পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী ভাড়ানী খালের ওপর ভেঙে পড়া লোহার সেতুটি এক বছরেও সংস্কার করা হয়নি। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেড় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী এবং কয়েক হাজার এলাকাবাসী। গত বছর একটি মালবাহী কার্গোর ধাক্কায় সেতুটির মাঝামাঝি ভেঙে খালের মধ্যে পড়ে যায়। এরপর থেকেই দু’পাড়ের বাসিন্দা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী-হাটুরেদের সহজ ও দ্রুত পারাপার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বর্তমানে তাদের প্রায় ৩ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এ ভোগান্তি এড়াতে দ্রুত লোহার সেতুটি সংস্কার কিংবা পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের গোড়ার দিকে একটি মালবাহী কার্গোর সঙ্গে ধাক্কা লেগে লেবুখালী বাজার সংলগ্ন ভাড়ানী খালের ওপর পুরাতন লোহার সেতুটির মাঝামাঝি দুমড়ে-মুচড়ে পানিতে ভেঙে পড়ে। তাৎক্ষণিক এলাকাবাসী ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় কার্গোটি আটকে সেতু মেরামতের জন্য কিছু ক্ষতিপূরণ আদায় করা হলেও সংস্কার করা হয়নি। ফলে পূর্বপাড়ে লেবুখালী সরকারি হাবিবুল্লাহ সরকারি মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি দাখিল ও একটি নূরানী মাদ্রাসার প্রায় দেশ হাজার শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী এবং অপর পাড়ের ঐতিহ্যবাহী বাজারের ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে তিন কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প রাস্তায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। কোনো কোনো শিক্ষার্থী সময় বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকাতেও পারাপার হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী সিরাজ উদ্দিন শরীফ অভিযোগ করে বলেন, ‘জনগুরুত্বপূর্ণ সেতুটি ভেঙে মানুষের চলাচল বন্ধ থাকলেও তা কেউ দেখছে না। বারবার আবেদন নিবেদন করলেও উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের টনক নড়ছে না।’
জাকির হোসেন মোল্লা নামে আরেক বাসিন্দা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘এ সেতুটি এখন কয়েকজন লোকের আয়ের খাত হয়েছে। কার্গো, ট্রলারের ধাক্কায় ক্ষতিপূরণ আদায় এবং মেরামতের প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দ এনে পকেট ভরছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সালাম বলেন, ‘লোহার সেতুটি ভাঙে তদস্থলে নতুন একটি ঢালাই সেতু নির্মাণের কথা শুনছি। তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে তা বলতে পারছি না।’
লেবুখালী সরকারি হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিক্ষক আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের নিষেধ সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সময় বাঁচানোর জন্য খেয়া নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সাময়িকভাবে সেতুটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার পাশাপাশি নতুন আরেকটি সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।’ দুমকির দায়িত্বরত উপজেলা প্রকৌশলী দিপুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘সেতুটির ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় স্কিম পাঠানো হয়েছে।’
