শিশুর শারীরিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে যতটা সচেতন, মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে ততই উদাসীন। অথচ শারীরিক স্বাস্থ্যের মতো মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকলে পরিষ্কার করে চিন্তা করতে পারে, সামাজিক দক্ষতাসহ অন্যান্য দক্ষতা অর্জন করতে পারে, আত্মবিশ্বাসী ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ হতে পারে।
নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিন : শিশুকে ভালোবাসা, নিরাপত্তা, স্বীকৃতি ও সমর্থন দিতে হবে। শিশু পড়াশোনাকে ভালোবাসা পাওয়ার বিনিময় হিসেবে দেখে, ফলে পড়াশোনা খারাপ হলে সে বিষণ্নতায় পড়ে ও আরও ক্ষতি হয়ে যায়। তাই শিশু ভুল করলে ভালোবাসা দেওয়া হবে নাএমন কথা বলা যাবে না। বরং শিশু ভুল করতেই পারে, ভুল সংশোধনের মাধ্যমে শিশু শিখে থাকে। তার ভুলকে সহজভাবে নিতে হবে।
আত্মবিশ্বাসী ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ করে তুলুন : শিশুর সফলতাকে প্রশংসা করুন। প্রশংসা করলে তার কাজের স্বীকৃতি ও আত্মবিশ্বাস বাড়বে। শিশুকে বাস্তবমুখী লক্ষ্য নির্ধারণ করতে শেখান। শিশু কোনো কিছু করতে ব্যর্থ হয় তবে তাকে ব্যঙ্গ না করে তার অনুভূতিকে বোঝার চেষ্টা করুন।
খেলার সুযোগ : খেলার মাধ্যমে শিশুর সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধি, সামাজিকতা, সুস্থ প্রতিযোগিতা, স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পরাজয় মেনে নেওয়ার ক্ষমতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। শিশুর খেলার জন্য খেলার সঙ্গী প্রয়োজন। সঙ্গীদের কাছ থেকে সে তার শক্তিশালী ও দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে, একাত্মতা বোধ করতে শিখে, অন্যের সঙ্গে কীভাবে চলে তা শিখতে পারে, কোন কথার অন্তর্নিহিত অর্থ কী তা বুঝতে পারে। তাই শিশুকে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলার ব্যবস্থা করে দিন।
স্কুল হোক আনন্দময় : অনেক বাবা-মা শিশুদের ভয় দেখান স্কুলে দুষ্টুমি করলে শিক্ষক বকা বা মার দেবে। এটা করা যাবে না। স্কুলের শুরুটা আনন্দময় বিশেষ করে প্রি-স্কুলে পড়াশোনার চেয়ে মজা করাটা মুখ্য হবে। শিক্ষকের কাছ থেকে উৎসাহ ও সঠিক জীবন দর্শন মানসিক স্বাস্থ্য ও চিন্তাচেতনায় উন্নত হবে।
পারিবারিক আবহ : পরিবারের মানুষদের যোগ্যতার বিচার না করে সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে সবাইকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবার হতে হবে সদস্যদের নির্ভরতা ও নিরাপত্তার আশ্রয়স্থল। যেখানে যেকোনো বিষয় আলোচনা করা যাবে। কোনো বিষয় নিয়ে বকাঝকা বা ব্যঙ্গাত্মক কথা শুনতে হলেও পরে যেন এ কথা কেউ না তোলে।
