কুমিল্লায় বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে সড়ক-মহাসড়কসহ সকল স্থাপনা ছেয়ে গেছে ব্যানার-ফেস্টুনে। অলিগলিতে প্রচার মাইক, নেতাকর্মীদের গণসংযোগ এবং লিফলেট বিতরণে সরব নগরীসহ গোটা জেলা। এতে নিথর বিএনপি নেতাকর্মীরা এখন উজ্জীবিত। তা ছাড়া বিএনপির এমন কর্মচাঞ্চল্যে সরব রাজনৈতিক অঙ্গনও।
কুমিল্লায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে অন্তত এক লাখ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সমবেত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে দায়িত্বশীলরা। সমাবেশের আয়োজকরা জানান, কুমিল্লা টাউন হল ও আশপাশের সকল সড়কে অবস্থান করবে কুমিল্লার ১৭ উপজেলা ও আশপাশের জেলাগুলো থেকে আগত নেতাকর্মীরা।
স্বাগতিক জেলা কুমিল্লা উত্তর-দক্ষিণ জেলা এবং মহানগর বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যানার ফেস্টুনে তিল ধারণের ঠাঁই নেই কোথাও। বিশেষ করে সমাবেশস্থ কুমিল্লা টাউন হলের আশপাশের ভবনগুলোতে শোভা পাচ্ছে হাজার হাজার ফেস্টুন ও ব্যানার। এদিকে প্রশাসন এবং সরকার দলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হওয়ায় বিএনপির সমাবেশ উৎসবে পরিণত হচ্ছে।
জানা গেছে, কুমিল্লা উত্তর, দক্ষিণ এবং কুমিল্লা মহানগর, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নিয়ে গঠিত বিএনপির কুমিল্লা সাংগঠনিক বিভাগ। এ পাঁচটি ইউনিট নিয়ে ২৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে গণসমাবেশ। পথে পথে বিপুলসংখ্যক ব্যানার ফেস্টুনই জানান দিচ্ছে সমাবেশকে ঘিরে কতটা উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা।
এলাকাবাসী ও স্থানীয়রা বলছে, এত পরিমাণে পোস্টার-ব্যানার গত এক দশকে দেখা যায়নি। ব্যানার-পোস্টার, ফেস্টুন টাঙাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নেতা-কর্মীরা। আর ডিজিটাল ছাপাখানাগুলোতে কাজ চলছে হরদম।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার দাউদকান্দি থেকে কুমিল্লার টাউন এবং আনাচেকানাচে বিভিন্ন উপজেলা থেকে সমাবেশস্থল পর্যন্ত সকল রাস্তার দু'পাশ এবং ভবনের দেয়ালগুলোতে লাগানো হয়েছে হাজার হাজার ব্যানার ফেস্টুন। রংবেরঙের এসব ফেস্টুন ব্যানারে তুলে ধরা হয়েছে কারাবন্দি নেতাদের মুক্তির কথা।
নগরীসহ সাংগঠনিক বিভাগের সবকটি ইউনিটের নেতাকর্মীরা লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। টাউন হল মাঠে চলছে মঞ্চ তৈরি, ব্যানার ও পোস্টার লাগানোর কাজ। বিএনপি চেয়্যারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান মুক্তি দাবি করে পোস্টার লাগাচ্ছে দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া নগরীর টাউন হল মাঠ প্রস্তুতের কাজ তদারকি করছেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক কুমিল্লা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াছিন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক উৎবাতুল বারী আবু এবং সদস্যসচিব ইউসুফ মোল্লা টিপুসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নিচ্ছেন। এ ছাড়া সমাবেশ সফল করতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেছেন সিটি নির্বাচনে বহিষ্কৃত সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার।
এদিকে গণসমাবেশের দিন যতই এগিয়ে আসছে ততই নগরীসহ গোটা জেলা, উপজেলা, পৌর এলাকা ও ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরব হচ্ছেন নেতাকর্মীরা। কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, সমাবেশকে ঘিরে উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা, তাই মনের আনন্দে তারা ব্যানার ফেস্টুন লাগাচ্ছে, আমরাও তাদের উৎসাহে বাধা দিচ্ছি না, সমাবেশেকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মাঝে প্রান ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, কুমিল্লা হচ্ছে বিএনপির উর্বর ভূমি, সরকারের দমন নিপীড়নের কারণে নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন যাবৎ কোণঠাসা ছিল, কিন্তু আমাদের দল সুসংগঠিত ছিল, এখনো আছে, সামনের দিনগুলোতে দানব সরকারের বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়াব। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে যেকোনো আন্দোলন সংগ্রামে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত আছি।
কেন্দ্রীয় বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াছিন বলেন, রাতে নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি পুলিশ গিয়ে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে, এসব করে জনস্রোত ঠেকানো যাবে না, পরিবহন ধর্মঘট দিলেও কোনো লাভ হবে না, কোনো বাধাই বিএনপির নেতাকর্মীদের রুখতে পারবে না। কুমিল্লার গণসমাবেশ সফল এবং সার্থক হবে।
