২০১৪ এবং ২০১৬-১৭ সময়গুলো বেশ ভালোই কেটেছিল কেইলর নাভাস ও আলভারো মোরাতার। রিয়াল মাদ্রিদের সাদা জার্সিতে দুই সতীর্থের বন্ধুত্ব বাড়ে। একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন বিপক্ষকে হারানোর অভিযানে। একসঙ্গে জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগও। এরপর দুজনের দুই পথ দুদিকে চলে যাওয়া। মোরাতা এখন আতলেতিকো মাদ্রিদ আর নাভাস পিএসজিতে। এতদিন পর সময় আবারও দুজনকে এক করেছে। বিশ্বকাপে স্পেন-কোস্টারিকা
ম্যাচে দেখা হচ্ছে দুজনের। তবে এ দেখা আগের মতো নয়। ম্যাচের আগে-পরে শুভেচ্ছা বিনিময় ছাড়া আর দুজনই প্রতিপক্ষ। মোরাতা চাইবেন নাভাসকে হারাতে, নাভাস চাইবেন মোরাতাকে রুখতে। এ লড়াইয়ের হার-জিত পথ করে দেবে স্পেন-কোস্টারিকার সাফল্য-ব্যর্থতার।
লড়াইটা শুধু এ দুজনে সীমাবদ্ধ নয়। রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান তারকা মার্কো অ্যাসেনসিও আছেন। এই অ্যাসেনসিওর সঙ্গেও কোস্টারিকা অধিনায়ক নাভাস একসঙ্গে খেলেছেন। জিতেছেন টানা দুই চ্যাম্পিয়নস লিগ। তাই মোরাতার পাশাপাশি অপর সাবেক সতীর্থ ও বন্ধু অ্যাসেনসিও-ও নাভাসের আজকের চিন্তার কারণ। স্পেন-কোস্টারিকা ম্যাচের মাঝে ছোট এ লড়াইগুলো উপভোগ্য হবে নিশ্চিত।
বিশ্বকাপটা অবশ্যই জয়ে শুরু করতে চাইবে দুই দল। এই সুযোগ আলিঙ্গনের সুযোগ বেশি স্পেনের। আসরে ‘ই’ গ্রুপ ইতিমধ্যে ডেথ গ্রুপের তকমা পেয়েছে। সেখানে স্পেন-কোস্টারিকার বাকি দুই প্রতিপক্ষ জার্মানি, জাপান। অন্য ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে এ দুই দল। সেদিক থেকে প্রথম ম্যাচ স্পেনের জন্য সহজ। আর তাই জয়ের সুযোগটা পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করতে চাইবে তারা। দুই দল বিশ্বকাপে এই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে। এর আগে তিনটি প্রীতি ম্যাচ লড়েছে স্পেন-কোস্টারিকা। ২০১৫ ও ২০১৭ সালে জিতেছিল স্পেন। তবে ২০১১ সালের লড়াইয়ে ২-২ এ ড্র করে কোস্টারিকা।
তবে সমস্যাটা দলটির ভাগ্যে। আর কোনো দল বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্পেনের মতো সাতবার হারেনি। হেড কোচ লুই এনরিকে এই অতীতটাও জানেন। এর পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সব চেষ্টাই থাকবে তার। এনরিকেকে সাহস জোগাচ্ছে তারুণ্য ও প্রতিভার ভরপুর এক দল। তাদের মধ্যে পেদ্রি ও আনসু ফাতি অন্যতম। তাদের নিয়ে নিজের অপূর্ণ আশা পূরণ করতে চান এনরিকে। ১৯৯৪ থেকে ২০০২ পর্যন্ত স্পেনের জার্সিতে ১৪ ম্যাচ খেলেছেন এনরিকে। কোনোবারই দল নিয়ে কোয়ার্টারে ওঠা হয়নি তার। কোচ হয়ে সেই অপূর্ণতা কাটাতে চান স্প্যানিশ কোচ। তাই লক্ষ্য রেখেছেন সাত ম্যাচ খেলার, ‘আমাদের লক্ষ্য কাতারে সাতটি ম্যাচ খেলা। আমাদের তরুণ দলটির যে স্পৃহা ও আত্মবিশ্বাস আছে। আমরা অবশ্যই লক্ষ্য ছুঁতে পারব।’
এনরিকে বললেও তার পরিকল্পনায় দুর্বলতা আছে। শক্ত ডিফেন্সিভ খেলা দলের সামনে দ্বিতীয় পরিকল্পনা করে উঠতে পারে না স্পেন। বরং হাই স্কোরিং ম্যাচেই স্পেনের স্বচ্ছন্দ বেশি। যার প্রমাণ এ বছরের ম্যাচগুলোতেই আছে। গ্রিস, সুইজারল্যান্ড, সুইডেনের মতো দলগুলোর সঙ্গে ১ গোলের বেশি ব্যবধানে জিততে পারেনি স্প্যানিশরা। এছাড়া চেক রিপাবলিকের সঙ্গে ২-২, পর্তুগালের কাছে ১-১ ড্র আবার সুইসদের কাছে নেশন্স লিগের ম্যাচে ২-১ গোলে হারের লজ্জাও আছে।
কোস্টারিকা এই পরিকল্পনা নিয়েই নামবে। এমনিতেও বড় দলের সঙ্গে ছোট দলের পার্থক্যটা তাকে ডিফেন্সিভ খেলায়। ছোট দল অতিমাত্রায় রক্ষণাত্মক খেলে অপেক্ষায় থাকে কাউন্টার অ্যাটাকের। কোস্টারিকা স্পেনকে সেই ফাঁদে ফেলতে চায়। এইদিকে দলটি বেশ পটু। বড় দলকে বড় আসরে নিয়মিতই হতাশ করে কোস্টারিকা। ২০১৪ বিশ্বকাপে ডি গ্রুপে উরুগুয়ে, ইতালি ও ইংল্যান্ডের মতো দলকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় রাউন্ডে যায় তারা। পরে গ্রিসকে পেনাল্টিতে হারিয়ে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালেও খেলে। ওই ম্যাচেও নেদারল্যান্ডসের কাছে নির্ধারিত সময়ে হারেনি কোস্টারিকা। গোলশূন্য ড্রয়ের পর পেনাল্টিতে ৪-৩-এ হার হজম করে। ওই বিশ্বকাপের সাফল্য কোস্টারিকাকে বড় মঞ্চের জন্য ভালোভাবেই প্রস্তুত করে।
এই আসরে পা রাখার আগে কোস্টারিকা ১১ নভেম্বর নাইজেরিয়াকে ২-০তে হারিয়ে এসেছে। এছাড়া সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ১৩ ম্যাচে মাত্র একটি হারের ফল দলটির মনোবল বাড়িয়েছে। বাছাইপর্বের লড়াইয়ে গোলের হিসাবে স্পেনের সঙ্গে তাদের পার্থক্য খুব একটা নেই। স্প্যানিশরা ইউরোপিয়ান বাছাইয়ে ৮ ম্যাচে করেছেন ১৫ গোল। বিপরীতে কনকাকাফ অঞ্চলের বাছাইয়ে কোস্টারিকা করেছে ১৪ ম্যাচে ১৩ গোল।
গোলের সংখ্যায় পার্থক্য না থাকলেও বিপক্ষের মানে তফাত ছিল অবশ্যই। এই তফাতটা দুই দলের ওই ছোট লড়াইয়ে নেই। বিশ্বমানের গোলরক্ষক নাভাসের আর মোরাতা-অ্যাসেনসিওর মতো স্ট্রাইকারদের লড়াই আজ উপভোগ্য হবে বেশ।
