আগামী ৪ ডিসেম্বর পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠেয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা চট্টগ্রামে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী নিজের হাতে চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন। একের পর এক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। তাই চট্টগ্রামবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে একটি ঐতিহাসিক জনসভা উপহার দেবে।
পলোগ্রাউন্ড মাঠের জনসভা সফল করতে শুক্রবার সকালে নগরীর জামালখানে সিনিয়র্স ক্লাবে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এসব বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামবাসীর জন্য অনেক করেছেন। তিনি ক্ষমতায় আসার পর চট্টগ্রামে একের পর এক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। দেশের সব ইপিজেড মিলে জায়গার পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন হাজার একর। আর চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে জায়গার পরিমাণ হচ্ছে ৩০ হাজার একর। এ ছাড়া আরো অনেক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তাই আমরা আশা করছি, কেবল পলোগ্রাউন্ড মাঠ নয় আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাও জনসভা উপলক্ষে লোকে-লোকারণ্য হয়ে যাবে। শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়ে চট্টগ্রামবাসী একটি ঐতিহাসিক জনসভা উপহার দেবে।
দলীয় জনসভার জন্য আওয়ামী লীগ সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছে না মন্তব্য করে দলের এই নেতা বলেন, আগেও আওয়ামী লীগ এটা করেনি। বরং যেহেতু তিনি প্রধানমন্ত্রী, তাই যেসব জনসভায় তিনি যান সেখানে আমাদের অসুবিধা হয়। প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তায় এসএসএফ থাকে। যারাই সমাবেশে আসেন সবাইকে নিরাপত্তার জন্য পরীক্ষা করে তারপর ঢোকানো হয়। এই ঝামেলা এড়াতে অনেকে ভেতরে ঢোকে না। এ ছাড়া আরো অনেক অসুবিধা রয়েছে।
একই স্থানে গত ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের পাল্টা কর্মসূচি হিসাবে আওয়ামী লীগ এ জনসভা করছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নেতারা বলেন, ওনাদের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সচিব পর্যায়ের লোক আর আমাদের সমাবেশে দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের সঙ্গে আমাদের জেলার জনসভার কোনো তুলনা হয় না।
আগামী ৪ ডিসেম্বর নগরের পলোগ্রাউন্ড ময়দানে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জনসভা হবে, যাতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ১২ অক্টোবর একই মাঠে বিভাগীয় সমাবেশ করে বিএনপি। আওয়ামী লীগের জনসভা বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের পাল্টা কর্মসূচি কি না জানতে চাইলে স্বপন বলেন, ‘পলোগ্রাউন্ডে বিএনপি যে সমাবেশ করেছে সেটি ছিল বিভাগীয় মহাসমাবেশ। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগের জনসভার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি জেলার জনসভা। বিভাগীয় মহাসমাবেশের সঙ্গে জনসভার তুলনা কিংবা পাল্টা কর্মসূচি হয় না। বিএনপির সমাবেশে তাদের দলের সচিব পর্যায়ের লোকজন থাকেন। আর আমাদের জনসভায় থাকবেন দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’
ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, বরং তাদের সমাবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, উত্তর জেলা সভাপতি এম এ সালাম, কেন্দ্রীয় উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে জনসভা সফল করতে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ ও যুবলীগ প্রায় এক হাজার সাইকেল নিয়ে র্যালি করেছে। সিআরবি সাত রাস্তার মোড় থেকে শুরু হয়ে র্যালিটি নগরীর বিভিন্ন সড়কই প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে অংশ নেয়া মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নুরুল আজিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে পুরো চট্টগ্রাম এখন আনন্দে ভাসছে। ৪ ডিসেম্বর পলোগ্রাউন্ডের জনসভায় তার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।
