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহযোগিতায় গণপরিবহনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। রাজধানীর মিরপুরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম কনভেনশন সেন্টারে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। রাজধানীতে চলাচলকারী পরিস্থান পরিবহন, রাজধানী সুপার সার্ভিস, প্রজাপতি পরিবহন, বসুমতি পরিবহন ও গাবতলী এক্সপ্রেসের ১০০টি বাসে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু নারীদের সামাজিক, রাজনৈতিক উন্নয়নে অংশীদার করতে ১৯৭৩ সালে ইডেন কলেজ থেকে দুটি বাস সর্বপ্রথম নারীদের জন্য চালু করেন। একটি বাস ইডেন কলেজ থেকে মতিঝিল ও অপরটি গাবতলী যেত। ২০৪১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ হবে উন্নত দেশ। সে-সময় উন্নয়ন কার্যক্রমে পুরুষের সমান অংশীদার হবে নারীরা। সেজন্য গণপরিবহনে নারীদের নিরাপদ যাত্রা ও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ আনতে ১০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সবাই সচেতন হবে, একই সঙ্গে অপরাধীদের শনাক্ত করা যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাসের সহকারীদের দ্বারা নারীরা যেমন হয়রানির শিকার হচ্ছে, তেমনি পুরুষ যাত্রীদের দ্বারাও হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশ নয় ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কায়ও নারীদের সহিংসতার শিকার হতে হচ্ছে। এদেশে বিএনপি-জামায়াতের সময় নারী ধর্ষণ-হত্যা সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা দেশে এসব ঘটনার বিচার করছেন। টাঙ্গাইলে বাসে ধর্ষণের মামলায় চারজনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আইন ও নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে অনেকগুলো। আইনে ধর্ষণে মৃত্যুদণ্ড রাখা হয়েছে।’
চালক-সহকারীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নারী যাত্রীরা আপনাদের বোন-স্ত্রী-বন্ধু। আপনারা তাদের নির্যাতন করবেন না। বাস কোম্পানির মালিকরা বাছাই করে ইন্টারভিউ নিয়ে চালক-সহকারী নিয়োগ দিন।’
দীপ্ত ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জাকিয়া কে হাসান বলেন, ‘গণপরিবহনে নারীদের যাতায়াত নিরাপদ ও উন্নত করতে আমরা এ প্রজেক্ট শুরু করেছি। এর ফলে মনিটরিং করতে সুবিধা হবে। তিন বছরে আমাদের এ প্রজেক্টে খরচ হয়েছে ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি তিন বছর মেয়াদি এ প্রজেক্টের কার্যক্রম শুরু হয়।’
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হাসানুজ্জামান কল্লোলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আগা খান মিন্টু, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি সফিকুল আলম।
