নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে আখ মাড়াই কর্মসূচি উদ্বোধন

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১০:৪৮ পিএম

 শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এমপি আজ শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের উদ্যোগে নাটোরে অবস্থিত 'নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল'-এর কেইন ক্যারিয়ারে আখ নিক্ষেপের মাধ্যমে ২০২২-২০২৩ মৌসুমের আখ মাড়াই কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের এটি ৯০তম আখ মাড়াই কার্যক্রম।

এ সময় শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার; নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম বকুল, নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস, শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা, বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান (গ্রেড-১) আরিফুর রহমান অপু, বিএসএফআইসির সচিব চৌধুরী রুহুল আমিন কায়সার, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো আনিসুল আজমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় আখচাষিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কেইন কেরিয়ার প্রাঙ্গণে আলোচনাসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নর্থ বেঙ্গল চিনিকলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের চিনিকলের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি আখ চাষে কম্বাইন্ড হার্ভেস্টারের ব্যবহার নতুন যুগের সূচনা হলো বলে জানান বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান (গ্রেড-১) আরিফুর রহমান অপু। আখ কর্তন কাজে শ্রমিক মজুরি ব্যয় কমানোর স্বার্থে KAFKO এর সহযোগিতায় এ চিনিকলের বাণিজ্যিক খামারে কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার ব্যবহারের ফলে আসন্ন ২০২২-২৩ মাড়াই মৌসুমে ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা আখ কর্তন কাজে শ্রমিক মজুরি ব্যয় সাশ্রয় হবে।

২০২২-২০২৩ আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী বলেন, একটি জাতিকে উন্নত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে শিল্প-কারখানার যে বিকল্প নেই তা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন, এদের উন্নতি না হলে দেশের উন্নতি হবে না, স্বাধীনতার সুফল আসবে না। বঙ্গবন্ধুর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ছিল কৃষিকে প্রাধান্য দেওয়া। বিশেষ করে শিল্পভিত্তিক কৃষি। পাকিস্তানি শাসনামলে এ দেশে বিশেষত দেশের উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে শিল্পের তেমন প্রসার ছিল না। একমাত্র চিনিশিল্পই ছিল এখানকার সম্পদ; যার বেশির ভাগই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ব্রিটিশ আমলে। তাই দেশ গড়ার দিকে নজর দিয়ে তিনি চিনিশিল্পকে নতুন করে সাজানোর জন্য জোর দিয়েছিলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, আখের ফলন বৃদ্ধিতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কম্পানি বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় বন্ধু সেবা অ্যাপের সাহায্যে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন এসএমএস এর মাধ্যমে অ্যাপটির ডাটাবেজে সংরক্ষিত প্রায় ৬৫ হাজারের বেশি আখচাষিকে আখের পরিচর্যার জন্য কখন কি করণীয় ও আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্যাদি তাৎক্ষণিকভাবে এসএমএম এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক 'হ্যালো চাষী অ্যাপে' সংরক্ষিত ডাটাবেজে বিদ্যমান মোবাইলে নম্বরে সারাসরি ফোন দিয়ে আখচাষিদের সাথে কথা বলে তাদের সমস্যা অবহিত হওয়া এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা সমাধানের জন্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও চাষিদের আখ চাষে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে আখের মূল্য বৃদ্ধি করে মিল গেটে প্রতি কুইন্টাল ৩৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা এবং বহি কেন্দ্রে ৩৪৩ টাকা থেকে ৪৪০ টাকা করা হয়েছে। আখের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি ভবিষ্যতেও পর্যায়ক্রমে পুনর্নির্ধারণ করা হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত