গণপরিবহন বন্ধ না হলেও শঙ্কায় বাসমালিকরা

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:০৪ এএম

বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১০ ডিসেম্বর রাজধানীতে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ করার কথা রয়েছে দলটির। এর আগেই গত বুধবার এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এর প্রভাবে আরও সংঘর্ষের শঙ্কায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা কম দেখা গেছে। অন্যান্য কর্মদিবসের তুলনায় রাস্তায় যাত্রীর সংখ্যাও ছিল কম। এদিকে পল্টনের আশপাশে কিছু রাস্তা বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন ওই এলাকায় যাতায়াত করা যাত্রীরা।

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর সদরঘাট, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী, মৌচাকসহ বেশ কয়েকটি এলাকার চিরচেনা ব্যস্ত রাস্তায় বাসের সংখ্যা অন্যান্য দিনের থেকে অনেক কম। সাধারণত বাস কম থাকলে বাসস্টপগুলোতে যাত্রীদের যে ভিড় দেখা যায়, তাও দেখা যায়নি।

পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১০ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে বুধবারের সংঘর্ষের পর কিছু মালিক বৃহস্পতিবার রাস্তায় গাড়ি বের করেননি। নাশকতার শঙ্কায় গণপরিবহন আগের দিন থেকেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই। তবে মালিক সমিতি থেকে ১০ তারিখে বাস চলাচল করার কথা জানানো হয়েছে। গতকাল বাসমালিক সমিতির প্রধান কার্যালয়ে হওয়া সভায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ জানান, ‘১০ ডিসেম্বর ঢাকা শহর, শহরতলি এবং আন্তঃজেলা রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। একই সঙ্গে যানবাহন যেন কোনো প্রকার অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির শিকার না হয়, সে জন্য প্রশাসনকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।’

বাসমালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যদিও আমাদের সমিতি থেকে ১০ ডিসেম্বর বাস চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া আছে। কিন্তু বেশিরভাগ বাসমালিক বুধবারের ঘটনায় ক্ষতির আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার বাস চলাচল বন্ধ রাখেন। আসলে বাসমালিকরা সম্ভাব্য ক্ষতির শঙ্কা থেকেই এটা করেছেন। তবে সভায় আমরা তাদের সম্ভাব্য উপায়ে বাস চালু রাখতে আশ্বস্ত করেছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসমালিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নাশকতার শঙ্কা তো আর উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পরিস্থিতি দেখেই সিদ্ধান্ত নেব সেদিন বাস নামাব কি না। আর সবাই বাস নামালে আমিও নামাব।’

তবে রাজধানীর গণপরিবহনের গতকালের চিত্র তুলে ধরে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১০ তারিখ তো পরের কথা, বৃহস্পতিবারই রাজধানীতে বাসের সংখ্যা ছিল নগণ্য। পল্টনের দিকে রাস্তা বন্ধ থাকায় অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে যাত্রীদের। আর ১০ তারিখে যদি যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে তাহলে কার্যত রাজধানী সেদিন সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু সরকারের উচিত দেশের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখার।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত