বিয়ে ছাড়া যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ করে আইন পাস ইন্দোনেশিয়ায়

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:২৭ পিএম

বিয়ে ছাড়া যৌন সম্পর্ক নিষিদ্ধ করে ইন্দোনেশিয়ার সংসদে মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) নতুন একটি আইন পাস হয়েছে। এখন থেকে বিশ্বের বৃহত্তম এ মুসলিম দেশে বিয়ে ছাড়া কিংবা বিয়ের আগে যৌন সম্পর্কের শাস্তি হিসেবে দেওয়া হবে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড।

বিবাহবহির্ভূত সব ধরনের যৌনতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) নতুন এই আইন পাস করা হয়। এ পদক্ষেপকে পরিবর্তনের একটি অংশ হিসেবে দেখছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এবং বিশেষকরে মুসলিম দেশগুলোতে  বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। কোথাও রয়েছে জরিমানা, আবার কোথাও রয়েছে কারাদণ্ডের বিধান। এক্ষেত্রে সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কঠোর আইন থাকলেও, এবার দক্ষিণ-এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় পাস হলো এ সংক্রান্ত ফৌজদারি আইন।

নতুন এ আইনে, বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে জড়ালে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। শুধু ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক নয়; আইনটি বিদেশিদের জন্যও একইভাবে প্রযোজ্য হবে।

তবে কোনো পক্ষ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানালে কিংবা বিবাহিত কোনো ব্যক্তি যদি বিয়ের বাইরেও যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয় এবং সেক্ষেত্রে ভুক্তভোগী স্বামী বা স্ত্রী যদি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান; কেবল সেক্ষেত্রেই এ বিষয়ে শাস্তি কার্যকর করা হবে।

এছাড়া অবিবাহিত কোনো নারী বা পুরুষের বাবা-মা যদি তাদের সন্তানের বিরুদ্ধে বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ করেন, তাহলে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে।

এ আইনে প্রেসিডেন্টকে অপমান করা ও প্যানকাসিলা নামে পরিচিত জাতীয় আদর্শের বিপরীত মতামত প্রকাশের জন্যও শাস্তির বিধান করা হয়েছে।

আইনটি তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতা বামবাং উরুয়ান্তো জানান, নতুন এ আইন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক ছাড়াও ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়া বিদেশিদের জন্যও প্রযোজ্য হবে।

‘তবে কর্তৃপক্ষ স্বপ্রণোদিত হয়ে বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া কাউকে এ আইনের আওতায় শাস্তি দিবে না। কেবল অভিযুক্তদের নিকটাত্মীয়রা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ দিলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কারও স্বামী বা স্ত্রী যদি অন্য কোনো নারী-পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়ান, তাহলে শুধু ভুক্তভোগী সেই স্বামী বা স্ত্রীই পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতে পারবেন। অন্যদিকে, অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে প্রধান সাক্ষী হিসেবে অভিযোগ দিতে পারবেন তাদের মা-বাবা।

ইন্দোনেশিয়ায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে তৈরি এ আইন সংসদে প্রথম উত্থাপন করা হয় ২০১৯ সালে। সে বছর অনেকেই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেছিলেন। বিশেষ করে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে দেশটির রাজধানী জাকার্তা একপ্রকার অচল হয়ে গিয়েছিল।

সেসময়ের খসড়া ওই আইনে শুধু বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা উল্লেখ ছিল না। জাতীয় পতাকা ও প্রেসিডেন্টকে অবমানার শাস্তির পাশাপাশি গর্ভপাতের জন্য চার বছরের কারাদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছিল, যদিও এখন তা পাঁচ বছরের করা হয়েছে।

দেশটির আচেহ প্রদেশে আগে থেকেই এসব বিধান ছিল। সেখানে নারী-পুরুষের মেলামেশা, যৌন সম্পর্ক ও মদ্যপান জনসম্মুখে করলে বেত্রাঘাত করা হয়।

দেশটির অনেকে আইনটিকে ইতিবাচক হিসেবে নিলেও, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো এটি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এধরনের আইন পাস হলে সারাবিশ্ব ইন্দোনেশিয়াকে অন্য চোখে দেখবে। যা পর্যটনখাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত