'আ.লীগ পরিকল্পিতভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করছে'

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৫৫ পিএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের অবৈধ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে পরিকল্পিতভাবেই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নজিরবিহীন দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছে। অর্থনীতি চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। তাই শিগগিরই সামগ্রিক আর্থিক খাতের দুর্নীতির বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন তৈরি করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরবে বিএনপি।’

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

সোমবার অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভার সিদ্ধান্ত জানাতে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গত এক যুগে সীমাহীন দুর্নীতির শিকার দেশের রাষ্ট্রয়ত্ব ব্যাংকগুলোর অধিকাংশ ক্রমশঃ দূর্বল হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েকটি কাগুজে কোম্পানিকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ায় এ ঘটনার নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় সভায়।’

তিনি বলেন, ‘পূর্ব ঘোষিত ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশের স্থান নির্বাচন নিয়ে এই অবৈধ সরকারের দূরভিসন্ধিমূলক তৎপরতা নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। সভায় গণসমাবেশ নয়া পল্টনে করার সিদ্ধান্ত পূর্ণব্যক্ত করা হয়। সব দূরভিসন্ধি, বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে রাজশাহী ও ঢাকায় গণসমাবেশ সফল করতে জনগণকে আহ্বান জানানো হয়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চলমান গণ আন্দোলন দমন করার লক্ষ্যে অবৈধ সরকার পুলিশকে ব্যবহার করে ব্যাপকহারে পুনরায় সাজানো গায়েবি নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলা দিচ্ছে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। প্রতিদিন অসংখ্য নেতা-কর্মীদের বাড়ি-বাড়ি তল্লাশি ও হয়রানি করছে। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে প্রায় ৬ শতাধিক। মামলা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। একদিকে কোথাও বাধা দেওয়া হবে না বলেও নির্বিচারে আটক ও গ্রেপ্তার চালাচ্ছে পুলিশ। সভা এই ধরনের নিকৃষ্ট দমন নীতির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।

সভায় অবিলম্বে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা বন্ধ করে, মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবি এবং গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের মুক্তির আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় উদ্ভূত পরিস্থিতির সকল দায় এই অবৈধ সরকারকে বহন করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের আওতায় গ্রেপ্তারকৃত মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, একই আইনে রাজবাড়ীর স্মৃতি বেগম এবং মুন্সিগঞ্জের সদস্য সচিব কামরুজ্জামান রতনসহ আটক নেতা-কর্মীদের মুক্তি দাবি করা হয় সভায়। এছাড়া সিলেট মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক ওয়ার্ড ২৭ থেকে ৪২টিতে বর্ধিতকরণের প্রস্তাব গৃহীত হয়।’

স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভায় উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত