টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আরও একটি রোমাঞ্চকর ম্যাচের সাক্ষী হলো দর্শক। শেষ ওভারে দারুণ উত্তেজনার পর বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচটা জিতে নিয়েছে আসরের অন্যতম ফেভারিট ভারত। এতে সেমিফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে দলটি। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না এখনই। ঠিক তেমনই পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বাংলাদেশের আশা।
অ্যাডিলেডে বুধবার বাংলাদেশকে বৃষ্টি আইনে ৫ রানে হারিয়েছে ভারত। সুবাদে গ্রুপ-২ এ তারা উঠে গেছে শীর্ষে। চার ম্যাচে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট তাদের। তবে এরপরও অপেক্ষায় থাকতে হবে ভারতকে।
আপাতত গ্রুপ-২ এর পয়েন্ট টেবিলের যা চিত্র, তাতে ছয় বা তার বেশি পয়েন্ট হতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান বা বাংলাদেশের। তাই বাংলাদেশের বিপক্ষে জিতলেও সেমির টিকিট কনফার্ম হয়নি ভারতের।
ভারত আগামী রবিবার সুপার টুয়েলভ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলবে। সেই ম্যাচ যদি রোহিত শর্মার দল জিতে যায়, তবে তাদের পয়েন্ট হবে ৮। আর সেটা হলে সরাসরি সেমিতে উঠে যাবে তারা।
কারণ তখন শুধু মাত্র দক্ষিণ আফ্রিকা আট পয়েন্ট বা তার বেশি পয়েন্টে পৌঁছাতে পারবে। সে ক্ষেত্রে প্রথম দুই দল হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ভারত সেমিতে উঠে যাবে। এখন তিন ম্যাচে প্রোটিয়াদের পয়েন্ট ৫। বাকি আছে তাদের দুই ম্যাচ।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারত হেরে গেলেও সেমিতে যেতে পারবে। কারণ ভারতের পাশাপাশি তখন পাকিস্তান বা বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার পয়েন্ট ছয় বা তার বেশি হতে পারে।
অঙ্কের বিচারে নিজেদের দুটির মধ্যে একটি ম্যাচে জিতলেই সাত পয়েন্টে পৌঁছে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে সরাসরি সেমিতে উঠে যাবে তারা। বাকি একটি জায়গার জন্য তখন লড়াই হবে ভারত এবং বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের।
পাকিস্তান যদি বাকি দুটি ম্যাচে (দক্ষিণ আফ্রিকা এবং বাংলাদেশ) জিতে যায়, তাহলে ছয় পয়েন্ট হবে বাবর আজমদের। বাংলাদেশের চার পয়েন্টের বেশি হবে না। সে ক্ষেত্রে সেমিতে ওঠার জন্য ভারত এবং পাকিস্তানের লড়াই হবে। নেট রান রেটের ভিত্তিতে এগিয়ে থাকলে ভারত সেমিতে পৌঁছে যাবে।
আবার বাংলাদেশ যদি পাকিস্তানকে হারিয়ে দেয়, তাহলে সাকিব আল হাসানদের পয়েন্ট হবে ৬। তখন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে কোনো এক দল পরের পর্বে যাবে। তবে নেট রানরেটে বাংলাদেশের চেয়ে সুবিধাজনক অস্থানে আছে ভারত। অর্থাৎ এখানে এগিয়ে আছে তারাই।
সব মিলে টেবিলের যে চিত্র তাতে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তবে সবকিছু আর তাদের নিজেদের হাতেও নেই।
