সংবিধান পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংবিধান পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই। কাজেই তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে দিবাস্বপ্ন; রঙিন খোয়াব দেখে লাভ নেই।’
গতকাল শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের সঞ্চালনায় ও সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। এ সময় প্রধান বক্তা ছিলেন সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।
সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি কেন সোহরাওয়ার্দী মাঠকে বাদ দিয়ে নয়া পল্টনে জনসভা করতে চায় তার কারণ আমরা সবাই জানি। গত নির্বাচনের আগেও তো বেগম জিয়াও এখানে মিটিং করেছেন। কিন্তু ফখরুল আপনি কেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চান না! ধরা পড়ে গেছেন, ধরা পড়ে গেছেন! স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আপনার মধ্যে নেই তা আবারও প্রমাণিত হলো। এ কারণেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চাচ্ছেন না ফখরুল।’
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান লন্ডনের টেমস নদীর তীরে বসে বাণী পাঠাচ্ছেন আর দেশে বসে ফখরুল হুঙ্কার ছাড়ছেন’ শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবে, মন্ত্রীরা সবাই দেশত্যাগ করবে এটা কখনো হবে না। আওয়ামী লীগ কাউকে ভয় পায় না, শেখ হাসিনা কাউকে ভয় পায় না। আওয়ামী লীগ ভয় পায় আপনাদের আগুন সন্ত্রাস, লাঠি নিয়ে খেলাধুলাকে। সেই বদমতলব আপনাদের আছে। সে জন্যই আপনাদের পল্টন দরকার।
রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি খবর পেয়েছি বিএনপির রাজশাহীর সমাবেশ সুপার ফ্লপ। ফখরুল হুঙ্কার ছুড়ছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবেশের ছবিটি একটু দেখতে বলবেন।’
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘১০ ডিসেম্বর যখন চলে যাবে, জানি অবরোধ দেবেন, জানি ধর্মঘট দেবেন, জানি আবারও আগুন-সন্ত্রাস শুরু করবেন, জানি আবারও লাঠিখেলা করবেন। আমরা কি চুপ করে বসে থাকব?’
গণমাধ্যমের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা এত বড় বড় জনসভা করি, কিন্তু কিছু মিডিয়া ওভাবে নিউজ দেয় না। এখানে ফখরুল দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিলে পুরো ছবিসহ কোনো কোনো মিডিয়ায় যেত। যারা আমাদের পছন্দ করেন না, তাদের আমি বলেছি আমরা বেশি চাই না। আমাদের ন্যায্য কাভারেজ দেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেন এত বৈরিতা। আমি জানি না। একদিনও কারও বিরুদ্ধে কিছু বলি নাই। কারও নাম বলি নাই। আমার ভাইকে নিয়ে প্রতিদিন ডাবল কলামে নিউজ হতো। আমার ক্ষতি করার জন্য। কী অপরাধ করেছি আমি। এখন তো কোম্পানীগঞ্জে সবাই ঐক্যবদ্ধ। এখন তো নিউজ দেন না।’
বিএনপির সমাবেশে পরিবহন বন্ধ না করতে পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এখনই শুনলাম বিএনপির নেতাকর্মীরা বিছানা, বালিশ শীতের কম্বল, সঙ্গে মশার কয়েল নিয়ে তাঁবু গেড়েছে। এত আগে আসার কী দরকার? আমি পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের অনুরোধ করেছি তারা যেন গাড়ি বন্ধ না করে। তারাও বলেছে গাড়ি বন্ধ করবেন না। ছাত্রলীগের সঙ্গেও যেন কোনো কিছু না ঘটে সে জন্য ছাত্রলীগের সম্মেলন এগিয়ে আনা হয়েছে।’
ঢাবি ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটি এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের কমিটি এক সঙ্গে ঘোষণা করা হবে।’
আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি এক বছর পরপর জেলা শাখার সম্মেলনের কথা থাকলেও কভিড-১৯ মহামারীর কারণে দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। ফলে সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা দেখা যায়। সারাদিন পুরো ক্যাম্পাসে ছিল সাজ সাজ রব; আর উৎসবের আমেজ।
