ফাইনালের মতোই ফাইনাল হলো হকি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা নির্ধারণীতে। ম্যাচের তৃতীয় কোয়ার্টার শেষেও ১ গোলে এগিয়ে ছিল মোনার্ক পদ্মা। অথচ শেষ কোয়ার্টারের নাটকীয়তা এবং পরে পেনাল্টি উত্তেজনায় জিতে শিরোপা নিল একমি চট্টগ্রাম।
টুর্নামেন্টের সেরা দল হয়েও ফাইনালে তারা পিছিয়ে ছিল অনেকটা সময়। চমক দিয়ে ফাইনালে উঠে আসা মোনার্ক পদ্মা শিরোপা জিতে নিয়েছিল প্রায়। কিন্তু চট্টগ্রামের আরশাদ হোসেন উলকা হয়ে আবির্ভূত হন একমির জন্য। নির্ধারিত সময়ে দুইবার পিছিয়ে পড়েও তার গোলে ম্যাচে ফেরে একমি। ৭০ মিনিট শেষে ফাইনাল শেষ হয় ২-২ সমতায়। এরপর পেনাল্টিতে ৪-৩ ব্যবধানে পদ্মাকে হারিয়ে শিরোপা জিতে একমি চট্টগ্রাম।
রেফারির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা, বাগ্বিতন্ডা, উত্তেজনা সব কিছুই ছিল কালকের ফাইনালে। সঙ্গে শেষ মুহূর্তে গোলের রোমাঞ্চ জুড়ে দেয় আরও আনন্দ। ম্যাচের তখন ১ মিনিট বাকি। ২-১ গোলে এগিয়ে শিরোপার জয়ের ক্ষণ গুনছে পদ্মা। ঠিক সেই সময় দলটির হাত থেকে শিরোপা যেন কেড়ে নিলেন আরশাদ হোসেন। তার দ্বিতীয় ফিল্ড গোলে রানার্সআপ হওয়া থেকে বেঁচে যায় একমি।
এর আগে ১৫ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে জাপানি খেলোয়াড় মিয়া তানিমিৎসুর গোলে এগিয়ে যায় মোনার্ক পদ্মা। ৪৩ মিনিটে ফিল্ড গোল করে ম্যাচে সমতায় ফেরে একমি চট্টগ্রাম। গোল করেছেন আরশাদ। ৪৪ মিনিটে রাজিব দাসের পাস থেকে আরশাদের হিট দারুণভাবে রুখে দেন মোনার্ক পদ্মার গোলরক্ষক। পরের মিনিটেই কৃষ্ণা কুমার থেকে ভারতীয় সাইফ খান গোল করলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মোনার্ক পদ্মা।
পেনাল্টিতে একমি চট্টগ্রামের হয়ে গোল করেন পিয়ের হেনরিকস, ফরহাদ শিতুল, বাল্মীকি, কেলারমান। চারটিতেই লক্ষ্যভেদ করেন তারা। বিপরীতে মোনার্ক পদ্মার সি ও হিয়ং, চ্যাংলেসানা, ইয়ান গোভার্স গোল করলেও দুই দেশি খেলোয়াড় নাঈম উদ্দিন ও কৃষ্ণা কুমার গোল মিস করেন।
ম্যাচ শেষে শিরোপাজয়ী অধিনায়ক রেজাউল করিম বাবু জানান, ‘দলের পরিকল্পনা ছিল যে ১, ২ বা ৩ গোলে পিছিয়ে গেলেও হাল ছাড়ব না। সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত থাকব। পেনাল্টির আগে গোলকিপারকে বলা হয়েছিল সে যতটা পারে আত্মবিশ্বাসী থাকুক। একটা সেভ দিলেই আমাদের দিকে ম্যাচ ঘুরে যাবে।’
ওদিকে হারলেও সন্তুষ্টির সুর পদ্মা অধিনায়ক ইমরান হাসান পিন্টুর কণ্ঠে, ‘আমরা ভেবেছিলাম দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতেই পারব না। শেষ পর্যন্ত আমরা ফাইনালে খেলেছি। আজ শেষ চার মিনিটে আমরা নিজেদের আবেগ ধরে রাখতে পারিনি। উত্তেজনার কারণে পুরো ম্যাচে যে গুছিয়ে খেলেছি তা সম্ভব হয়নি। এজন্য হয়ত গোল হজম করেছি। তবে আশা করি এটা আমাদের জন্য একটা শিক্ষা।’
টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন একমির দেবিন্দর বাল্মীকি। ১৮ গোল করে সেরা স্কোরারও তিনি। আর ফাইনাল সেরা হয়েছেন দলটির আরশাদ হোসেন।
