এমন মেলবন্ধন বিশ্বকাপে খুব কমই দেখা যায়। ‘বি’ গ্রুপে একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইংল্যান্ড, আছে ওয়েলসও। যারা গ্রেট ব্রিটেনের সহ-রাজ্য। গ্রুপের প্রতি ম্যাচে তাই খেলার দ্বৈরথের পাশাপাশি রাজনৈতিক মিল-অমিলও উপস্থিত। আজ রাতে ইংল্যান্ড-যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচে থাকছে ‘মিল’-এর বিষয়টি। বিশ্ব রাজনীতির সব বিষয়ে একমত হওয়া জুটি মাঠের লড়াইয়ে নামবে একে অপরকে হারাতে। রাজনীতির মাঠের দুই বন্ধুর দ্বৈরথ কোন আনন্দ উপহার দেয় সেটাই দেখার।
ফুটবলে দু’দলের লড়াই উপভোগ্য হলেও অতীতে চিত্রটা এমন ছিল না। যুক্তরাষ্ট্র ১৯৩০-৩৮ তিন বিশ্বকাপ খেললেও নিয়মিত হয়েছে অনেক পড়ে। ইংল্যান্ড আবার বিশ্বকাপই খেলেছে ১৯৫০ থেকে। দু’দলের লড়াইয়ে সবসময় ইংল্যান্ড মাঠে নামে ফেভারিট হয়ে।
এ পর্যন্ত মূল আসরে দু’বার দেখা হয়েছিল। ১৯৫০ বিশ্বকাপে প্রথম দেখায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইংল্যান্ডের ১-০ গোলের হার বিশ্বকাপে সেরা অঘটনের একটি হয়ে আছে আজো। এরপর ২০১০-এ দ্বিতীয়বার লড়াইয়ে নেমে ১-১ ব্যবধানে ড্র করে দু’দল। অথচ এ দুই ম্যাচের বাইরে ৯ দেখায় ৮ বারই জিতেছে থ্রি লায়ন্সরা। এর মধ্যে ১৯৬৪ সালের এক ম্যাচে ১০-০ গোলে জয়ের রেকর্ডও আছে। তবুও বিশ্বকাপ ম্যাচ বলে অতীত ভয় দাগ কাটবে ইংল্যান্ডের মনে।
আজ হারলে তাদের বিশ্বকাপ প্রায় শেষের দিকেই চলে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র গোলরক্ষক ম্যাট টার্নার এই ভয় করছেন না। বরং বুক চিতিয়ে ইংল্যান্ডকে থামানোর বিশ্বাস নিচ্ছেন প্রথম ম্যাচের লড়াই থেকে, ‘ওয়েলসের সঙ্গে আমরা জয় দিয়েই শুরু করতাম। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে কিছু সুযোগ মিস করায় আমরা গোল পাইনি। আমরা যে সুযোগগুলো পেয়েছি তাকে কাজে লাগাতে আমাদের পরিকল্পনা নিয়ে আরও স্পষ্ট হতে হবে। শেষ মুহূর্তে সবসময় ছোট সুযোগই আসবে। ওগুলোই কাজে লাগাতে হবে। আমরা জানি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সুযোগ পাওয়া আরও কঠিন হবে এবং গোল পেতে চাইলে আরও ক্লিনিক্যাল হতে হবে আমাদের।’
বিশ্বকাপ পর্বের মাঝপথে। এখান থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে পা রাখার লড়াই শুরু। সহজ পথে এগিয়ে যেতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রকে হারানোই ইংল্যান্ডের একমাত্র পথ। ইংল্যান্ডের এই চ্যালেঞ্জ যুক্তরাষ্ট্র থামাতে পারবে তো।
