আঁচ মিলছে আগুনে লড়াইয়ের

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১২:১৮ এএম

ব্রাজিলকে হারাতে লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে উপস্থিত একঝাঁক আর্জেন্টাইন সমর্থক। সার্বিয়ার হয়ে গলা ফাটিয়ে অবশ্য লাভ হয়নি। চিরবৈরীরা পেয়েছে উড়ন্ত সূচনা। আবার আর্জেন্টিনা-সৌদি আরব ম্যাচে দেখা গেছে মেক্সিকো, উরুগুয়ের এক দল সমর্থককে সৌদির হয়ে গলা ফাটাতে। লাতিন দেশগুলোর ফুটবল বৈরিতার বাস্তব রূপটা এমনই। সেটা আরও আগুনে রূপ পায় মুখোমুখি লড়াইয়ে। গত দুদিন ধরে যেমনটা হচ্ছে দোহার পথে-প্রান্তরে, আজকের আর্জেন্টিনা-মেক্সিকো ম্যাচকে ঘিরে। ‘সি’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হবে প্রতিবেশী দেশ দু’টি। এই ম্যাচে নির্ভর করছে লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ ভাগ্য। সৌদি আরবের কাছে অঘটনের শিকার হওয়া আর্জেন্টিনাকে শেষ ষোলতে যেতে শেষ দুই ম্যাচে জিততেই হবে। তার আগে দুই লাতিন দেশের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা এক আগুনে ম্যাচের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

লাতিন ফুটবল যেমন সর্বজয়ী প্রমাণিত, ঠিক তেমনই এই অঞ্চলের মানুষের ফুটবল নিয়ে আকাশছোঁয়া উন্মাদনার কথাও অজানা নয়। নান্দনিক ফুটবলে মাঠ মাতাবেন ফুটবলাররা। আর গ্যালারি রাঙানোর দায়িত্ব সমর্থকদের। বর্ণিল সাজে তারা আসবেন গ্যালারিতে। নেচে-গেয়ে, গলা ফাটিয়ে নিজ দলকে জানিয়ে যাবেন অকুণ্ঠ সমর্থন। কাতারেও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। নানা প্রতিবন্ধকতার ধোয়া তুলে পশ্চিমা সমর্থক উপস্থিতি সেভাবে চোখে পড়ছে না। বিয়ার-হুইস্কি মিলছে না যত্রতত্র। পোশাকেও আছে নানা বিধিনিষেধ। রক্ষণশীল দেশটিতে মিলছে না যৌনতার অবারিত সুযোগ। তাই পশ্চিমাদের এমন মুখ ফিরিয়ে থাকা। দক্ষিণ আমেরিকার সমর্থকরা অবশ্য এসবের ধারধারে না। তাদের কাছে ফুটবলই সবচেয়ে বড় বিনোদন। তাই তো দোহার অলিগলি-রাজপথ তাদের দখলে। আর সংখ্যায় বেশি বলেই মাঝে মধ্যে ঘটছে নানা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা।

সৌদি অঘটনের শিকার হওয়ার পর এমনিতেই আর্জেন্টাইনদের আনন্দযাত্রা বদলে গিয়েছিল শবযাত্রায়। এমন হারে বিশ্বকাপ শুরুর পর ভালো কথাও তেতো মনে হবে। সেদিন আর্জেন্টাইনদের অবস্থাও ছিল তাই। সব হারানোর হতাশা যেন গ্রাস করছিল তাদের। এর মধ্যেই মেক্সিকান এক দল সমর্থক বুলিংয়ে মেতে ওঠে পথ চলতি আর্জেন্টাইনদের। একটা পর্যায়ে তাদের রং-তামাশা সীমা ছাড়ায়। আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে নিয়ে যেই না বাজে মন্তব্য কানে এসেছে অমনি লেগে যায় হাতাহাতি-মারামারি। যে ভিডিও এখন ঘুরছে নেট দুনিয়ায়।

দু’দিন আগের চিত্র যদি এমন হয়, তবে লুসাইলে আজ কী হবে? এমনিতেই সৌদি ঝড়ে মেসিদের সাজানো ঘর তছনছ হয়ে গেছে। দারুণ ছন্দে থেকে বিশ্বকাপে এসে প্রথম ম্যাচেই হারাতে হয়েছে কক্ষপথ। সেটাও গ্রুপের দুর্বলতম প্রতিপক্ষের কাছে হেরে। মেক্সিকোও খুব যে ভালো আছে তাও নয়। পোল্যান্ডের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ে তাদের পকেটে আছে এক পয়েন্ট। দ্বিতীয়পর্বের টিকিট পেতে আজ তাদেরও চাই তিন পয়েন্ট। লুসাইল স্টেডিয়ামে তাই দু’দলই লড়বে জয়ে চোখ রেখে। গ্যালারি থেকে যা দেখার সুযোগ পাবে দু’দেশের ৮০ হাজার দর্শক। এর আগে দু’দলের সমর্থকদের রাজপথের সংঘর্ষে বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা। শেষ পর্যন্ত লড়াইটা মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকলে হয়। লুসাইলে ব্রাজিল-সার্বিয়া ম্যাচ দেখতে এসে মেক্সিকান সমর্থক অ্যালেক্সের কথায় শঙ্কাটা আরও বেড়ে যাচ্ছে, ‘এবার আমরা অনেক দূর যেতে চাই। তার জন্য ফুটবলাররা তাদের সেরাটা যেমন উজাড় করে দিচ্ছে, আমরাও সম্ভাব্য সব কিছু করেই সমর্থন জানাচ্ছি দলকে। এমনই থাকবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও। দেখি তারা কীভাবে আমাদের হারায়।’ 

এর মধ্যেই মেক্সিকো ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে পড়তে হয়েছে উটকো ঝামেলায়। পোল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে মেক্সিকান সমর্থকদের বিরুদ্ধে উঠেছে বৈষম্যমূলক সেøাগান দেওয়ার অভিযোগ। যার তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্বেষমূলক আচরণে ফিফার শাস্তিও পেতে হয়েছিল মেক্সিকো ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে। সেই শাস্তি উঠলেও নতুন করে তাদের বিপাকে পড়তে হবে সমর্থকদের কারণে। তাই তারাও সমর্থকদের জন্য দিয়েছে সতর্কবার্তা। সমর্থনটা যাতে কোনো অবস্থাতেই সীমা না ছাড়ায়। তবে একেবারেই যে কিছু হবে না, তা আগেভাগে বলা কঠিন। মাঠ থেকে নিশ্চয় মেসিদের কানে পৌঁছাবে মেক্সিকান সমর্থকদের তির্যক উক্তি। আর্জেন্টাইনরাও হয়তো সেøাগানে সেøাগানে ভাঙতে চাইবেন আর্জেন্টাইনাদের মনোবল। মেক্সিকো আজ হারলেও শেষ একটা সুযোগ থাকবে। যেটা থাকবে আর্জেন্টিনার।

এমনিতেই ভীষণ চাপে থাকা মেসিদের মাঠের প্রতিপক্ষ সামলানোর পাশাপাশি সামলাতে হবে মেক্সিকান সমর্থকদেরও। পেতে হবে গোল ও অতি আবশ্যকীয় জয়। তা না হলে...।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত