ক্লাব ফুটবলের জনপ্রিয়তায় শীর্ষে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। অনেক ফুটবল বোদ্ধা ইপিএলকেই ধরে থাকেন কঠিনতম লিগ হিসেবে। অথচ এই দেশটির বিশ্বকাপ সাফল্য মাত্র একটি, সেটিও ৫৬ বছর আগের ঘটনা। আসলে তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাস চমকে দেওয়ার মতো। ১৯৩৮ পর্যন্ত বিশ্বকাপেই ছিল না ইংল্যান্ড! অর্থাৎ প্রথম তিন বিশ্বকাপে ছিল না ইংল্যান্ড। অথচ ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয় সেই ১৮৬৩-তে। তাদের প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ ধরা হয় ১৮৭২ সালের ৩০ নভেম্বর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা ম্যাচকে। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব পেরোতে পারেনি বিষয়টি এমন নয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কিছু সময় পর ফিফা থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। তারা আবার ফিফার সদস্য হয় ১৯৪৬-এ। ফলে ১৯৫০ বিশ্বকাপেই প্রথমবার খেলে ইংল্যান্ড।
১৯৬৬ সালে স্বাগতিক হিসেবে বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে শিরোপা জিতেছিল ইংল্যান্ড। ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে জিওফ হার্স্টের হ্যাটট্রিকে ৪-২ গোলে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়েছে তারা। পরের বিশ্বকাপ তারা খেলেছিল শিরোপাধারী হিসেবে। অথচ পরের দুই বিশ্বকাপে বাছাইপর্বই পেরোতে পারেনি। আবার ১৯৯৪-তেও এমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল ইংল্যান্ডের। এর আগে-পরে ১৯৯০ ও ২০১৮ সেমিফাইনাল খেলে ইংল্যান্ড। এই দুই বিশ্বকাপেই তারা হয় চতুর্থ।
ইংল্যান্ড ২০১৮ বিশ্বকাপ সেমির পর ২০২০ ইউরো ফাইনাল খেলে। যা ইউরোতে ইংল্যান্ডের সেরা সাফল্য। ফাইনালে টাইব্রেকারে ইংল্যান্ড হারে ইতালির কাছে। পর পর বড় দুটি টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ড ভালো করেছে কোচ গ্যারেথ সাউদগেটের কোচিংয়ে।
কাতার বিশ্বকাপ বাছাইতে গ্রুপের ১০ ম্যাচের ৮টিতে জয়, দুটিতে ড্র করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূলপর্ব নিশ্চিত করলেও, নেশন্স লিগে তাদের সেই পারফরম্যান্সের আশপাশে নেই। ইতালি, জার্মানি, হাঙ্গেরির গ্রুপে একটিও জয় নেই, হেরেছে তিনটি। এরমধ্যে ইংল্যান্ড হাঙ্গেরির সঙ্গে হেরেছে দুই দেখাতেই। ওয়েম্বলিতে খেয়েছে চার গোল! এমন বাজে পারফরম্যান্সের পরও দলটি বিশ্বকাপের আগে ভরসা রেখেছে কোচ সাউদগেটের ওপরই।
ইংল্যান্ড দলের নিয়মিত স্কোয়াডে থাকা খেলোয়াড়দের অনেকেই এই মৌসুমে ক্লাবের হয়ে ভালো করতে পারছেন না। কেউ আবার থাকছেন একাদশের বাইরেই। বিশ্বকাপে ডিফেন্স ও মিডফিল্ড নিয়ে সমস্যায় পড়তে পারে দ্য থ্রি লায়ন্সরা। সেন্টার ব্যাক হ্যারি ম্যাগুয়ের শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ দলে থাকবেন কি না সেটিও বড় প্রশ্ন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে এখন সুযোগ পান না অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার। ইংল্যান্ড দলের মিডফিল্ডে ভরসা ফিল ফোডেন, জুড বেলিংহাম, বুকায়ো সাকা, মেসন মাউন্টের মতো তরুণরা। ইংল্যান্ডের রাইট-ব্যাক কাইল ওয়াকার কুঁচকির ইনজুরিতে ভুগছেন। তার বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে আছে শঙ্কা। রেসে জেমসের কাতার বিশ্বকাপ যেতে পারবেন না তাও নিশ্চিত। ইংলিশদের আক্রমণ ভাগে মূল ভরসার নাম হ্যারি কেইন। ২০১৮ বিশ্বকাপে ৬ গোল করে পেয়েছিলেন গোল্ডেন বুট। ২০২০ ইউরোতেও গোল করেন চারটি। ইংল্যান্ডের হয়ে ৫১ গোল করেছেন তিনি। বিশ্বকাপে কেইনকে সঙ্গ দিতে পারেন রাহিম স্টার্লিং, টামি আব্রাহাম।
কাতার বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড আছে বি গ্রুপে। গ্রুপের অপর তিন দল যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ওয়েলস। দলের সাম্প্রতিক বাজে ফলাফল, খেলোয়াড়দের অফফর্মের পরও ইংলিশ সমর্থকদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ইউরো ২০২০ কিংবা বিশ্বকাপ ২০১৮’র পারফরম্যান্স।
