যতটা আশঙ্কা করা হচ্ছিল তার চেয়ে কিছুটা দুর্বল হয়ে উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং। গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে ঘণ্টায় ৮৫ কিলোমিটার বেগে বরিশাল ও চট্টগ্রাম উপকূলের মাঝামাঝি আঘাত হানে সিত্রাং। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় হচ্ছে ভারী বর্ষণ। ইতিমধ্যে স্বাভাবিকের চেয়ে উঁচু জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে উপকূলের নিচু এলাকা। কোথাও কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে পানি। ঝড়ের তোড়ে উপড়ে গেছে গাছপালা-বিদ্যুতের খুঁটি। কয়েকটি এলাকায় কাঁচা ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ধসের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। নড়াইলের লোহাগড়ায় গাছের ডাল ভেঙে পড়ে নিহত হয়েছেন এক নারী। অবশ্য উপকূলের বেশির ভাগ মানুষ গতকাল সন্ধ্যার মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। উপকূলে প্রাণহানির শঙ্কা কিছুটা কম হলেও বেশুমার সম্পদহানি এড়ানো যায়নি। তবে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ করতে আরও সময় লাগবে। উপকূলের বেশির ভাগ জেলাই বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটহীন হয়ে পড়েছে।
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মোকাবিলায় উপকূলের সর্বত্র ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করেছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির স্বেচ্ছাসেবকরা সংকেত প্রচার এবং চর ও দূরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার লোকজনকে সরিয়ে আনার কাজ করছেন। অনেককে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে। তবে আশ্রয়কেন্দ্রে খাবার ও পানীয় সংকটের অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের ব্যাস ৪০০-৫০০ কিলোমিটার। ফলে উপকূলীয় অধিকাংশ জেলা এর প্রভাবের আওতায় থাকবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিত্রাংয়ের কারণে ১৩ জেলায় ক্ষতির আশঙ্কা বেশি। এসব জেলার মধ্যে রয়েছে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি, ভোলা, পটুয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও বরিশাল। তবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দ্বীপ অঞ্চলগুলোও আছে ঝুঁকির তালিকায়। অমাবস্যা তিথি ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের কারণে ওই সব এলাকা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন জেলার নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত:
বরিশাল : ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে বরিশাল নগরের প্রায় সব সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গত রবিবার ভোররাত থেকে একটানা মাঝারি ও ভারী বর্ষণে নগরের অধিকাংশ রাস্তাঘাটে হাঁটুপানি জমেছে। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ গয়ে গেছে। এমনকি বসতবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। এতে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে। সোমবার ভোর থেকে মাঝারি এবং দুপুরের পর তাতে আরও গতি পেয়ে ভারী বর্ষণ হচ্ছে। এর সঙ্গে নদ-নদীতে অধিক উচ্চতার জোয়ারের কারণে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে ২৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে নগরের বাসিন্দাদের মধ্য চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে; বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের অশেষ দুর্ভোগ হচ্ছে।
বরিশাল আবহাওয়া বিভাগের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক প্রণব কুমার বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টিপাত আরও দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে চর ও নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৮ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বরগুনা : বেলা বাড়ার সঙ্গে বৃষ্টিও বেড়েছে উপকূলীয় জেলা বরগুনায়। বেড়েছে জেলার মানুষের আতঙ্ক। দুই দিন ধরেই জেলার বাসিন্দাদের দিন কাটছে উৎকণ্ঠায়। বরগুনা সদর উপজেলা মাঝের চরের বাসিন্দা জব্বার বলেন, ‘বাঁধ না থাকায় প্রতি অমাবস্যা-পূর্ণিমার জোয়ারে পুরো চর জোয়ারে ভাসে। ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়। ফসলের ক্ষেতও নষ্ট হয়। এবারও আমাদের নির্ঘুম রাত কাটছে।’
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগকালে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ৬৪২টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী মানুষকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য জেলার ৪২ ইউনিয়নে ৪২ মেডিকেল দল গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া জরুরি খাদ্যসহায়তার জন্য জেলায় ২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১ হাজার কার্টন শুকনো খাবার ও ৭০০ প্যাকেট বিস্কুট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ভোলা : ভোলায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী উত্তাল হয়ে উঠেছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ভোলায় সব ধরনের লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। ভোলা জেলা প্রশাসক মো. তৌফিক ইলাহী চৌধুরী বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। এদিকে জেলায় দুর্যোগ মোকাবিলায় ৭৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। খোলা হয়েছে ৮টি কন্ট্রোল রুম। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১৩ হাজার ৬৬০ স্বেচ্ছাসেবক। এ ছাড়া ৭০টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
পটুয়াখালী : সিত্রাংয়ের প্রভাবে মধ্যরাত থেকে পটুয়াখালীর উপকূলজুড়ে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় খাপড়াভাঙ্গা নদীর দুই তীরে নোঙর করা রয়েছে কয়েক শ সমুদ্রগামী মাছধরা ট্রলার। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসের ৫ ফুট উচ্চতার জোয়ারে প্লাবিত হতে পারে, এমন খবরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে জেলার বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত এলাকার মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৭৯ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। মধ্যরাত থেকে বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। এতে জনজীবনে ভোগান্তি নেমে এসেছে। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানার শঙ্কায় পায়রাসহ দেশের সব বন্দরে ৭ নম্বর বিপদসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও জানমাল রক্ষায় গতকাল দুপুরে পটুয়াখালী জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে।
ঝালকাঠি : গতকাল সকাল থেকে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত এবং দমকা হাওয়া বইছে জেলাজুড়ে। বৈরী আবহাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট ফাঁকা। বৃষ্টিতে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। জেলায় ভোররাত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে এবং মোবাইল নেটওয়ার্কিং সরবরাহে বিঘœ ঘটছে। জেলা প্রশাসক জোহর আলী বলেন, জেলায় শুকনো খাবার মজুদ না থাকলেও নগদ টাকা ও অন্যান্য সব ব্যবস্থা রয়েছে। ঝড়ের সঙ্গে জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, জেলার বিভিন্ন আশ্রয়ণশিবির ও সাইক্লোন শেল্টারে ৪ লাখ মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন।
খুলনা : খুলনায় আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে আসছে লোকজন। জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার জানান, বেলা ২টা পর্যন্ত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আসেনি। বিকেল ৪টা থেকে মানুষ আসতে শুরু করেছে। জেলায় মোট ৫৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। বিকেল ৩টা পর্যন্ত জেলায় ১৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
বাগেরহাট : বাগেরহাটে রবিবার রাত থেকে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল সকাল থেকে রাস্তাঘাট ফাঁকা। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। বৈরী আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া নি¤œ আয়ের মানুষ। মাছ ধরার ট্রলার ঘাটে অবস্থান করছে। ঝড়ের প্রভাবে নদ-নদীতে জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে বেড়িবাঁধ উপচে বা ভেঙে নদী-তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। দেড়শ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। তারা বাঁধ মেরামতের জন্য ১৫ হাজার জিও ব্যাগ ও ৫ হাজার সিনথেটিক ব্যাগ প্রস্তুত রেখেছেন। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকে আশ্রয় দিতে জেলার ৩৪৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে পারবে দুই লাখের বেশি মানুষ। প্রস্তুত রাখা হয়েছে শুকনো খাবার। বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ২২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে শরণখোলা উপজেলার ৬৫ কিলোমিটার বাঁধ সুরক্ষিত রয়েছে। মোংলা উপজেলায় কোনো বাঁধ নেই। মোরেলগঞ্জ ও রামপাল উপজেলার কিছু অংশে বাঁধ রয়েছে। এসব এলাকা ঝুঁকিতে রয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, তিন থেকে সাত ফুট পর্যন্ত জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। এ কারণে এসব এলাকা প্লাবিত হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, বাগেরহাট জেলায় ৩৪৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩০ জন। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, এনজিও, জনপ্রতিনিধিরা স্থানীয় জনগণকে সচেতন করবেন এবং তারা দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও প্রায় ৩০০ মেট্রিক চাল মজুদ রয়েছে।
সাতক্ষীরা : ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে উপকূলীয় শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলাসহ সাতক্ষীরা জেলার সর্বত্র টানা বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া বইছে। সর্বশেষ আবহাওয়া বার্তায় উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলায় ৭ নম্বর বিপদসংকেত দেখাতে বলার পর থেকে উপকূলজুড়ে শুরু হয়েছে মাইকিং। মোড়ে মোড়ে ওড়ানো হয়েছে লাল পতাকা। সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সকাল ৯টা পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলায় ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে; যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাতাসের মাত্রাও বাড়ছে। তিনি বলেন, সাতক্ষীরা উপকূলে ৫ থেকে ৮ ফুট জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা রয়েছে।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার হোসেন জানান, সাইক্লোন শেল্টারগুলো খুলে রাখা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকরা মাইকিংসহ অন্যান্য কার্যক্রম শুরু করেছে।
নোয়াখালী : ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গতকাল ভোর থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় থেমে থেমে দমকা হাওয়া ও হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে ৭ নম্বর বিপদসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। হাতিয়ার নিম্নাঞ্চলে জোয়ারে প্লাবিত হওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মানুষ আশ্রয় নিচ্ছে। সিত্রাং মোকাবিলায় নোয়াখালীতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান জানান, সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। হাতিয়া, সুবর্ণচর, কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ৩ লাখ লোক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ৪০১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মেডিকেল টিম ১০১টি ও ২৫০ মেট্রিক চন চাল, ৫ লাখ টাকা, বিস্কুট ৭০০ কার্টন মজুদ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া কন্ট্রোল রুম চালু করেছে নোয়াখালী জেলা প্রশাসন।
নোয়াখালী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ভোর থেকে বিভিন্ন উপজেলায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে হালকা বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে ৭ নম্বর বিপদসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে ৭-৮ ফিট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সেলিম হোসেন বলেন, হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ পুরোটাই জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। হাতিয়ার সাতটি ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের বাইরের নিম্নাঞ্চল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দ্বীপ এলাকাও প্লাবিত হয়েছে। অতি বর্ষণে আছে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও।
