১০ জেলায় নিজেদের কাছে হার ক্ষমতাসীনদের

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২২, ০১:৪১ এএম

কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া শেষ হয়েছে দেশের ৫৭ জেলা পরিষদ নির্বাচন। গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে ৪৬২টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। সব জেলায়ই প্রথমবারের মতো ভোটগ্রহণ হয় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচনেও বিএনপি কোনো প্রার্থী দেয়নি। জাতীয় পার্টি কিছু এলাকায় প্রার্থী দিলেও তেমন আলোচনায় ছিল না। মূলত বেশিরভাগ স্থানেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়, যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে অংশ নেন। এর মধ্যে ১০টি জেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বাকিরা সবাই আওয়ামী লীগের। আর ভোটের আগেই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে ২৬ জেলায়।

গত আগস্ট মাসে দেশের তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১ জেলায় এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল ইসি। পরে হাইকোর্টের আদেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নোয়াখালীর নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। জাতীয় বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো এ ভোটে তেমন উত্তাপ না ছড়ালেও তফসিল ঘোষণার পর কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট  কেনার অভিযোগ ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক কল রেকর্ডও ফাঁস হয়। এ ছাড়া কয়েকটি জেলায় ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন প্রার্থীরা। কোনো কোনো এলাকায় সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরাও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোটের মাঠে সক্রিয় হন বলে অভিযোগ ওঠে। তবে গতকাল দুয়েকটি ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়েছে ভোট।

দেশ রূপান্তরের সংশ্লিষ্ট এলাকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত :

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এটিএম পেয়ারুল ইসলাম। আনারস প্রতীকের প্রার্থী তার প্রাপ্ত ভোট ২৫৬৭। চেয়ারম্যান পদে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় স্বাধীনতা পার্টির (নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন) মহাসচিব নারায়ণ রক্ষিত পেয়েছেন ১২৪ ভোট। চট্টগ্রামের ১৫টি কেন্দ্রে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২৬৯৪। এর মধ্যে তিনটি ভোট বাতিল হয়েছে।

চাঁদপুর : চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে আলহাজ ওচমান গণি পাটওয়ারী মোবাইল প্রতীকে ৭৩৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীকের প্রার্থী জাকির হোসেন প্রধানিয়া পেয়েছেন ৫২২ ভোট।

রাজশাহী : রাজশাহী জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল। কাপ-পিরিচ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৫৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আক্তারুজ্জামান আক্তার পেয়েছেন ৫৬৬ ভোট।

পটুয়াখালী : জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান। তিনি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৮৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগ মনোনীত খলিলুর রহমান মোহন আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪৭১ ভোট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : চেয়ারম্যান পদে এ জেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার ৮২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুর আলম ৫৫৩ ভোট পেয়েছেন।

নীলফামারী : নীলফামারীতে দলীয় সমর্থিত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক (আনারস) ৫৩৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ৩১৮ ভোট।

নড়াইল : নড়াইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস (আনারস) নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ২৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ১৭৭ ভোট।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান (আনারস) ১ হাজার ২২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মহানগর জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (চশমা) প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৪৫ ভোট।

সাতক্ষীরা : আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম ৬০৮ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী খলিলুল্লাহ ঝড়ু পেয়েছেন ৪৪৭ ভোট।

খুলনা : জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শেখ হারুনুর রশীদ চেয়ারম্যান পদে আবারও জয়লাভ করেছেন। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৩৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমএম মোর্তজা রশিদী দারা ৪০৩ ও ডা. শেখ বাহারুল আলম পেয়েছেন ৩৭ ভোট। নির্বাচনে ৯৭৮ ভোটারের মধ্যে ৯৭৭ জন ভোট প্রদান করেন।

ফরিদপুর : চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহাদাৎ হোসেন। তিনি ৬২৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। তার নিটকতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মো. ফারুক হোসেন পেয়েছেন ৫৪০ ভোট।

নরসিংদী : স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনির হোসেন ভূঁইয়া ৬২২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আবদুল মতিন ভূঁইয়া পেয়েছেন ৩৫০ ভোট। অন্য প্রার্থী সৈয়দ মাহমুদ জাহান লিটু পেয়েছেন ২১ ভোট।

শেরপুর : স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবীর রুমান ৫৪৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার পাল পেয়েছেন ১৮৭ ভোট।

মেহেরপুর : মেহেরপুর জেলা পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন সাবেক ছাত্র নেতা অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম। তিনি কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে ১৭৬ ভোট পেয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম রসুল (আনারস) পেয়েছেন ১১৫ ভোট।

নেত্রকোনা : চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের সমর্থিত মুক্তিযোদ্ধা অসিত কুমার সরকার সজল ৯৩৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির আসমা সুলতানা আশরাফ পেয়েছেন ২১৯ ভোট।

