খালি হাতে কুমির ধরেন, আবার র‌্যাম্পেও হাঁটেন

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:১১ পিএম

'যে রাঁধে, সে চুল-ও বাঁধে', জনপ্রিয় প্রবাদের জলজ্যান্ত নিদর্শন রোজি মুর। তিনি একাধারে ভূবিজ্ঞানী, মডেল এবং বন্যপ্রাণ বিশ্লেষক। ফ্লোরিডার বাসিন্দা রোজি একটি পাবলিক সেক্টরে জলসম্পদ ব্যবস্থাপক হিসাবে কাজ করেন। গবেষণার অঙ্গ হিসাবে বন্যপ্রাণ, বিশেষত সরীসৃপ এবং জলজ প্রাণীদের নিয়ে তাকে কাজ করতে হয়।

সম্প্রতি আলোচনায় আসা এই প্রতিভাবান নারীর সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয় নিউ ইয়র্ক পোস্ট, ইনসাইডার এবং ডেইলি স্টারে। সাক্ষাৎকারে রোজি জানান, তিনি বিশাল বিশাল অজগর থেকে শুরু করে হিংস্র কুমিরও ধরতে পারেন। কুমির ধরার জন্য কোনো বিশেষ নিরাপত্তার প্রয়োজনও হয় না। খালি হাতেই কুমির ধরেন রোজি! এ ছাড়া, 'শার্ক ডাইভিং'-ও করে থাকেন। কাজের সূত্রে তাকে গভীর সমুদ্রে নামতে হয়। সমুদ্রের হাঙরভর্তি এলাকায় তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন কোনোকিছু না ভেবেই।

কখনও কখনও বন্য সরীসৃপের খোঁজে গভীর জঙ্গলের মধ্যে চলে যান। জল-কাদা মেখে ধরে ফেলেন আস্ত কুমির। খালি হাতেই অনায়াসে কুমির ধরে তার মুখ বেঁধে ফেলেন তিনি। তবে জলে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানো এই তরুণীর এক অন্য রূপ রয়েছে। সাপ আর কুমির ধরার পাশাপাশি রোজি মডেলিংও করেন। নকশা করা পোশাক পরে, সেজেগুজে র‌্যাম্পে হাঁটেন।

রোজি জানান, শার্ক ডাইভিং বা কুমির ধরার সময় ছবি তুলতে তুলতে মডেলিংয়ে তার আগ্রহ তৈরি হয়। সেই সূত্রেই নানা চিত্রগ্রাহকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে মডেলিংয়ের দুনিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এই তরুণ বিজ্ঞানী। বর্তমানে আমেরিকার একাধিক পোশাক এবং পানীয় তৈরির সংস্থার সঙ্গে মডেল হিসাবে চুক্তি রয়েছে তার। এসব কাজে তার পেশাদারিত্বের ছাপ স্পষ্ট।

মিসৌরির বাসিন্দা রোজি। ২০ বছর বয়সে তিনি ফ্লোরিডায় চলে আসেন। ছোটবেলা থেকেই বন্যপ্রাণের প্রতি তার ঝোঁক ছিল। হাঙর দেখতে খুব ভালোবাসতেন। ফ্লোরিডায় এসে ফ্লোরিডা আটলান্টিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করেন। এর পর পড়েন ভূবিজ্ঞান। এই সূত্রেই জলসম্পদ, জলজ প্রাণীদের নিয়ে কাজ করতে হয়েছে রোজিকে। ধীরে ধীরে সরীসৃপরাই তার প্রিয় হয়ে ওঠে।

রোজ়ি বলেন, জীবনের অনিশ্চয়তা তাঁর সবচেয়ে প্রিয়। এমন জীবনই তিনি চেয়েছিলেন, যেখানে সকালবেলা উঠে সারা দিন কী হবে, তা আগে থেকে ভেবে নেওয়া যাবে না। নিজের জন্য তেমন অনিশ্চয়তায় মোড়া জীবন বেছে নিয়েছেন রোজ়ি।

একদিকে মডেলিং, অন্যদিকে বিজ্ঞান- দুই সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘরানার কাজ এক সঙ্গে কিভাবে সামলান? রোজি জানান, দুটি কাজই তার ভালো লাগে। তবে বিজ্ঞানেই তিনি বেশি স্বচ্ছন্দ। তবে জঙ্গলে রোজি যে ধরনের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন, সেই অভিজ্ঞতা থেকে সাধারণভাবে মেয়েরা বঞ্চিত থাকেন। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, কর্মক্ষেত্রে পুরুষের আধিক্য তার বড্ড চোখে লাগে। তিনি চান, মেয়েরাও এই পেশায় আসুক। রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতায় জীবন উপভোগ করুক।

টেলিভিশনে সাপ বা সরীসৃপ ধরার মতো দুঃসাহসিক কাজে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ছেলেদের দেখা যায়। সেখানে তার মতো মেয়েদের আরও বেশি করে দেখতে চান রোজি।

সোশাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয় রোজি। মডেলিংয়ের অজস্র ছবি তিনি সেখানে পোস্ট করেন। অনুরাগীর সংখ্যাও কম নয়। তবে মডেলিংয়ের ঝলমলে ছবির ছায়ায় যাতে তার জঙ্গল আর জলের অভিজ্ঞতা ঢাকা পড়ে না যায়, সে দিকেও নজর রাখেন। সাপ, সরীসৃপদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা নেটে পোস্ট করে নারী হিসাবে এই পেশাকে প্রচারের আলোয় আনার চেষ্টা করেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত