প্রাচীন গ্রিসের নারীদের জীবন নিয়ে সম্প্রতি নতুন তথ্য জানতে পেরেছেন গবেষকরা। ঘরে-বাইরে কোথাও তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না, পরাধীন জীবনযাপন করতেন, এমনটাই দীর্ঘদিন মনে করা হতো। গবেষকরা বলছেন, এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। ধর্মীয় কাজে নিয়োজিত নারীরা কয়েকটি ক্ষেত্রে পুরুষদের সমান অধিকার পেতেন। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
নারীর ভূমিকা
প্রাচীন গ্রিসে নারীদের ভূমিকা নিয়ে কম গবেষণা হয়নি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষ জেনেছে, গ্রিসের নারীদের চলাফেরা অনেক সীমিত ছিল। তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন এতটাই গোপনীয় বিষয় ছিল যে, সে সম্পর্কে জানার সুযোগ তেমন একটা ছিল না বললেই চলে। জনপরিসরে তাদের প্রবেশাধিকার ছিল না। গ্রিসের নাগরিকত্ব থেকে তারা বঞ্চিত ছিলেন। রাজনীতি থেকে তাদের সহস্র যোজন দূরে রাখা হতো। সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন এই নারীরা ঘরের কাজকর্মের পাশাপাশি স্ত্রী, মা কিংবা কন্যার দায়িত্ব পালন করেই জীবন পার করতেন। প্রাচীন গ্রিসের মনীষীদের লেখায় দেশটির নারীদের জীবন নানাভাবে উঠে আসে। পুরুষের সামনে নারীরা যে হীনমন্যতায় ভুগতেন, তা নিয়ে গ্রিক দার্শনিক প্লেটো ও জেনোফোন, ইতিহাসবিদ থুসিডিডিস তাদের রচনায় উল্লেখ করেন। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল তার পলিটিক্স বইয়ে জানান, গ্রিসের সমাজে নারী-পুরুষের মধ্যে পুরুষদের অবস্থান ছিল ওপরে, নারীরা তাদের আজ্ঞাবাহক হিসেবে কাজ করতেন। পুরুষরা ছিলেন শাসক, নারীরা ছিলেন তাদের প্রজা। গ্রিক পণ্ডিতদের বড় অংশই গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে এসব গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। এথেন্সের সমাজ সে সময় নারীদের বিষয়ে বেশ রক্ষণশীল ছিল। নারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার বলে মনে করতেন তৎকালীন গ্রিক শাসকরা। তবে স্পার্টাসহ অন্যান্য নগররাষ্ট্রের দিকে তাকালে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। সেখানে নারীরা বেশ স্বাধীন ছিলেন। এখানে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে অবস্থিত গোর্টিন শহরের নারীদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে এই শহরের নারীরা সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারতেন। গোর্টিনের সমাজ নারীদের কাজকে উৎপাদক ও সম্পদের রক্ষাকর্তা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির পাশাপাশি তারা তাদের সন্তানদের সম্পত্তিও পরিচালনা করতে পারতেন যদি সন্তানদের পুরুষ অভিভাবক অক্ষম, অযোগ্য হয়ে থাকেন। গোর্টিনের বিয়ে, তালাক ও সম্পত্তির অধিকার সংক্রান্ত আইন পরবর্তী সময়ে সংরক্ষণ করা হয়। সে সময় বিভিন্ন শ্রেণির নারীদের জীবন কতটা আলাদা ছিল, তা ওই আইনগুলো পড়লে বোঝা যায়। এক রাষ্ট্রের সঙ্গে আরেক রাষ্ট্রের শাসনকাঠামোয় যেমন কোনো মিল পাওয়া যায় না, ঠিক তেমনি একটি রাষ্ট্রে বিদ্যমান বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যেও পার্থক্য থাকে। স্পার্টাসহ অন্যান্য নগররাষ্ট্রে উচ্চবিত্ত শ্রেণির নারীরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি স্বাধীনতা উপভোগ করলেও নিম্নবিত্ত শ্রেণির নারীদের জীবন মধুর ছিল না। ক্রীতদাস ও দরিদ্র নারীরা সে সময় ধোপা, তাঁতি, বিক্রেতা, ওয়েট নার্স (অন্যের শিশুকে স্তন্যপান করানো) ও ধাত্রীর কাজ করতেন। প্রাচীন গ্রিসে নারীদের ভূমিকা বিভিন্ন বইয়ে যেভাবে উপস্থাপন করা হয় এবং সেসব পড়ে তাদের জীবন সম্পর্কে মানুষের যে ধারণা হয়, তার বিপরীতে সম্প্রতি নতুন ধারণার অবতারণা করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, প্রাচীন গ্রিসের সমাজব্যবস্থা ধারণার চেয়েও বেশ জটিল ছিল। সেখানে স্ত্রী বা নারী ধর্মযাজকরা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন, তা নয়। গ্রিক পুরাণে অ্যাথিনা (যুদ্ধ ও জ্ঞানের দেবী), আর্তেমিসসহ (শিকার ও অরণ্যদেবী) বেশ কয়েকজন শক্তিশালী দেবীর উল্লেখ রয়েছে। সম্প্রতি প্রতœতাত্ত্বিকদের গবেষণায় বলা হয়, প্রাচীন গ্রিসে এসব দেবীর উপাসক নারী ধর্মযাজকরা পরাধীন ছিলেন এমনটা বহু বছর ধরে মনে করা হয়ে আসছে, যা সঠিক নয়। এই নারী ধর্মযাজকরা অনেক স্বাধীন ছিলেন, সমাজে তাদের বেশ কদর ছিল। সে সময় ঘরে ও বাইরে নারীদের ভূমিকায় বৈচিত্র্য ছিল।
কুমারী ও নববধূ
প্রাচীন গ্রিসে বেশির ভাগ নারীর জীবন সাধারণত কুমারী, নববধূ ও নারী এই তিন ধাপে বিভক্ত ছিল। প্রথম সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগ পর্যন্ত নববধূরা নববধূই থাকতেন, নারী হয়ে উঠতেন না। প্রাপ্তবয়স্ক নারীর জীবন শুরু হতো কৈশোরের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত। এ সময়ে নারীরা বিয়ে করে আনুষ্ঠানিকভাবে বাপের বাড়ি ছেড়ে স্বামীর ঘর করতেন। বিয়েতে যৌতুক নেওয়ার প্রথা ছিল। তবে যৌতুকের অর্থে হাত দিতে পারতেন না স্বামীরা। কোনো কারণে বিয়ে ভেঙে গেলে যৌতুকের পুরো অর্থই নারীর বাবা পেতেন। বিয়ের দিন কনেকে বিশুদ্ধ পানিতে গোসল করানো হতো। কনের পরিচারকরা বেশ আয়োজন করে লুত্রোফোরোস নামের মাটির পাত্রে বিশুদ্ধ পানি ভরে চৌবাচ্চায় ঢালত। দুই হাতল ও সরু গলার এই পাত্র গ্রিকদের আচার-অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। লুত্রোফোরোসের গায়ে বৈবাহিক জীবনের বিভিন্ন ঘটনা আঁকা থাকত। শুধু বিয়ে নয়, মৃত্যুর সময়ও এই পাত্র ব্যবহার করা হতো। অবিবাহিত নারীর সমাধির ওপর লুত্রোফোরোস রাখা হতো। কনেকে গোসলের পর পরিচারকরা তাকে বিয়ের পোশাক ও মাথায় মুকুট পরাত। সাধারণত কনের বাপের বাড়িতেই বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে কনের অভিভাবকত্ব ও ভরণ-পোষণের দায়িত্ব বাবার থেকে বরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হতো। নববধূকে নতুন বাড়িতে নেওয়ার সময় বর একা থাকতেন না, তার সঙ্গে থাকত আত্মীয়-স্বজনের বিরাট বহর। তারা অনেকটা মিছিল করে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের সঙ্গে নবদম্পতিকে তাদের নতুন ঠিকানায় পৌঁছে দিতেন। এই উদযাপন বিয়ের পরদিনও চলত। ওই দিন নববধূ তার পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার গ্রহণ করতেন।
অন্দরমহল
বিয়ের পর নতুন বাড়ির গাইনেসিয়াম বা অন্দরমহল পুরোপুরি নারীদের দখলে থাকত। প্রাচীন গ্রিসের এই অন্দরমহলের চিত্র সে আমলের কাঠ বা পাথরের খণ্ড ও সিরামিকের পাত্রে দেখা যায়। ঘরের কাজকর্মের দায়িত্ব নারীকে নিতে হতো। এই কাজের মধ্যে তন্তু থেকে সুতা তৈরি ও কাপড় বোনা ছিল উল্লেখযোগ্য। গ্রিসের বেশির ভাগ বাড়িতে সে সময় কাপড় বোনার যন্ত্র থাকত। কাপড় বোনা নিয়ে গ্রিক পুরাণে মজার একটি কাহিনী আছে। পুরাণে ইথাকার রাজা অডিসিয়াসের স্ত্রী পেনেলোপকে বিখ্যাত তাঁতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তিনি ছিলেন মাতৃত্ব ও বিশ্বস্ততার প্রতীক। ২০ বছর ঘরের বাইরে ছিলেন অডিসিয়াস। ওই দীর্ঘ সময়ে তিনি ট্রয়ের যুদ্ধে অংশ নেন, দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ান। পেনেলোপকে সে সময় একা পেয়ে লোভী পাণিপ্রার্থীরা তাকে বিয়ে করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন কারণ তাকে যিনি বিয়ে করবেন, তিনিই গ্রিসের দ্বীপ ইথাকা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা পাবেন। সে সময় পাণিপ্রার্থীদের ঠেকাতে ছলের আশ্রয় নেন পেনেলোপ। তিনি তাদের কথা দেন, শ্বশুরের জন্য কাফনের কাপড় বোনা শেষ হলেই তিনি বিয়ে করবেন। অঙ্গীকার অনুযায়ী পেনেলোপ সারা দিন কাফনের কাপড় বুনতেন কিন্তু প্রতি রাতে বোনা অংশ খুলে ফেলতেন। পরের দিন আবার নতুন করে কাপড় বোনা শুরু করতেন তিনি। তার বোনা আর শেষ হয় না। এভাবেই ফের বিয়ের পিঁড়িতে না বসে স্বামী অডিসিয়াসের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন তিনি। এ কারণে হয়তো পেনেলোপ একপর্যায়ে দক্ষ তাঁতি হয়ে ওঠেন।
উল নিয়ে কাজ করার সময় গ্রিসের নারীরা উরুতে বিশেষ ধরনের সুরক্ষা উপকরণ পরতেন, যাকে এপিনেত্রা বলা হয়। এটি দেখতে অনেকটা অঙ্গুষ্ঠানার মতো। প্রত্নতাত্ত্বিকরা সাম্প্রতিক সময়ে মাটি খুঁড়ে প্রচুর এপিনেত্রার সন্ধান পান। সুন্দর করে নকশা করা এপিনেত্রা বিয়ের উপহার হিসেবে গ্রিসে একসময় বেশ জনপ্রিয় ছিল। বেশির ভাগ এপিনেত্রায় প্রেম ও সৌন্দর্যের দেবী আফ্রোদিতির মুখ আঁকা থাকত।
ঘরকন্নার পাশাপাশি সন্তান লালন-পালনের দায়িত্বও প্রাচীন গ্রিসের নারীদের ওপর ন্যস্ত ছিল। মেয়ে ও ছোট ছেলেদের নানা বিষয়ে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতেন তারা। নির্দিষ্ট বয়সের পর অবশ্য ছেলেদের শিক্ষার দায়িত্ব প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকদের দেওয়া হতো। বীণা বাজানো শেখা মেয়েদের শিক্ষার অংশ ছিল। এ ছাড়া পরিবারে কারোর মৃত্যু হলে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আয়োজনের প্রধান দায়িত্ব পালন করতেন নারীরা। মৃত ব্যক্তির গায়ে তেল মাখিয়ে পরিষ্কার কাপড় পরানো থেকে শুরু করে শেষকৃত্যের মিছিলে তারা অংশ নিতেন। প্রাচীন গ্রিসে নারীদের ভূমিকা নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা যায়, সে সময় সব নারী যে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন, তা নয়। কেউ কেউ পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং তারা একপর্যায়ে শিল্প ও বিজ্ঞানে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০ সালের দিকে দার্শনিক প্লেটোর কাছে দর্শনশাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা করেন গ্রিক নারী এক্সিওথিয়া অব ফ্লিয়াস। ইতিহাসবিদদের কেউ কেউ অবশ্য মনে করেন, প্লেটোর শিক্ষার্থী হতে ওই নারীকে পুরুষের ছদ্মবেশ নিতে হয়েছিল। প্রাচীন যুগে ইউরোপে যে কয়জন ব্যক্তি প্রথম দর্শন নিয়ে পড়াশোনা করেন, তাদের একজন ছিলেন থেমিস্টোক্লিয়া। গ্রিসের ডেলফি শহরে ধর্মযাজিকা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ওই নারী প্রখ্যাত দার্শনিক ও গণিতবিদ পিথাগোরাসের শিক্ষক ছিলেন। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর পর থেমিস্টোক্লিয়ার দর্শনবিষয়ক কাজের হদিস পাওয়া বিশেষজ্ঞদের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