রাজবাড়ী : আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ কে এম শফিকুল মোর্শেদ আরুজ ৪২৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী দীপক কু-ু পেয়েছেন ১৩৮ ভোট। আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমামুজ্জামান চৌধুরী পেয়েছেন ২৮ ভোট।

মানিকগঞ্জ : আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মহিউদ্দিন ৪৫২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কেএম ফজলুল হক রিপন পেয়েছেন ৪২৫ ভোট।

যশোর : আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইফুজ্জামান পিকুল ৯৫৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মারুফ হাসান কাজল ৩৪৪ ভোট পেয়েছেন।

হবিগঞ্জ : চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরী ৯৬১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোল্লা আবু নঈম মো. শিবলী খায়ের পেয়েছেন ৭৭ ভোট। এ ছাড়া অন্য প্রার্থী কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ হবিগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূরুল হক পেয়েছেন ৪৩টি ভোট।

কক্সবাজার : স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সহসভাপতি শাহীনুল হক মার্শাল ৫৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তাক আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ৩৯৫ ভোট। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবছার পেয়েছেন ১ ভোট এবং জগদীশ বড়ুয়া পেয়েছেন ৯ ভোট।

চুয়াডাঙ্গা : চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহফুজুর রহমান মনজু ৩১২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরেফিন আলম রঞ্জু পেয়েছেন ২৪৯ ভোট।

বগুড়া : চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. মকবুল হোসেন ৮৭৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মান্নান আকন্দ পেয়েছেন ৭২১ ভোট।

পঞ্চগড় : চেয়ারম্যান পদে ২৮৩ ভোট পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও পঞ্চগড় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুল হান্নান শেখ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আবু তোয়বুর রহমান পেয়েছেন ২৩১ ভোট। অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলদার রহমান পেয়েছেন ৯০ ভোট।

গাজীপুর : চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মোতাহার হোসেন মোল্লা ৩৩০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম মোকছেল আলম ২৯৪ ভোট পেয়েছেন। অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সামসুদ্দিন খন্দকার পেয়েছেন ৩ ভোট।

জয়পুরহাট : আওয়ামী লীগ সমর্থিত অধ্যক্ষ খাজা সামছুল আলম ৩৯১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাসদ সমর্থিত আবুল খায়ের মো. সাখাওয়াত হোসেন ৯৬ ভোট পেয়েছেন।

ঝিনাইদহ : স্বতন্ত্র প্রার্থী হারুন অর রশিদ ৪৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী কনক কান্তি দাস পেয়েছেন ৪৬৩ ভোট।

গাইবান্ধা : আওয়ামী লীগ সমর্থিত আবু বকর সিদ্দিক ৫৮৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির আতাউর রহমান রহমান পেয়েছেন ৫২৩ ভোট।

মাগুরা : বেসরকারি ফলাফলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পঙ্কজ কুমার কু-ু পেয়েছেন ৩৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীয়াতুল্লাহ হোসেন মিয়া ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ১৩০ ভোট।

নাটোর : নাটোর জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাজেদুর রহমান খান বেসরকারিভাবে পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। চশমা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ৫৪৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টি মনোনীত ঘোড়া প্রতীকের নুরুন্নবী মৃধা পেয়েছেন ২৪৭ ভোট।

কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৯৫৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট মো. আশরাফ উদ্দিন পেয়েছেন ২৫৭ ভোট।

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জে টানা দ্বিতীয়বারের মতো জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল হুদা মুকুট। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ৬১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খায়রুল কবির রুমেন ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ৬০৪ ভোট পান।

রংপুর : রংপুর জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু। মোটরসাইকেল প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৬০১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ইলিয়াস আহমেদ পেয়েছেন ৪৮৪ ভোট। তিনি আনারস প্রতীকে লড়ছিলেন।

২৬ জেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান : জেলা পরিষদ নির্বাচনে ২৬ জেলায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। যে ২৬ জেলায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছে সেগুলো হচ্ছে ফেনী, ভোলা, কুমিল্লা, কুড়িগ্রাম, গোপালগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জামালপুর, ঝালকাঠি, টাঙ্গাইল, ঠাকুরগাঁও, ঢাকা, নওগাঁ, নারায়ণগঞ্জ, পাবনা, পিরোজপুর, বরগুনা, বরিশাল, বাগেরহাট, মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মৌলভীবাজার, লক্ষ্মীপুর, লালমনিরহাট, শরীয়তপুর, সিরাজগঞ্জ ও সিলেট জেলা।

