সিংগাইরের ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ

গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরিচয়ে কোটি টাকা আত্মসাৎ

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:১৪ এএম

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ‘গোয়েন্দা কর্মকর্তা’ এবং ‘পুলিশের ডিআইজির ভগ্নিপতির নিকটাত্মীয়’সহ বিভিন্ন পরিচয়ে লোকজনের কাছ থেকে নানাভাবে প্রতারণা করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ইমরান হোসেন সিংগাইরের সায়েস্তা ইউনিয়নের মোসলেমাবাদ গ্রামের মো. সহিদের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতারণার শিকার একজন লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে।

লিখিত অভিযোগমতে, ইমরান নিজেকে গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি নিজেকে বিভিন্ন সময় পুলিশের ডিআইজির ভগ্নিপতির নিকটাত্মীয় পরিচয়ও দিয়ে থাকেন। ইমরান সমবায় সমিতির নামে মানুষের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া ও সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে লোকজনের কাছ থেকে অন্তত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া অভিযোগটির তদন্তে নেমেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

ভুক্তভোগী রাশেদুল ইসলাম খোকন বলেন, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জব করি। শিক্ষক পদে সরকারি চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে ইমরান ও তার ছোট ভাই সজিব এবং চাচা কহিনূর ইসলাম মিলে আমার কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা নিয়েছেন। পরে চাকরি আর হয়নি। এখন টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে দীর্ঘদিন যাবৎ ঘোরাচ্ছেন।

রাশেদুল আরও বলেন, ইমরান চাকরিপ্রত্যাশী সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে তিন লাখ, মোখলেছুর রহমানের দুই লাখ, জসিম উদ্দিনের তিন লাখ, মাসুদ রানার তিন লাখ, নাজমুলের আড়াই লাখ, সোহেলের তিন লাখ ও মিষ্টারের কাছ থেকে পাঁচ লাখসহ বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে অন্তত কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

অপর ভুক্তভোগী মাসুদ রানার স্ত্রী রোজিনা আক্তার বলেন, ইমরান আমার স্বামীকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে নিয়োগ পরীক্ষার এক মাস আগে তিন লাখ টাকা নিয়েছে। চাকরি তো দূরের কথা টাকাগুলোও ফেরত দিচ্ছে না। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করলে ইমরানের আরও এমন একাধিক প্রতারণার কাহিনী বেরিয়ে আসবে।

অভিযুক্ত ইমরানের চাচাত ভাই আবদুল মালেক বলেন, পুলিশের ডিআইজি ও তার ভগ্নিপতির সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে ইমরান এলাকার কাউকে কিছু মনেই করে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার জানামতে ৬-৭ জনের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছে। সায়েস্তা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আজিজুল বলেন, আসছে জানুয়ারিতে ভুক্তভোগীদের অভিভাবকদের সঙ্গে বসে ওই টাকাগুলো হ্যান্ডওভারে মধ্যস্থতা করছি।

অভিযুক্ত ইমরান হোসেন কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, রিপোর্ট করেন, তাতে সমস্যা নেই।

মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সহকারী উপ-পরিদর্শক কুদ্দুস আলী বলেন, সমবায় সমিতি এবং চাকরি দেওয়ার নামে ইমরানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়ে মোসলেমাবাদ গ্রামে গিয়েছিলাম। দু’পক্ষকে নোটিস দিয়ে আগামী ১৩ জানুয়ারি অফিসে আসতে বলা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত