ফুটবলের সর্ববৃহৎ আসর ফিফা বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বেশ কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। সেগুলোর একটি হলো ইসলামি শিল্পকলা জাদুঘর চালু করা। গত অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে দোহায় অবস্থিত ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইসলামিক আর্ট’ নামে একটি জাদুঘর দেড় বছর পর ফের চালু করেছে কাতার। গত এক বছরের বেশি সময় এটি বন্ধ ছিল। গত বছরের মে মাসে অভ্যন্তরীণ সংস্কার কাজের জন্য এটি বন্ধ রাখা হয়। আলজাজিরা জানিয়েছে, কাতার বিশ্বকাপ উপলক্ষে আরব বিশ্বের শোকেস হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করবে মধ্যপ্রাচ্যের আকর্ষণীয় ও সর্বাধুনিক এই জাদুঘরটি। জাদুঘরটি কাতারের অন্যতম সেরা দর্শনীয় স্থান।
সংস্কারের পর তাতে ১৮টি অত্যাধুনিক গ্যালারিতে ইসলামের ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ও শিল্পকলা সংযুক্ত করা হয়েছে। এটি এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ইসলামি শিল্পকলা জাদুঘর, যা আরব বিশ্বের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এ জাদুঘর পরিদর্শনের মাধ্যমে ইসলামি সংস্কৃতি, শিল্পকলা ও ইতিহাস সম্পর্কে জানা যাবে। এখানে বিশ্বের নানা স্থান থেকে সংগৃহীত ১৪০০ শতাব্দীর ইসলামি শিল্প ও প্রতœতত্ত্ব প্রদর্শনী রয়েছে। আগে এটি শুধু শিল্পকলাকেন্দ্রিক জাদুঘর ছিল। এখন তাতে সংস্কৃতি অংশ যুক্ত হয়েছে।
দোহা উপসাগরের দক্ষিণ প্রান্তের কৃত্রিম উপদ্বীপে দ্য মিউজিয়াম অব ইসলামিক আর্ট বা ইসলামি শিল্পকলা জাদুঘর নির্মাণ করা হয়। এখানে ইসলামি ইতিহাসের বিভিন্ন যুগ অনুযায়ী আলাদা গ্যালারিতে রয়েছে আরব ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র, শিলালিপি, তৈজসপত্র, গহনা, অস্ত্র, পা-ুলিপি। জাদুঘরের পাশাপাশি এখানে রয়েছে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, যেখানে আরবি ও ইংরেজি ভাষার দেড় লাখের বেশি বই রয়েছে। তা ছাড়া বিশ্বের প্রায় ২০০ দুর্লভ বই রয়েছে, যা আর কোথাও পাওয়া যাবে না। সেখানে শিশুদের জন্যও রয়েছে পৃথক পাঠাগার।
৪৫ হাজার বর্গমিটার স্থানজুড়ে নির্মিত পাঁচতলা জাদুঘরের ভেতরের অংশগুলো কাচ দিয়ে সাজানো। এর একপাশ থেকে আরেক পাশে যেতে হয় কাচের তৈরি সিঁড়ি দিয়ে। মাঝখানে রয়েছে ১৬৪ ফুট উঁচু গম্বুজ। ২০০০ সালে জাদুঘরটির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০০৮ সালে, তা সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এর নকশা করেছেন ৯১ বছর বয়সী চীনা বংশোদ্ভূত মার্কিন স্থপতি আইএম পাই। নকশা চূড়ান্ত করার আগে তিনি বিভিন্ন মুসলিম দেশে প্রায় ছয় মাস ভ্রমণ করেন এবং বিভিন্ন জাদুঘর, মুসলিম স্থাপত্য ও ইতিহাস সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন।