বরিশালে নির্বাচন শেষে উত্তেজনা ও মেয়রের সঙ্গে ইউএনওর বাগ্বিত-া : বরিশাল জেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে পরাজিত প্রার্থীর লোকদের বিরুদ্ধে। এ সময় বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকরা পাল্টা হামলা করলে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনার একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। পরে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুপক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সোমবার দুপুর আড়াইটার পর জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র বরিশাল জিলা স্কুলের সামনে সদর রোডে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে ভোট দিতে কক্ষে প্রবেশের সময় কেন্দ্রের দায়িত্বরত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে তর্কে জড়ালেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

সকাল সোয়া ৯টার দিকে বরিশাল জিলা স্কুল কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। আর পুরো ঘটনাটি মেয়রের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেজে লাইভ রেকর্ড করা হয়। লাইভে দেখা যায়, সকাল ৯টার দিকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিতে বরিশাল জিলা স্কুল কেন্দ্রে যান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। এক নম্বর ভোট কক্ষে প্রবেশের সময় বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে দল বেঁধে ভোটকক্ষে প্রবেশ না করতে অনুরোধ করেন। এ নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে বাগ্বিত-ায় জড়ান মেয়র।

‘নির্বাচন সুন্দর হয়েছে আমরা সন্তুষ্ট’ : জেলা পরিষদ নির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেন, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও থেকে কোনো অনিয়ম বা গ-গোলের কোনো তথ্য আমাদের কাছে আসেনি। নির্বাচনটি সুন্দর ছিল এবং আমরা সন্তুষ্ট।

গতকাল সোমবার দেশের ৫৭টি জেলা পরিষদ নির্বাচন শেষ হাওয়ার পর নির্বাচন ভবনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন সিইসি। সিসিটিভির মাধ্যমে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নতুন অভিজ্ঞতা জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, আগামীতে এটা আরও ভালো সুযোগ করে  দেবে সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠানের। আমরা শুরু থেকেই বলে এসেছি আমরা স্বচ্ছ নির্বাচন চাই। আমাদের দায়িত্বটা হচ্ছে ভোটাররা যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে ২৬ জন চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের কিছু করার আছে কিনা জানতে চাইলে সিইসি বলেন, এ ব্যাপারে আমরা কোনো বক্তব্য রাখব না। এই বিশ্লেষণে আমরা যাইনি। এটা আমাদের বিষয় নয়। বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলো বুঝবে, আমরা এতে কোনো মন্তব্য করব না।

গাইবান্ধা ভোট বন্ধ করায় সিসিটিভি ক্যামেরা আজকে সুষ্ঠু নির্বাচনের সহায়ক হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সিইসি বলেন, হতে পারে। আপনারা জানেন অনাকাক্সিক্ষতভাবে গাইবান্ধায় সেটা হয়েছে। আমাদের সিসিটিভি ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত ছিল এবং আমরা গুরুতর অনিয়ম লক্ষ করেছি। এতে কমিশন বাধ্য হয়েছে সিদ্ধান্ত নিতে এবং নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছে। সেখান থেকে হয়তো একটা মেসেজ এসেছে। আপনারা  দেখেছেন সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে যেভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়, তাহলে যারা প্রার্থী অথবা ভোটার তারা যদি গুরুতর অনিয়ম করে তাহলে নির্বাচন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। হয়তো তার একটি পজিটিভ ইম্প্যাক্ট এই নির্বাচনে পড়েছে।

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কিছু ভেবেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আমরা এখনই কিছু ভাবছি না। সময় হোক তখন দেখা যাবে।

কিছু জায়গায় ক্যামেরা হ্যাক হয়েছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সিইসি বলেন, একটা কথা মনে রাখবেন এটা মেকানিক্যাল। হাজার হাজার ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সেখানে দুই-একটা সিস্টেম লস বলেন বা যাই বলেন, হ্যাক করতে পারে। এই যে কয়েকজন ইভিএমে তাদের আঙুল  মেলেনি পরে হাত ধোয়ার পর মিলেছে। যদিও আমি খবর নিব কয়জনের এ রকম হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনে অনেক বেশি কেন্দ্র থাকবে। অনেক বড় আয়োজন হবে। তখন কীভাবে মনিটর করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এবার আমরা ছোট পরিসরে নির্বাচনের জন্য ছোট আয়োজন করেছি। বড় পরিসরের জন্য যদি বড় সক্ষমতার প্রয়োজন হয় সেই ধরনের বড় সক্ষমতা অর্জন করার চেষ্টা নিশ্চয়ই আমাদের মধ্যে থাকবে।

প্রার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করে ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার একটা চেষ্টা করতে পারে এ ব্যাপারে ইসি কোনো পদক্ষেপ নিবে কী সে বিষয়ে জানতে চাইলে হাবিবুল আউয়াল বলেন, এই বিষয়টা আমরা এখনো চিন্তা করিনি। এটা আমরা অবশ্যই চিন্তা করব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত