প্রতারণা সত্ত্বেও বাড়ছে ই-কমার্সে বেচাকেনা

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১১:১৩ পিএম

কভিড মহামারীর কারণে দেশ লকডাউনে গেলে মানুষ বাধ্য হয়েই অনলাইন কেনাকাটায় ঝুঁকে পড়ে। এতে জনপ্রিয় হতে থাকে ই-কমার্স খাত। কিন্তু গত বছরের জুলাই থেকে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউকম, ধামাকা শপিং ও দালাল প্লাসের মতো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসতে থাকে। এতে এই খাত থেকে আস্থা হারায় গ্রাহকরা। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও আইনের কারণে সুরক্ষা বাড়ায় আস্থা ফিরতে শুরু করায় ই-কমার্সে কেনাবেচা বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ই-কমার্সে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৮৬ কোটি টাকা। অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ জুলাই মাসে যার পরিমাণ ছিল ৯৯২ কোটি টাকা। সে হিসাবে দুই মাসে ই-কমার্সে লেনদেন বেড়েছে ৯৪ কোটি টাকা। দুই বছরের ব্যবধানে ই-কমার্সে লেনদেন বেড়েছে ১৬৭ শতাংশ।

মুন্সিব্জি ডটকমের হাত ধরে ২০০০ সালে দেশে ই-কমার্সের যাত্রা শুরু হয়। ২০০৯ সাল থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অভিযাত্রায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবিধা শহর থেকে গ্রামেও বিস্তৃত হলে ই-কমার্সের সম্প্রসারণ হয়। এ সময় সেলবাজার ডটকম, এখানেই ডটকমসহ বেশ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দেশে অনলাইন কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত হয়। কিন্তু ইন্টারনেটের গতি কম থাকাসহ নানা কারণে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০১২ সালে বিক্রয় ডটকম ও ২০১৪ সালে দারাজের মতো প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের হাত ধরেই দেশে ই-কমার্স ব্যবসা এগিয়ে যায়।

২০২০ সালে কভিড-পরবর্তী সময়ে মানুষ বাধ্য হয়েই ই-কমার্সে ঝুঁকে। এতে খাতটি জনপ্রিয় হতে শুরু করে। এ সময় ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউকম, ধামাকা শপিং ও দালাল প্লাসের মতো প্রতিষ্ঠান অস্বাভাবিক ডিসকাউন্টের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি শুরু করে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কেনাকাটা বাড়ে কয়েকগুণ। আর এই সুযোগেই প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা শুরু করে। অধিক ক্রয়াদেশ নিলেও গ্রাহকদের পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানগুলো। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার হস্তক্ষেপ করে। গ্রেপ্তার হতে থাকেন একে একে প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত কর্তাব্যক্তিরা। আর জনপ্রিয়তা হারায় দেশের ই-কমার্স খাত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের জুনে ই-কমার্সে লেনদেন বেড়ে রেকর্ড ১ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা হয়েছিল। কিন্তু ই-কমার্স প্রতারণার প্রভাবে এক মাসের ব্যবধানে তা কমে দাঁড়ায় ৭৪২ কোটি টাকায়। তবে সরকারের ডিজিটাল কমার্স আইন ২০২১ প্রণয়নের পর চলতি বছরের এপ্রিলে আবার হাজার কোটির মাইলফলক স্পর্শ করে এই খাতের বেচাকেনা। ধীরে ধীরে ওই প্রতারণার প্রভাব কমে এই খাতের আস্থা ফিরছে।

এদিকে, দেশ ডিজিটাল হওয়ার সুবাদে ব্যাংকে দীর্ঘ লাইন এড়াতে ডিজিটাল মেশিনগুলোতে আগ্রহ বাড়ছে ব্যাংক গ্রাহকদের। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা তোলার ভোগান্তি কমাতে ২৬ বছর আগে অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) চালু হয়েছিল। আর আট বছর আগে চালু হয় টাকা জমা নেওয়ার ক্যাশ ডিপোজিট মেশিন (সিডিএম)। করোনা মহামারীর সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা ও উত্তোলনের উভয় সুবিধাসম্পন্ন ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিনও (সিআরএম) চালু হয়েছে। গ্রাহকদের সুবিধার জন্য ব্যাংকগুলো এখন তাদের এটিএমগুলোকে সিআরএম-এ রূপান্তরিত করছে। এতে জনপ্রিয়তা বাড়ছে আধুনিক এই যন্ত্রের।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক শেষে ব্যাংক খাতে এই যন্ত্রের মাধ্যমে টাকা জমা ও উত্তোলন করা হয়েছে ৬ হাজার ৩২২ কোটি টাকা। যা দুই বছর আগের চেয়ে ৮৩৫ শতাংশ বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

একই সময়ে দেশের ব্যাংকগুলো এই যন্ত্রের ব্যবহারও বাড়িয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর শেষে দেশের ব্যাংক খাতে সিআরএমের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১১৮টি। দুই বছর আগে অর্থাৎ ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর শেষে এর পরিমাণ ছিল ৪৪৪টি। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে দেশের ব্যাংকগুলো সিআরএমের সংখ্যা বাড়িয়েছে ৩৭৭ শতাংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত