মেধাবী নৃত্যশিল্পী ও নৃত্যপরিচালক পূজা সেনগুপ্ত। সম্প্রতি তার কোরিওগ্রাফি ‘নন্দিনী’র ৫০তম প্রদর্শনী হয়ে গেল। এতে অংশ নিয়েছেন কানাডিয়ান হাইকমিশনার ড. লিলি নিকোলস। বিরল এই অভিজ্ঞতা নিয়ে পূজার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ
নন্দিনীর ৫০...
‘নন্দিনী’ হলো আমার নাচের দল তুরঙ্গমী রেপার্টরি ড্যান্স থিয়েটারের সাড়ে চার মিনিটের একটি কোরিওগ্রাফি পিচ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাড়া জাগানো নাটক ‘রক্তকরবী’র বিখ্যাত চরিত্র নন্দিনীর ছায়া অবলম্বনে এটি আমার মৌলিক সৃষ্টি। কোরিওগ্রাফির পাশাপাশি এটিতে আমি পারফর্মও করি। তবে কাজটি খুব সহজে সকল দেশের মানুষ বুঝতে পারে। কারণ সকল জাতি, ধর্ম, বর্ণের মানুষ মাতৃভূমিকে মায়ের মতো দেখি। আর এতে মা, মাতৃভূমির আরতি করা হয়েছে। এবার বাংলাদেশস্থ কানাডিয়ান হাইকমিশনে নাচটি করেছি। সবাই খুব উপভোগ করেছে। এর আগে দেশ ছাড়াও দেশের বাইরে কাজটি আমরা পরিবেশন করে দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছি।
ছাত্রী যখন হাইকমিশনার...
আমি অনেক আগে থেকেই বিদেশের মূলধারার আয়োজনে নাচ করে আসছি। সেখানে সবাই নিজের দেশের নাচটাই করে। আমিও তাই আমার দেশের প্রকৃত নাচকে খুঁজে বের করে সেটাকে তুলে ধরে আসছি। এটা দেখে বাংলাদেশে অবস্থানরত নানা দেশের কূটনীতিকরাও অবাক হন যে, বাংলাদেশের একটি দল তাদের দেশের মূলধারায় গিয়ে এত প্রশংসা পাচ্ছে। সেভাবেই হয়তো বাংলাদেশের কানাডিয়ান হাইকমিশনার ড. লিলি নিকোলস আমার ব্যাপারে জানতে পারেন। আমার সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেন ছয় মাস আগে। এরপর থেকেই তিনি আমার কাছে বাংলাদেশের নাচ শিখছেন। শুরুতে একটু অসুবিধা হলেও দ্রুত তিনি শিখতে শুরু করেন। গত ৮ ডিসেম্বর কানাডিয়ান হাইকমিশনে আমাদের সঙ্গে তিনিও পারফর্ম করেন।
দেশি নাচ ভাইরাল...
মজার বিষয় হলো, আমাদের দেশীয় আরতি নাচকে ভিত্তি করে তৈরি এই নাচটি দেশের দর্শকও দারুণ আপন করে নিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে আমরা অনেক কিছুই ভাইরাল হতে দেখি, কিন্তু আমাদের দেশে নাচ ভাইরাল হয় না। সেখানে আমার এই সৃষ্টিশীল কাজটি ভাইরাল হয়েছেএটাও এক ধরনের প্রাপ্তি। কারণ আমরা দর্শকের জন্যই কাজ করি। যত বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছতে পারব আমাদের শিল্পচর্চা তত বেশি কার্যকর হবে। আর আমি তো অনেক বছর ধরেই দেশীয় ঐতিহ্যনির্ভর নাচ নিয়ে কাজ করছি। আরতি তেমনি একটি একটি নাচ, যেটি বহুকাল ধরে আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত। দুর্গাপূজার সময় ধনুচি নাচ অনেকেই দেখে থাকবেন, সেটিই আসলে আরতি নাচ। এই নাচ এখন ফিলিপাইনেও বেশ জনপ্রিয়। কারণ সেখানে ‘নন্দিনী’ পারিবেশন করতে গিয়েই তারা এই নাচটি পছন্দ করে। এরপর সেখানকার অনেক ছাত্রছাত্রীকে আমি নাচটি শিখিয়েছি। এভাবেই দেশের নাচ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছি। পথটি অত সহজ ছিল না। নিজেকে অনেকভাবে প্রমাণ করতে হয়েছে, বাধা পার করতে হয়েছে। তবে দর্শক সবসময় আমার সৃষ্টিশীলতাকে সাদরে গ্রহণ করেছেন। তাইতো নিজের মতো করে কাজগুলো করে যেতে পারছি।
