৫ বছরে ক্যাশলেস সোসাইটি গড়তে চান গভর্নর

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২২, ১১:৪৪ পিএম

‘বিনিময়’ চালু করার ফলে রিয়েল টাইমে টাকা পাঠানো ও গ্রহণ করা যাবে। এটি ক্যাশলেস লেনদেনে নতুন মাত্রা যোগ করবে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তোলা যাবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। গতকাল মঙ্গলবার সিরডাপ অডিটরিয়ামে ‘মাইক্রোফাইন্যান্স ইন বাংলাদেশ (অ্যানুয়াল স্ট্যাটিস্টিকস)’ শীর্ষক ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, মাইক্রো রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মো. ফসিউল্লাহ, নির্বাহী পরিচালক লক্ষণ চন্দ্র দেবনাথ, পরিচালক মোহাম্মদ ইয়াকুব হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। গতকাল চারটি ই-সেবা উদ্বোধন করেন গভর্নর। এগুলো হলো: ই-ক্লিপিং, এমআরএর লাইব্রেরি অটোমেশন, ই-আর্কাইভিং এবং এমআরএ ইনফো এপ্লিকেশন।

রউফ তালুকদার বলেন, ক্ষুদ্রঋণের আওতায় সরকারের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলো সহায়তা দিয়ে যাবে। এনজিওগুলোকে প্রফিট মোটিভ থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিদিন ৯০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়। করোনার মধ্যেও মাইক্রো ক্রেডিটকে সামনে রেখে প্রচুর অর্থের জোগান দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বঙ্গবন্ধুর সময়ই জামানতবিহীন ঋণ চালু হয়। এরপর ১৯৯৬ সালে এটি বিকাশ লাভ করে। ক্ষুদ্রঋণের বিষয়ে সবধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

এমআরএর পরিচালক ইয়াকুব হোসেন বলেন, ১৯৭৪ সালে সর্বপ্রথম মাইক্রো ফাইন্যান্স চালু হয়। চলতি বছরের জুন শেষে দেশে ৭৩৯টি মাইক্রো ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাদের ২৩ হাজার ৫৪৩টি শাখা রয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রাহকের পরিমাণ ৩ কোটি ৮২ লাখ ৭০ হাজার। ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি সাইজের প্রতিষ্ঠানগুলোর ফান্ড কম। একই সঙ্গে রয়েছে দক্ষ জনবলের অভাব। এগুলোর পরিচালন ব্যয় কমানোর দিকে মনযোগী হতে হবে।

গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রহিম খান বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের আমানত ২৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। প্রতিদিন ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়। এই ব্যাংকের সদস্যদের ছেলেমেয়েরা চাকরি না পেলে ব্যবসা করার ব্যবস্থা করে দিয়ে থাকি আমরা। এছাড়া এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ভিক্ষুককে অর্থসহায়তা দিয়ে ভিক্ষা করা থেকে ফিরিয়েছি। এরা মারা গেলে ঋণ মওকুফ হয়ে যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং ইনফরমেশন বিভাগের অধ্যাপক মাসুদুর রহমান বলেন, এই খাতে ফান্ডের ঘাটতি থাকার কথা না। নিশ্চয়ই ফান্ড কোথাও আটকে যাচ্ছে। এছাড়া এখানে প্রচুর জনবল রয়েছে। খাতটিতে অনেক অব্যবস্থাপনা রয়েছে। প্রান্তিক এলাকায় ঋণের পরিমাণ বাড়াতে হবে। কোন ব্যাংকগুলো এই খাতে অর্থ সরবরাহ করছে তা দেখতে হবে। একই সঙ্গে প্রভিশন রাখা হচ্ছে কি না তা খেয়াল রাখতে হবে।

এ সময় প্যানেল আলোচকরা বলেন, মাইক্রো ফাইন্যান্স খাতের সুদের হার নিয়ে আলোচনা করতে হবে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে এমএফএসের তুলনা করলে হবে না। এই খাতটিতে ফান্ড একটি বড় সমস্যা। প্রথম দিকে জিরো কুপন বন্ড ছেড়ে অর্থ সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মাইক্রো ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সঞ্চয় ৪০ শতাংশ, অপরদিকে গ্রামীণ ব্যাংকের ১২০ শতাংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত