স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, উন্নত জীবনযাপনের জন্য পরিকল্পিত নগরায়ণ প্রয়োজন। নিরাপদ ও মানসম্পন্ন আবাসন ব্যবস্থা আধুনিক জীবনযাত্রার অন্যতম উপাদান। তিনি বলেন, বাসযোগ্য ও নান্দনিক ঢাকা তৈরিতে ড্যাপ নিয়ামক ভূমিকা পালন করবে।
গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) আয়োজিত মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
পাঁচ দিনব্যাপী মেলা চলবে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
মন্ত্রী বলেন, আবাসন এক ধরনের হিউম্যান রাইটস। একই সঙ্গে শপিং মল, স্কুল, হাসপাতাল, মসজিদ, রাস্তা সবই দরকার। আবাসিক এলাকার কাছাকাছি সবকিছু থাকলে যানবাহনের ব্যবহার কমবে। আমাদের পরিবেশদূষণের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। সব মিলিয়ে আমাদের চিন্তা করতে হবে।
তিনি বলেন, আবাসন খাতসহ সব খাতের সমন্বয়ে আমাদের উন্নয়ন হচ্ছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলসহ মেগা প্রকল্পের সুবিধা জনসাধারণ পেতে শুরু করেছে। ২০৪১ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নত-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় পরিণত হবে।
তাজুল ইসলাম বলেন, ড্যাপ (ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান)-এর মাধ্যমে আবাসন খাতকে সহায়তা করার ব্যবস্থা করতে হবে। ড্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে ঢাকাকে বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য। বাসযোগ্য ও নান্দনিক ঢাকা তৈরিতে ড্যাপ মাইলফলক ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামিন (কাজল)। রিহ্যাব সদস্য এবং ক্রেতাদের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করতে এ মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি। রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভালো জায়গায় সুন্দর একটি ফ্ল্যাট নিয়ে থাকার আগ্রহ বাড়ছে। আমরা নাগরিকদের স্বপ্নপূরণে কাজ করে যাচ্ছি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিটি নির্মাণসামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং নতুন ড্যাপ-এ ফার হ্রাসের কারণে আমরা আবাসন সেক্টর নিয়ে বড় ধরনের সংকটে রয়েছি। নতুন ড্যাপের ঘোষিত ফ্লোর এরিয়া রেশিও (ফার) হ্রাসের কারণে মূল ঢাকায় বেশিরভাগ ভবন হবে চার থেকে পাঁচতলা। ফলে আগামীতে আবাসন সংকট আরও প্রকট হবে। কারণ ফ্ল্যাটের চাহিদা এবং জোগানের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হবে। নতুন ড্যাপের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর গত প্রায় চার মাসে আমাদের রিহ্যাব সদস্যরা জমির মালিকের সঙ্গে কোনো চুক্তি বা সমঝোতায় যেতে পারেনি। কেউ নতুন করে প্ল্যান পাস করেনি। পুরাতন প্রকল্পগুলো নিয়েই অনেকে কাজ করছেন। ফলে আগামীতে ফ্ল্যাটের সংকট তৈরি হবে এবং দাম বাড়বে।
রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইন্তেখাবুল হামিদ আবাসন খাতের বিভিন্ন অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, পরিকল্পিত ও আধুনিক বাসস্থান তৈরিতে গৃহঋণের অবদান অনস্বীকার্য। বর্তমান প্রেক্ষাপটে একজন নাগরিকের পক্ষে হাউজিং লোন ছাড়া ফ্ল্যাট বা প্লট কেনা প্রায় অসম্ভব। ক্রেতারা যাতে খুব সহজে এ ঋণ পেতে পারে সেই ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রথম) কামাল মাহমুদ বলেন, এই মুহূর্তে যা আমাদের জন্য বড় সংকট তৈরি করেছে তা হলো নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি। ড্যাপ-এ ফার হ্রাস করাও আরেকটি কারণ। জিডিপিতে ১৫ শতাংশ অবদান রাখা আবাসনশিল্প আজ হুমকির মুখে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) ও ফেয়ার স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ সোহেল রানা। অনুষ্ঠানে রাজউক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিয়া এবং রিহ্যাব ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল কৈয়ূম চৌধুরীসহ রিহ্যাব পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ক্রেতা-দর্শনার্থীরা মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। মেলায় দুই ধরনের টিকিট থাকছে। একটি সিঙ্গেল এন্ট্রি, অন্যটি মাল্টিপল এন্ট্রি। সিঙ্গেল টিকিটের প্রবেশ মূল্য ৫০ আর মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিট ১০০ টাকা। মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিট দিয়ে একজন দর্শনার্থী মেলার সময় পাঁচবার প্রবেশ করতে পারবেন। এন্ট্রি টিকিটের সম্পূর্ণ অর্থ দুস্থদের সাহায্যার্থে ব্যয় করা হবে। এ বছর প্রতিদিন র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হবে।