ধর্মীয় কাজে নারীরা
প্রাচীন গ্রিসের নারী ধর্মযাজকরা যে কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারতেন, তা নয়। তারা মন্দির ও পরিবারিক পরিমণ্ডলের বাইরেও সময় কাটাতে পারতেন। প্রতœতাত্ত্বিক জোয়ান ব্রেটন কনেলির গবেষণায় জানা যায়, ধর্মীয় কাজ পরিচালনাকারী গ্রিক নারীরা সমাজে কয়েকটি ক্ষেত্রে পুরুষদের মতো একই ভূমিকা পালন করতেন। কমবয়সী মেয়েরা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারতেন। উদাহরণ হিসেবে সহকারী যাজিকা অ্যারেফোরইদের কথা বলা যায়। এই মেয়েদের নানা ধরনের ধর্মীয় কাজের দায়িত্ব দেওয়া হতো। এসব কাজের মধ্যে পেপলোজ (এক ধরনের পোশাক) বোনা ছিল উল্লেখযোগ্য। তাদের বোনা পেপলোজ প্রতি বছর দেবী অ্যাথিনাকে উৎসর্গ করা হতো। এ ছাড়া পাঁচ বছর বয়সী শিশুকন্যা থেকে শুরু করে কিশোরীদের দেবী আর্তেমিসের উপাসনা করার জন্য বাছাই করা হতো।
প্রাচীন গ্রিস সমাজে নারী ধর্মযাজকদের বেশ সম্মানের দৃষ্টিতে দেখা হতো। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরের প্রধান ধর্মযাজিকা পদকে সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় পদ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। প্রধান ধর্মযাজিকা যেসব অধিকার ভোগ করতেন, তা ওই সমাজের অন্য নারীরা পেতেন না। প্রধান ধর্মযাজিকারা কর দেওয়া থেকে অব্যাহতি পেতেন। পাশাপাশি সম্পদের মালিকানার অধিকারসহ আর বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হতো তাদের। প্রাচীন ইতিহাসবিদরা তাদের লেখায় গ্রিসের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রধান ধর্মযাজিকার নাম উল্লেখ করেন। ইতিহাসবিদ থুসিডিডিস পেলোপোনেসিয়ান যুদ্ধ বর্ণনা করার সময় গ্রিক পৌরানিক দেবী হেরার ধর্মযাজিকা ক্রাইসিসের প্রসঙ্গ টেনেছিলেন। প্রাচীন গ্রিসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নারীব্যক্তিত্ব ছিলেন পিথিয়া। তিনি দেশটির ডেলফি শহরে গ্রিক দেবতা অ্যাপোলোর মন্দিরের প্রধান ধর্মযাজিকার দায়িত্ব পালন করেন। গ্রিসে পিথিয়া মর্যাদাপূর্ণ ধর্মীয় পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। সে সময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুরুষরা পিথিয়ার কাছ থেকে পরামর্শ নিতে ডেলফি যেতেন। তারা মনে করতেন, দেবতা অ্যাপোলো পিথিয়ার মাধ্যমে তাদের বুদ্ধি-পরামর্শ দেন। প্রাচীন গ্রিসের পবিত্র উৎসবগুলোতেও ধর্মযাজিকারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। কিছু উৎসবে একমাত্র নারী ধর্মযাজকদের হাতেই উৎসব পরিচালনার দায়িত্ব থাকত। এসব উৎসবের বেশির ভাগই ফসল উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। যেমন থেসমোফোরিয়া উৎসবে নারীরা একত্র হয়ে কৃষির দেবী দিমিতার ও তার মেয়ে পারসেফোনির উপাসনা করতেন।
