ফেনীতে প্রতারণার মাধ্যমে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মো. আবু তাহেরের কাছে টাকা ফেরত চাওয়ায় ওই ব্যবসায়ীকে মামলা দিয়ে হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নুরুল আফছার ভূঁইয়া সোমবার (১২ ডিসেম্বর) ফেনী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সূত্র জানায়, ফেনী শহরের বিরিঞ্চি এলাকার মকবুল আহমদের ছেলে নুরুল আফছার ভূঁইয়ার জেনারেল কন্সট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বিল্ডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার ব্যবসায়িক অংশীদার চাচাতো ভাই মো. আবু তাহের। আবু তাহের ব্যবসার জন্য উত্তরা ব্যাংক বিরিঞ্চি শাখা থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ নেয়। তিনি ব্যাংক ঋণের সুদের টাকা পরিশোধের জন্য ২০১০ সালের মে মাসে ৫৮ হাজার ৩০০ টাকা নেন।
এর পর থেকে ২০১৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত আবু তাহের ২ কোটি ২৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়া তাহের প্রতিষ্ঠান থেকে লভ্যাংশ বাবদ ৪৫ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, সম্মানি বাবদ ১৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, ব্যাংকের সুদ বাবদ ৮১ লাখ ৮২ হাজার ৯১০ টাকা নেন। ২০১০ সাল থেকে ২০১৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত মোট লভ্যাংশ নিয়েছেন ৪৫ লাখ ৯৭ হাজার ৩৬৬ টাকা। প্রতারণা করে এভাবে টাকা নিয়েও তাহের ক্ষান্ত হননি। তিনি আফছারের কাছে ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা ব্যাংকের সুদ বাবদ দাবি করেন। যে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন।
আবু তাহের ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা পাওনা দাবি করে ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। এদিকে নুরুল আফছার ২০২১ সালের ৩ মার্চ তাহেরের কাছে ৪৫ লাখ টাকা দাবি করে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।
আদালত মামলা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য প্যানেল মেয়র জয়নাল আবদিন লিটনকে দায়িত্ব দেন। তারা একাধিকবার বৈঠক করেও কোনো সমাধান করতে পারেননি। পরে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলা তদন্তের নির্দেশ দেন।
এছাড়া আবু তাহের জিএম হাটে সুপার ব্রিক ফিল্ড করার নামে ছাগলনাইয়া পশ্চিম শিমুলিয়া গ্রামের সিকান্দার পাটোয়ারীর ছেলে মো. রফিক, ফেনী পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের সুলতান আহমদ চৌধুরীর ছেলে এয়ার আহমদ চৌধুরী, দাগনভূঁইয়া লাল মিয়ার ছেলে দীন মোহাম্মদের কাছ থেকে ২৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। তাদের টাকা এখনো পরিশোধ করেননি। টাকা চাইলে তাদের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
৫ নং ওয়ার্ড তাঁতী লীগ সভাপতি আবুল আলম জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে। বৈঠকে তাহের টাকা পাওয়ার প্রমাণ দেখাতে পারেননি। মিথ্যা মামলা দিয়ে নুরুল আফছারকে হয়রানি করছেন।
এবিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. শাহ আলম জানান, আবু তাহের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান চাচ্ছেন না। তিনি টাকা পাওয়ার কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এ ব্যাপারে আবু তাহেরের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
